Category: SHORT STORY

দুই অন্ধকারের মাঝে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত-সুপ্রিয় রায়

নার্সিংহোমের আইসিইউ-র কাঁচের ওপারে ওনি শুয়ে আছেন। মুখে  ভেন্টিলেটরের নল, শরীরজুড়ে অসংখ্য তার। মনিটরের নিয়মিত "বিপ... বিপ..." শব্দটুকুই যেন বলে দিচ্ছে, জীবন এখনও হাল ছাড়েনি। প্রতিদিন সকালে ভদ্রলোক একই প্রশ্ন করেন। "ডাক্তারবাবু... কেমন আছে ও?" ডাক্তার একটু থেমে উত্তর দেন,"আমরা চেষ্টা করছি। এখনই কিছু নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। কতদিন ভেন্টিলেশনে রাখতে হবে, সেটাও বলা … Continue reading দুই অন্ধকারের মাঝে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত-সুপ্রিয় রায় →

সন্ধ্যার পরের জীবন – সুপ্রিয় রায়

স্বামীর মৃত্যুর পর সাথীর বাড়িটা যেন হঠাৎ অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল। একসময় যে বাড়িতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের শব্দ লেগেই থাকত, সেখানে এখন ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দটাও স্পষ্ট শোনা যায়। দুই ছেলে বিদেশে । মেয়ে বেঙ্গালুরুতে। তিনজনই মাকে ভীষণ ভালোবাসে। সকালবেলা ফোন করে, দুপুরে মেসেজ করে, রাতে ভিডিও কল করে। “মা, ওষুধ খেয়েছ?” “মা, … Continue reading সন্ধ্যার পরের জীবন – সুপ্রিয় রায় →

বিয়ে ডট কম: সই, মালাবদল আর সিন্দুর দান – সুপ্রিয় রায়

এখন বাঙালির আধুনিক বিয়ে বাড়িকে শুধু অনুষ্ঠান হিসেবে নয়, আবেগ, সম্পর্ক, শব্দ আর স্মৃতির মিলনমেলা বলা যায় । বাঙালির  আধুনিক বিয়েতে এখন traditional আর practical—দুটোই পাশাপাশি চলে। একদিকে মালাবদল আর সিঁদুরদান, অন্যদিকে registration table-এ সই করার বাস্তবতা। এই contrast-টাই মজার। ............... বিয়ে বাড়িতে ঢুকলেই বোঝা যায়, এ আর সাধারণ বাড়ি নেই—এ এখন  একটা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট … Continue reading বিয়ে ডট কম: সই, মালাবদল আর সিন্দুর দান – সুপ্রিয় রায় →

রুদ্ধ – তাল – সুপ্রিয় রায়

ছোটবেলায় যখন অন্য ছেলেরা মাঠে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলত, তখন অর্ণব বসে থাকত একটা পুরোনো হারমোনিয়ামের সামনে। কখনও তবলা, কখনও গিটার, কখনও বাঁশি—যে যন্ত্রই তার হাতে উঠত, যেন প্রাণ পেয়ে যেত। সুর ছিল তার ভাষা, তাল ছিল তার শ্বাস। পাড়ার সবাই বলত, "এই ছেলেটা একদিন অনেক বড় শিল্পী হবে।" বয়স বাড়ল। অর্ণব একে একে আয়ত্ত … Continue reading রুদ্ধ – তাল – সুপ্রিয় রায় →

বিয়ের অঙ্ক – সুপ্রিয় রায়

বিকেলের নরম রোদ। রাস্তার মোড়ের ছোট্ট চায়ের দোকানে পাশাপাশি বসে আছে সার্থক আর সাথী । পাঁচ বছরের প্রেম। এবার একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সার্থক মোবাইলটা সাথীর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,— এটা দেখো। সাথী পড়ে শোনাল—"Addition of Worries, Subtraction of Pocket Money, Multiplication of Thoughts and Division of Friends." পড়েই হেসে ফেলল সে। সার্থক চায়ের … Continue reading বিয়ের অঙ্ক – সুপ্রিয় রায় →

নতুন কিছু শেখার আনন্দ – সুপ্রিয় রায়

সার্থকবাবুর বয়স সত্তর পেরিয়েছে। সাথী দেবীরও ষাটের কোঠা অনেক আগেই পেরিয়েছে। কিন্তু একটা ব্যাপারে দু'জনেরই মিল ছিল—তাঁরা বিশ্বাস করতেন, মানুষের বয়স বাড়ে, শেখার বয়স নয়। তবু কথাটা বলা যত সহজ, বাস্তবে মানা ততটা সহজ নয়। একদিন বিকেলে চা খেতে খেতে সাথী দেবী বললেন,— জানো, আমি ভাবছি এবার মোবাইলে গান রেকর্ড করা শিখব। সার্থকবাবু চমকে উঠলেন। … Continue reading নতুন কিছু শেখার আনন্দ – সুপ্রিয় রায় →

আড্ডা শুধু সময় নষ্ট, না জীবন গড়ার ওষুধ- সুপ্রিয় রায়

সন্ধ্যা নামতেই সার্থকের যেন অস্থিরতা শুরু হয়। ঘড়ির কাঁটা ছ'টা ছুঁলেই তার মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে জরুরি কাজটি এখনই করতে হবে—পাড়ার মোড়ে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া। " চারটা চা দে!" বিমলের চায়ের দোকানে এই কথাটাই যেন সন্ধ্যার জাতীয় সঙ্গীত। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই দোকানের সামনে বেঞ্চগুলো একে একে ভরে ওঠে। ধোঁয়া ওঠা মাটির ভাঁড়, … Continue reading আড্ডা শুধু সময় নষ্ট, না জীবন গড়ার ওষুধ- সুপ্রিয় রায় →

বিয়ে না লিভ-ইন – সুপ্রিয় রায়

বিকেলের শেষ আলো। রাস্তার পাশে পুরোনো চায়ের দোকানটা আজও ভিড়ে জমজমাট। কেটলির ধোঁয়া আর লেবু-চায়ের গন্ধে চারপাশ ভরে আছে। এক কোণের বেঞ্চে পাশাপাশি বসেছে সার্থক আর সাথী । পাঁচ বছরের প্রেম। এবার তারা একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে এসেছে। চায়ের ভাঁড় হাতে নিয়ে সার্থক বলল,— একটা কথা ভাবছি। বিয়ের এত ঝামেলা ? অনুষ্ঠান, আত্মীয়স্বজন, হাজার রকম … Continue reading বিয়ে না লিভ-ইন – সুপ্রিয় রায় →

বারান্দার শেষ ধোঁয়া – সুপ্রিয় রায়

বারান্দায় বসে আছেন সার্থকবাবু। এক হাতে চায়ের কাপ, অন্য হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে এমন ভাব করছেন, যেন পৃথিবীর সব চিন্তার সমাধান ওই ধোঁয়ার সঙ্গেই উড়ে যাচ্ছে। আর পাশে রাখা চশমা, টেবিলে ডায়াবেটিস, প্রেসার আর শ্বাসকষ্টের ওষুধ। ঠিক তখনই স্ত্রী সাথী এসে পাশে বসে হালকা হেসে বললেন,-— ওষুধগুলো তো ঠিক সময়ে খাচ্ছো , আর … Continue reading বারান্দার শেষ ধোঁয়া – সুপ্রিয় রায় →