সন্ধ্যা হয়েছে , বাইরে ঝি ঝি পোকা ডাকছে , গ্রামের বাড়ির উঠানে লন্ঠন নিয়ে দাদু গল্প বলছে আর গ্রামের কচি কাচারা দাদুকে ঘিরে খুব মনোযোগ দিয়ে গল্প শুনছে ।দাদু বলতে শুরু করলেন – আজ তোদের সৌরজগৎ নিয়ে একটা ছোট্ট গল্প বলবো । অনেক দূরে, অসীম আকাশের এক কোণে থাকে এক বিশাল আগুনের গোলা, নাম তার … Continue reading ‘কল্পনার সৌরজগত অভিযান’ ( ছোটদের জন্য লেখা ) – সুপ্রিয় রায়
Category: SHORT STORY
মিষ্টির মোহ- সুপ্রিয় রায়
রোজ রাতে খাওয়ার শেষে মিষ্টি না হলে শাশুড়ির যেন খাওয়া শেষ হয় না। ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর ডাক্তার অনেকবার সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু মিষ্টির প্রতি তাঁর টান যেন কমছিলই না। বৌমা অনন্যা আধুনিক চিন্তাধারার মেয়ে। খাবার-দাবার নিয়ে যথেষ্ট সচেতন, নতুন প্রজন্মের মতোই স্বাস্থ্য নিয়ে সতর্ক। বারবার বুঝিয়েছে,— “মা, মিষ্টি কমাতে হবে, নইলে শরীরটা খারাপ হয়ে যাবে।” … Continue reading মিষ্টির মোহ- সুপ্রিয় রায়
বন্ধু – সুপ্রিয় রায়
অনেক দিন পর গতকাল সার্থক দেশের বাড়িতে এসেছে । খুব ইচ্ছা করছে নিজ হাতে বাজারে গিয়ে পছন্দের জিনিসগুলো নিয়ে আসে । আজকাল দেশের সবকিছুই বিদেশে বসে পাওয়া যায় । তবে এখানকার মত অত টাটকা মাছ ওখানে পায়না । ওর খুব ইচ্ছা করছে বাজারে যাওয়ার । তাই রেডি হয়ে মাকে বলল - মা , আমি একটু … Continue reading বন্ধু – সুপ্রিয় রায়
দুনিয়ার সব পিতা-মাতা ও তাদের সন্তানের পরিচয় – সুপ্রিয় রায়
আমাদের শৈশবের প্রথম হাসি, প্রথম হাঁটা, প্রথম স্কুলে যাওয়া—সবই পিতা-মাতার হাতে গড়া। তাঁরা হয়তো অনেকে উচ্চশিক্ষিত নন, হয়তো অর্থে-সম্পদে ধনী নন, কিন্তু ভালোবাসা, ত্যাগ আর যত্নের দিক থেকে তাঁরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। দুঃখজনক হলো, অনেক সময় দেখা যায় অনেক সন্তানেরা নিজেদের অবস্থান ভালো হলে বা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলে পিতা-মাতার নাম বলতে সংকোচ বোধ … Continue reading দুনিয়ার সব পিতা-মাতা ও তাদের সন্তানের পরিচয় – সুপ্রিয় রায়
“কখনো কখনো একফোঁটা বৃষ্টি একটা জীবনের গল্প লিখে দেয়…” – সুপ্রিয় রায়
কলেজের শেষ বর্ষের দিনগুলো।ফেব্রুয়ারির বৃষ্টি—না পুরো শীত, না পুরো গরম—একটা অদ্ভুত মনখারাপের সময়।সেদিন বিকেলে ক্লাস শেষ হতে দেরি হয়েছিল। চারপাশে সবাই ছুটছিল, আকাশের মুখ ভার, কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছিল। সার্থক গেটের সামনে দাঁড়িয়ে, ব্যাগ কাঁধে, হাতে কিছু নেই—ছাতা আনিনি।ঠিক তখনই পেছন থেকে মৃদু কণ্ঠে কেউ বলল - “এই নাও, ছাতাটা ধরো। তোমার তো নেই।” পেছন … Continue reading “কখনো কখনো একফোঁটা বৃষ্টি একটা জীবনের গল্প লিখে দেয়…” – সুপ্রিয় রায়
চিঠি – সুপ্রিয় রায়
শহরের এক প্রান্তে পাহাড়ের পাদদেশে যে সমৃদ্ধ জনপদটা রয়েছে সেখানকার বাসিন্দা সাথী । সাথীর মিষ্টি ব্যবহারের জন্য সবাই সাথীকে খুব ভালবাসে । সাথী যখন কলেজে বেড়োয় ঠিক তখনই সার্থকও বাড়ির থেকে অফিসে যাওয়ার জন্য বেড়োয় । সার্থক নুতন চাকরী নিয়ে সাথীদের পাড়ায় ভাড়া এসেছে । রাস্তায় দুজন দুজনকে দেখেছে কিন্তু কোনদিন পরিচয় হয়নি । আর … Continue reading চিঠি – সুপ্রিয় রায়
অপরিহার্য কেউ নয়- সুপ্রিয় রায়
সাথীর চোখে জল। বিছানায় বসে আছে একাকী। এই ঘর, এই জানালা, এই চেয়ার—সবই যেন আজ নিঃশব্দে প্রশ্ন করছে, “ সার্থক কোথায়?” দশ বছরের সংসার। একসাথে কাটানো প্রতিটি ঋতু যেন মনের গহীনে সযত্নে সাজানো। কিন্তু এক সকালে সার্থক শুধু একটি চিঠি রেখে চলে গেল—“সাথী, আমি ক্লান্ত। কিছু সময় একা থাকতে চাই। তাই ফিরে আসব কিনা এই … Continue reading অপরিহার্য কেউ নয়- সুপ্রিয় রায়
হীনমন্যতা সমাজের শেখানো এক নীরব শৃঙ্খল – সুপ্রিয় রায়
সুবিনয় খুব সাধারণ একটি ছেলে, কথা কম বলে। । শহরের ছোট্ট লাইব্রেরিটায় সে সকাল থেকে বিকেল অবধি বই সাজায়। ধুলো ঝাড়ে, রেজিস্টারে নাম লেখে, আর কার্ড ফেরত নেয়। লোকজন তাকে দেখে, কিন্তু খুব একটা লক্ষ করে না—যেমন দেয়ালের ঘড়িটাকে সবাই দেখে, কিন্তু কেউ আলাদা করে ভাবে না। অথচ তার ভেতরে ছিল গল্প লেখার প্রবল ইচ্ছে। … Continue reading হীনমন্যতা সমাজের শেখানো এক নীরব শৃঙ্খল – সুপ্রিয় রায়
ডিভোর্সটা ওদের, শাস্তিটা সন্তানের – সুপ্রিয় রায়
বাবা–মায়ের বিচ্ছেদটা আসলে শুধু দু’জন মানুষের আলাদা হয়ে যাওয়া নয় , একটা শিশুর নিরাপত্তাবোধ, পরিবারের ধারণা, আর নিজেকে দোষী ভাবার প্রবণতা—সবকিছু একসাথে ভেঙে পড়ে। স্বামী – স্ত্রীর সংসারে যদি বাচ্চা আসে তাহলে স্বামী – স্ত্রীর ডিভোর্স নেওয়ার আগে ভাবা উচিৎ - ডিভোর্সটা ওদের, শাস্তিটা সন্তানের। বৃষ্টি নামলে নির্ভীক আজও ছাতাটা খোঁজে।একটা নয়—দুটো। একটা ছিল বাবার। … Continue reading ডিভোর্সটা ওদের, শাস্তিটা সন্তানের – সুপ্রিয় রায়