Category: SHORT STORY

রুদ্ধ – তাল – সুপ্রিয় রায়

ছোটবেলায় যখন অন্য ছেলেরা মাঠে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলত, তখন অর্ণব বসে থাকত একটা পুরোনো হারমোনিয়ামের সামনে। কখনও তবলা, কখনও গিটার, কখনও বাঁশি—যে যন্ত্রই তার হাতে উঠত, যেন প্রাণ পেয়ে যেত। সুর ছিল তার ভাষা, তাল ছিল তার শ্বাস। পাড়ার সবাই বলত, "এই ছেলেটা একদিন অনেক বড় শিল্পী হবে।" বয়স বাড়ল। অর্ণব একে একে আয়ত্ত … Continue reading রুদ্ধ – তাল – সুপ্রিয় রায় →

বিয়ের অঙ্ক – সুপ্রিয় রায়

বিকেলের নরম রোদ। রাস্তার মোড়ের ছোট্ট চায়ের দোকানে পাশাপাশি বসে আছে সার্থক আর সাথী । পাঁচ বছরের প্রেম। এবার একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সার্থক মোবাইলটা সাথীর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,— এটা দেখো। সাথী পড়ে শোনাল—"Addition of Worries, Subtraction of Pocket Money, Multiplication of Thoughts and Division of Friends." পড়েই হেসে ফেলল সে। সার্থক চায়ের … Continue reading বিয়ের অঙ্ক – সুপ্রিয় রায় →

নতুন কিছু শেখার আনন্দ – সুপ্রিয় রায়

সার্থকবাবুর বয়স সত্তর পেরিয়েছে। সাথী দেবীরও ষাটের কোঠা অনেক আগেই পেরিয়েছে। কিন্তু একটা ব্যাপারে দু'জনেরই মিল ছিল—তাঁরা বিশ্বাস করতেন, মানুষের বয়স বাড়ে, শেখার বয়স নয়। তবু কথাটা বলা যত সহজ, বাস্তবে মানা ততটা সহজ নয়। একদিন বিকেলে চা খেতে খেতে সাথী দেবী বললেন,— জানো, আমি ভাবছি এবার মোবাইলে গান রেকর্ড করা শিখব। সার্থকবাবু চমকে উঠলেন। … Continue reading নতুন কিছু শেখার আনন্দ – সুপ্রিয় রায় →

আড্ডা শুধু সময় নষ্ট, না জীবন গড়ার ওষুধ- সুপ্রিয় রায়

সন্ধ্যা নামতেই সার্থকের যেন অস্থিরতা শুরু হয়। ঘড়ির কাঁটা ছ'টা ছুঁলেই তার মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে জরুরি কাজটি এখনই করতে হবে—পাড়ার মোড়ে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া। " চারটা চা দে!" বিমলের চায়ের দোকানে এই কথাটাই যেন সন্ধ্যার জাতীয় সঙ্গীত। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই দোকানের সামনে বেঞ্চগুলো একে একে ভরে ওঠে। ধোঁয়া ওঠা মাটির ভাঁড়, … Continue reading আড্ডা শুধু সময় নষ্ট, না জীবন গড়ার ওষুধ- সুপ্রিয় রায় →

বিয়ে না লিভ-ইন – সুপ্রিয় রায়

বিকেলের শেষ আলো। রাস্তার পাশে পুরোনো চায়ের দোকানটা আজও ভিড়ে জমজমাট। কেটলির ধোঁয়া আর লেবু-চায়ের গন্ধে চারপাশ ভরে আছে। এক কোণের বেঞ্চে পাশাপাশি বসেছে সার্থক আর সাথী । পাঁচ বছরের প্রেম। এবার তারা একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে এসেছে। চায়ের ভাঁড় হাতে নিয়ে সার্থক বলল,— একটা কথা ভাবছি। বিয়ের এত ঝামেলা ? অনুষ্ঠান, আত্মীয়স্বজন, হাজার রকম … Continue reading বিয়ে না লিভ-ইন – সুপ্রিয় রায় →

বারান্দার শেষ ধোঁয়া – সুপ্রিয় রায়

বারান্দায় বসে আছেন সার্থকবাবু। এক হাতে চায়ের কাপ, অন্য হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে এমন ভাব করছেন, যেন পৃথিবীর সব চিন্তার সমাধান ওই ধোঁয়ার সঙ্গেই উড়ে যাচ্ছে। আর পাশে রাখা চশমা, টেবিলে ডায়াবেটিস, প্রেসার আর শ্বাসকষ্টের ওষুধ। ঠিক তখনই স্ত্রী সাথী এসে পাশে বসে হালকা হেসে বললেন,-— ওষুধগুলো তো ঠিক সময়ে খাচ্ছো , আর … Continue reading বারান্দার শেষ ধোঁয়া – সুপ্রিয় রায় →

ভাল কনটেন্টের খোঁজে- সুপ্রিয় রায়

অবসর নেওয়ার পর সার্থকবাবু আর তাঁর স্ত্রী সাথীদেবী ঠিক করলেন, "এবার জীবনটা একটু অন্যভাবে উপভোগ করা যাক।" সার্থকবাবু বললেন,— সারাজীবন চাকরি করলাম। এখন সময় আছে, অভিজ্ঞতা আছে। চল, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভাল ভাল কনটেন্ট বানাই। সাথীদেবীও উৎসাহিত হলেন।— হ্যাঁ, সমাজের উপকার হয় এমন কিছু পোস্ট করব। মানুষকে সচেতন করব। দু'জনে মিলে ইউ টিউবে একটি চ্যানেল … Continue reading ভাল কনটেন্টের খোঁজে- সুপ্রিয় রায় →

আমরা দুজন আর আমাদের বদ অভ্যাস- সুপ্রিয় রায়

রবিবার সকাল। সাথী চা বানিয়ে স্বামী সার্থকের সামনে রাখল। সার্থক খবরের কাগজ পড়তে পড়তে দাঁত দিয়ে নখ কাটছে। দাঁত দিয়ে এমন মনোযোগ দিয়ে নখ কাটছে যেন বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলছে। সাথী বিরক্ত হয়ে বলল,— "তুমি কি মানুষ, না সুইস আর্মি নাইফ? সব কাজ দাঁত দিয়েই করবে নাকি?" সার্থক হেসে বলল,— "এতে আবার কী হয়েছে?" সাথী বলল,— … Continue reading আমরা দুজন আর আমাদের বদ অভ্যাস- সুপ্রিয় রায় →

একটি ছোট্ট শিশুর চিৎকার… আর আমাদের বদলে যাওয়া মন – সুপ্রিয় রায়

গত শনিবারের কথা। শিলিগুড়ি থেকে কলকাতা আসার জন্য আমরা দু’জনে উঠেছিলাম বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে। সময় তখন দুপুর তিনটে। এনজেপি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বেশ গরম লাগছিল । তাই ট্রেন ছাড়ার প্রায় আধ ঘণ্টা আগে দরজা খুলতেই আর দেরি না করে তাড়াতাড়ি উঠে পড়লাম ট্রেনে। মনে হচ্ছিল, একটু ঠাণ্ডা হাওয়া আর আরামদায়ক পরিবেশে শরীরটা যেন জুড়িয়ে যায়। নির্দিষ্ট … Continue reading একটি ছোট্ট শিশুর চিৎকার… আর আমাদের বদলে যাওয়া মন – সুপ্রিয় রায় →