সাথীর চোখে জল। বিছানায় বসে আছে একাকী। এই ঘর, এই জানালা, এই চেয়ার—সবই যেন আজ নিঃশব্দে প্রশ্ন করছে, “ সার্থক কোথায়?”
দশ বছরের সংসার। একসাথে কাটানো প্রতিটি ঋতু যেন মনের গহীনে সযত্নে সাজানো। কিন্তু এক সকালে সার্থক শুধু একটি চিঠি রেখে চলে গেল—
“সাথী, আমি ক্লান্ত। কিছু সময় একা থাকতে চাই। তাই ফিরে আসব কিনা এই মুহূর্তে জানি না।”
প্রথম কয়েক দিন ঘরটা যেন কেঁদে কেঁদে ভিজে উঠল। বন্ধুরা বলল, “ভাগ্যিস বাচ্চা হয়নি।” প্রতিবেশীরা কেউ কেউ বললেন, “বউ হয়েও স্বামীকে ধরে রাখতে পারলে না?”
সাথী চুপচাপ ছিল। মুখে কিছু বলত না, কিন্তু রাতের নিঃশব্দে বালিশ জানত তার কান্নার শব্দ।
সময় গড়াল। চাকরি, বই, হাঁটাচলা—ধীরে ধীরে জীবনে একটা ছন্দ ফিরে এল।
একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সাথী নিজেকে দেখে অবাক হল—এই মুখে তো হাসি!
সে বুঝল, যাকে ছাড়া বাঁচা অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল, তার অভাবেও জীবন চলে।
দেড় বছর পর এক সন্ধ্যায় দরজায় টোকা পড়ল। সার্থক । মুখে লাজুক হাসি।
— “ফিরে এলাম… তুমি চাও তো।”
সাথী একবার চুপ করে তাকাল। তারপর ধীরে বলল,
— “ফিরেছো ভালো কথা, কিন্তু আমি বদলে গেছি। আজ আর তোমাকে প্রয়োজন নেই, কারণ আমি নিজেকেই খুঁজে পেয়েছি।”
সার্থক নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইল। সাথী দরজা বন্ধ করল না, কিন্তু হৃদয়ের দরজাটা যে একসময় বন্ধ হয়ে গেছে, সেটা সার্থক বুঝতে পারল।
এই গল্পের পরিশেষে এটাই বলা ভাল – জীবনে কেউ অপরিহার্য নয়। সম্পর্কের মূল্য আছে, কিন্তু আত্মমর্যাদার চেয়ে বেশি নয়। সময় একাই শেখায়, কীভাবে শূন্যতা পূর্ণ হয়ে ওঠে।