Category: SHORT STORY

আমাদের মাঝে নতুন কেউ- সুপ্রিয় রায়

বিয়ের পর প্রথম তিন বছর সার্থক  আর সাথীর জীবনটা ছিল বেশ ছন্দময়।হঠাৎ সিনেমা দেখতে যাওয়া, রাত করে গল্প করা, উইকেন্ডে বাইরে খেতে যাওয়া— সবকিছুতেই যেন একটা নির্ভেজাল আনন্দ ছিল। তারপর তাদের জীবনে এল ছোট্ট সহেলি  । ঘর ভরে গেল নতুন গন্ধে— বেবি পাউডার, ছোট ছোট জামাকাপড়, দুধের বোতল, আর রাত জাগার ক্লান্তি। প্রথম কয়েকদিন সবকিছুই … Continue reading আমাদের মাঝে নতুন কেউ- সুপ্রিয় রায় →

স্বামী নামের স্যান্ডউইচ – সুপ্রিয় রায়

বিয়ের পর সার্থক বুঝতে পারল, সে আর সাধারণ মানুষ নেই। সে এখন “দুই দিক সামলানোর বিশেষজ্ঞ”। একদিকে মা, অন্যদিকে নতুন বৌ সাথী ।আর মাঝখানে সে— একটা নিরীহ স্যান্ডউইচ! প্রথম কয়েকদিন সব ঠিকই চলছিল।তারপর একদিন সকালবেলা ঘটনাটা ঘটল। মা বললেন—— “খোকা  , তোর বৌকে বল, সকালে একটু তাড়াতাড়ি উঠতে। সংসার করতে হলে অভ্যাস করতে হবে।” সার্থক … Continue reading স্বামী নামের স্যান্ডউইচ – সুপ্রিয় রায় →

একটু বোঝাপড়া আর একটু ভালোবাসা- সুপ্রিয় রায়

সাথী জানলার ধারে বসে ছিল। বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে, কিন্তু তার মনটা যেন আরও বেশি ভারী। আজ সকাল থেকেই ওর মন খারাপ। কারণটা খুব বড় কিছু নয়— সকালে সার্থক অফিসে যাওয়ার আগে শুধু বলেছিল,— “আজ একটু দেরি হবে ফিরতে, খাবার জন্য অপেক্ষা কোরো না।” কথাটা শুনতে সাধারণ, কিন্তু সাথীর কেমন যেন লেগেছিল। কয়েকদিন ধরেই সার্থক … Continue reading একটু বোঝাপড়া আর একটু ভালোবাসা- সুপ্রিয় রায় →

আদালতে এক ছোট্ট শিশুর নিঃশব্দ কান্না  – সুপ্রিয় রায়

আদালতে এক ছোট্ট শিশুর নিঃশব্দ কান্না  – সুপ্রিয় রায়

স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্সের মামলা আদালতে উঠেছে। বিচারকের ঘরে দুই পরিবারের সদস্যরা বসে আছে। স্বামী, স্ত্রী, তাঁদের আট বছরের ছেলে, ঠাকুরদা, ঠাকুমা—সবার মুখেই উদ্বেগের ছাপ। অনেকক্ষণ ধরে দুই পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ শোনার পর বিচারক রায় দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—ছেলেটি কার কাছে থাকবে? ঠিক সেই সময় ছেলেটির ঠাকুরদা বিচারকের কাছে কিছু … Continue reading আদালতে এক ছোট্ট শিশুর নিঃশব্দ কান্না  – সুপ্রিয় রায় →

বোঝাপড়ার সংসার – সুপ্রিয় রায়

ছোট্ট এক শহরে থাকত সার্থক  আর সাথী । প্রেম করে নয়, পরিবারের পছন্দে তাদের বিয়ে হয়েছিল। প্রথমদিকে দু’জনেই ভেবেছিল— “এই মানুষটাকে কি সত্যিই আমি বুঝতে পারব?” সার্থক ছিল একটু চুপচাপ, দায়িত্ববান, সংসারের হিসেব-নিকেশে খুব মনোযোগী। আর সাথী ছিল প্রাণবন্ত, আবেগপ্রবণ, ছোট ছোট জিনিসে আনন্দ খুঁজে নিতে ভালোবাসত। দু’জনের স্বভাব আলাদা হলেও, এক অদ্ভুত টান ধীরে … Continue reading বোঝাপড়ার সংসার – সুপ্রিয় রায় →

হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি – সুপ্রিয় রায়

সকালের চা খেতে খেতে সার্থকের মুখে আজ এক রহস্যময় হাসি। সাথী সন্দেহের চোখে তাকালো । — কী ব্যাপার? লটারি পেয়েছ নাকি? — তার থেকেও বড় খবর! — কী? সার্থক মোবাইলটা সামনে ধরলো । — দেখো, হোয়াটসঅ্যাপে এসেছে—প্রতিদিন সকালে চারটে কাঁচা লঙ্কা খেলে নাকি একশো বছর পর্যন্ত বাঁচা যায়! সাথী চায়ের কাপ নামিয়ে বললো ,— কে … Continue reading হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি – সুপ্রিয় রায় →

শেষ বয়সের সঙ্গী – সুপ্রিয় রায়

বিকেলের নরম রোদটা তখন সবেমাত্র বারান্দার মেঝেতে এসে লেপ্টে বসেছে।পুরোনো বাড়ির বারান্দা—দেয়ালে খানিকটা চুন খসে পড়েছে, কোণায় রাখা মানিপ্ল্যান্টের টব, আর মাঝখানে পাশাপাশি রাখা দুটো কাঠের চেয়ার। সার্থক আর সাথী সেখানে পাশাপাশি বসে আছে।সামনে ধোঁয়া ওঠা দু’কাপ দার্জিলিং চা, মাঝখানে একটা টিনের বিস্কুটের কৌটো। আজ তাদের বিয়ের বয়স প্রায় চল্লিশ বছর। একসময় এই সংসারটা ছিল … Continue reading শেষ বয়সের সঙ্গী – সুপ্রিয় রায় →

অবসরের নতুন সকাল- সুপ্রিয় রায়

সার্থক আজ অফিসে তার কর্মজীবনের শেষ দিন কাটিয়ে বাড়ি ফিরলো ।চল্লিশ বছরের চাকরি জীবনের পর অবসর।অফিস থেকে ফেরার সময় সহকর্মীরা ফুল, শুভেচ্ছা আর স্মৃতিচিহ্ন দিয়ে বিদায় জানিয়েছে।সবাই বলেছে,— “এবার আরাম করুন, নিজের জন্য সময় দিন।” কিন্তু বাড়ি ফিরে সার্থকের কেমন যেন শূন্য লাগছিল।সারাদিন কিভাবে সময় কাটাবে এটাই ছিল সার্থকের একমাত্র চিন্তা । এতদিন সকাল মানেই … Continue reading অবসরের নতুন সকাল- সুপ্রিয় রায় →

পজিটিভ স্ত্রী ও নেগেটিভ স্বামী – সুপ্রিয় রায়

সার্থক আর সাথীর বিয়ে হয়েছে তা প্রায় দশ বছর হতে চললো । এই দশ বছরে তারা একটি বিষয় খুব ভালোভাবে বুঝে গেছে — একই ঘটনাকে দু'জন মানুষ  সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখতে পারে। সাথী সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করে। কোনো সমস্যাই তাঁকে সহজে বিচলিত করতে পারে না। অন্যদিকে সার্থক জন্মগতভাবেই যেন একটু নেগেটিভ। ভালো কিছু ঘটলেও তার মধ্যে … Continue reading পজিটিভ স্ত্রী ও নেগেটিভ স্বামী – সুপ্রিয় রায় →