স্বামী নামের স্যান্ডউইচ – সুপ্রিয় রায়

বিয়ের পর সার্থক বুঝতে পারল, সে আর সাধারণ মানুষ নেই। সে এখন “দুই দিক সামলানোর বিশেষজ্ঞ”।

একদিকে মা, অন্যদিকে নতুন বৌ সাথী ।আর মাঝখানে সে— একটা নিরীহ স্যান্ডউইচ!

প্রথম কয়েকদিন সব ঠিকই চলছিল।তারপর একদিন সকালবেলা ঘটনাটা ঘটল।

মা বললেন—— “খোকা  , তোর বৌকে বল, সকালে একটু তাড়াতাড়ি উঠতে। সংসার করতে হলে অভ্যাস করতে হবে।”

সার্থক মাথা নেড়ে ঘরে ঢুকল। দেখল সাথী তখনও আধঘুমে।

সার্থক  খুব সাবধানে বলল—— “শোনো… মা বলছিল… মানে… একটু তাড়াতাড়ি উঠলে ভালো হয়…”

সাথী সঙ্গে সঙ্গে উঠে বসল—— “ওহ! তাহলে তোমার মনে হয় আমি দেরি করে উঠি?”

সার্থক  ঘেমে গেল।— “না না! আমি সেটা বলিনি!”

— “তাহলে?”

— “মানে… তুমি তো ভালোই… কিন্তু মা ভাবছিল…”

— “ওহ, তাহলে এখন মা-ই সব ভাববে?”

সার্থক মনে মনে ভাবল—“হে ভগবান, আমি কি ভুল করে আদালতে ঢুকে পড়েছি?”

সেদিন অফিসে গিয়েও সে শান্তি পেল না।

মায়ের ফোন— “খোকা , বৌমাকে বল রান্নায় নুন একটু কম দিতে।”

পাঁচ মিনিট পরে সাথীর  ফোন—
— “তোমার মা কি আমাকে রান্না শেখাতে চাইছেন?”

সার্থক তখন অফিসের ক্যান্টিনে বসে ঠান্ডা জল খেতে খেতে ভাবছে—“আমি চাকরি করি, নাকি পারিবারিক শান্তি মন্ত্রকে কাজ করি?”

একদিন তো অবস্থা আরও খারাপ হলো।

মা বললেন— “আজ আমি সিরিয়াল দেখব।”

ঠিক তখনই সাথী বলল— “আজ আমার প্রিয় সিনেমা আসবে।”

রিমোটটা তখন সার্থকের হাতে।সে বুঝল, আজ তার ভবিষ্যৎ এই রিমোটের বোতামের ওপর নির্ভর করছে।

একবার মায়ের দিকে তাকাল।একবার বৌয়ের দিকে।

তারপর আস্তে করে টিভি বন্ধ করে বলল—— “চলো সবাই মিলে গল্প করি!”

মা আর বৌ একসঙ্গে বললেন—— “তুমি চুপ করো!”

সার্থক সেদিন বুঝল, জাতিসংঘের শান্তি বৈঠক সামলানোও হয়তো এর চেয়ে সহজ।

তবে সবচেয়ে মজার ঘটনা ঘটল এক রবিবারে।

মা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে বললেন— “আমার ছেলে ছোটবেলা থেকে লাউয়ের তরকারি খুব ভালোবাসে।”

সাথী সঙ্গে সঙ্গে বলল— “কিন্তু ও তো আমাকে বলেছে ও লাউ একদম পছন্দ করে না!”

দুজনেই এবার সার্থকের দিকে তাকালেন। সার্থক তখন মনে মনে নিজের শ্রাদ্ধের আয়োজন করছে।

সে কাঁপা গলায় বলল— “আমি… মানে… ছোটবেলায় ভালোবাসতাম… এখন ভালোবাসি না… আবার মাঝে মাঝে ভালোবাসি…”

মা বললেন— “মানে?”

সাথী বলল— “সত্যিটা বলো!”

সার্থক  দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল— “আমি আসলে লাউ না… শান্তি ভালোবাসি!”

দুজনেই হেসে ফেললেন।

সেদিন রাতে সার্থক  ডায়েরিতে লিখল—“বিয়ের পর স্বামীরা আসলে মানুষ থাকে না। তারা হয়ে যায় Wi-Fi রাউটার।একদিকে মা connect হতে চান,অন্যদিকে বৌ।

আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে সে শুধু pray করে—
‘হে ভগবান, আজ যেন network problem না হয়!’”

Leave a comment