Category: SHORT STORY

ভাল কনটেন্টের খোঁজে- সুপ্রিয় রায়

অবসর নেওয়ার পর সার্থকবাবু আর তাঁর স্ত্রী সাথীদেবী ঠিক করলেন, "এবার জীবনটা একটু অন্যভাবে উপভোগ করা যাক।" সার্থকবাবু বললেন,— সারাজীবন চাকরি করলাম। এখন সময় আছে, অভিজ্ঞতা আছে। চল, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভাল ভাল কনটেন্ট বানাই। সাথীদেবীও উৎসাহিত হলেন।— হ্যাঁ, সমাজের উপকার হয় এমন কিছু পোস্ট করব। মানুষকে সচেতন করব। দু'জনে মিলে ইউ টিউবে একটি চ্যানেল … Continue reading ভাল কনটেন্টের খোঁজে- সুপ্রিয় রায় →

আমরা দুজন আর আমাদের বদ অভ্যাস- সুপ্রিয় রায়

রবিবার সকাল। সাথী চা বানিয়ে স্বামী সার্থকের সামনে রাখল। সার্থক খবরের কাগজ পড়তে পড়তে দাঁত দিয়ে নখ কাটছে। দাঁত দিয়ে এমন মনোযোগ দিয়ে নখ কাটছে যেন বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলছে। সাথী বিরক্ত হয়ে বলল,— "তুমি কি মানুষ, না সুইস আর্মি নাইফ? সব কাজ দাঁত দিয়েই করবে নাকি?" সার্থক হেসে বলল,— "এতে আবার কী হয়েছে?" সাথী বলল,— … Continue reading আমরা দুজন আর আমাদের বদ অভ্যাস- সুপ্রিয় রায় →

একটি ছোট্ট শিশুর চিৎকার… আর আমাদের বদলে যাওয়া মন – সুপ্রিয় রায়

গত শনিবারের কথা। শিলিগুড়ি থেকে কলকাতা আসার জন্য আমরা দু’জনে উঠেছিলাম বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে। সময় তখন দুপুর তিনটে। এনজেপি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বেশ গরম লাগছিল । তাই ট্রেন ছাড়ার প্রায় আধ ঘণ্টা আগে দরজা খুলতেই আর দেরি না করে তাড়াতাড়ি উঠে পড়লাম ট্রেনে। মনে হচ্ছিল, একটু ঠাণ্ডা হাওয়া আর আরামদায়ক পরিবেশে শরীরটা যেন জুড়িয়ে যায়। নির্দিষ্ট … Continue reading একটি ছোট্ট শিশুর চিৎকার… আর আমাদের বদলে যাওয়া মন – সুপ্রিয় রায় →

জয় মোবাইল মহারাজের জয় – সুপ্রিয় রায়

সার্থক আর সাথীর সংসারে আর একজন সদস্য আছে । তার জন্য আলাদা ঘর লাগে না, আলাদা খাবারও লাগে না, কিন্তু সে সংসারের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার নাম— মোবাইল মহারাজ।সকালে ঘুম থেকে উঠেই দুজনের প্রথম দর্শন হয় মোবাইল মহারাজের। তারপর একে অপরের। একদিন সাথী ইউটিউবে নতুন রেসিপি দেখতে দেখতে মাছের ঝোলের  জায়গায় ঠাণ্ডা পায়েস গরম করতে … Continue reading জয় মোবাইল মহারাজের জয় – সুপ্রিয় রায় →

অনলাইন বাজারের কাণ্ডকারখানা – সুপ্রিয় রায়

সার্থকবাবুর বয়স সত্তর পেরিয়েছে। সাথী দেবীরও ষাটের কোঠা অনেক আগেই পেরিয়েছে। কিন্তু একটা বিষয়ে দু'জনের অদ্ভুত মিল ছিল—তাঁরা বিশ্বাস করতেন, মানুষের বয়স বাড়ে, শেখার বয়স নয়। তবে কথাটা বলা যত সহজ, বাস্তবে মানা তত সহজ নয়! সকালে চা খেতে খেতে সাথী দেবী বললেন,— শোনো, আজ আর বাজারে যেতে হবে না। সবকিছু অনলাইনে অর্ডার করে দাও। … Continue reading অনলাইন বাজারের কাণ্ডকারখানা – সুপ্রিয় রায় →

ভালো লাগারও কি রকমফের আছে?- সুপ্রিয় রায়

পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকানটা শুধু চা বিক্রি করত না, মানুষের মনও বিক্রি করত—অন্তত চায়ের দোকানদার মানবের তাই মনে হতো। প্রতিদিন সকালে সেখানে বয়স্কদের আড্ডা বসত। রাজনীতি থেকে ক্রিকেট, পেঁয়াজের দাম থেকে পাড়ার খবর—কিছুই বাদ যেত না। সেদিনও আড্ডা জমে উঠেছে। হঠাৎ অরুনবাবু বললেন,— শুনেছেন? আমাদের পাড়ার পিন্টু বড় কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে সবাই প্রায় … Continue reading ভালো লাগারও কি রকমফের আছে?- সুপ্রিয় রায় →

লোহিত আর তার চার বন্ধু – সুপ্রিয় রায়

মানুষের শরীরের গভীরে আছে এক আশ্চর্য রাজ্য—লাল রাজ্য। সেখানে কোটি কোটি লাল রক্তকণিকা ছোট্ট নৌকার মতো ছুটে বেড়ায়। তাদের কাজ শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া। সেই রাজ্যেই একদিন জন্ম হলো একটি ছোট্ট লাল রক্তকণিকার। তার নাম লোহিত । লোহিত ছিল খুব কৌতূহলী। সারাদিনই সে প্রশ্ন করত। একদিন সে তার দাদুকে জিজ্ঞেস করল,—"দাদু, আমার জামায় … Continue reading লোহিত আর তার চার বন্ধু – সুপ্রিয় রায় →

একসঙ্গে বৃদ্ধ হওয়ার গল্প – সুপ্রিয় রায়

সেদিন সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল। বারান্দায় বসে সার্থকবাবু  আর সাথীদেবী  চা খাচ্ছিলেন । দূরে পাহাড়ের মাথায় মেঘ জমেছে। বাতাসে ভেজা মাটির গন্ধ। সার্থকবাবু হঠাৎ বললেন,— সাথী , আয়নাটা কি ছোট হয়ে গেছে? সাথী দেবী অবাক। — আয়না আবার ছোট হয় নাকি? — তা হলে আমার চুলগুলো এত কম দেখাচ্ছে কেন? — আয়না ছোট হয়নি, মাথার বাগানটা … Continue reading একসঙ্গে বৃদ্ধ হওয়ার গল্প – সুপ্রিয় রায় →

জীবনকে বাঁচিয়ে রাখার গল্প- সুপ্রিয় রায়

শিলিগুড়ির এক শান্ত আবাসনে থাকতেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী সার্থকবাবু আর তাঁর স্ত্রী সাথীদেবী। সার্থকবাবুর বয়স সত্তর পেরিয়েছে,  আর সাথীদেবীর বয়স ষাটের গণ্ডি পার হয়েছে। দু'জনেই সিনিয়র সিটিজেন, কিন্তু মনটা এখনও তরুণ। সার্থকবাবুর নেশা ভ্রমণ, লেখালেখি আর ছোট ছোট সাংস্কৃতিক ও ভ্রমণ ভিডিও বানানো। সাথীদেবীর শখ গান, ছবি আঁকা আর স্বামীর সঙ্গে সব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ … Continue reading জীবনকে বাঁচিয়ে রাখার গল্প- সুপ্রিয় রায় →