সন্ধ্যা হয়েছে , বাইরে ঝি ঝি পোকা ডাকছে , গ্রামের বাড়ির উঠানে লন্ঠন নিয়ে দাদু গল্প বলছে আর গ্রামের কচি কাচারা দাদুকে ঘিরে খুব মনোযোগ দিয়ে গল্প শুনছে ।দাদু বলতে শুরু করলেন –
আজ তোদের সৌরজগৎ নিয়ে একটা ছোট্ট গল্প বলবো । অনেক দূরে, অসীম আকাশের এক কোণে থাকে এক বিশাল আগুনের গোলা, নাম তার সূর্য । তিনি কখনো ঘুমান না, আলো দেন, তাপ দেন, আর তার চারপাশে ঘুরে বেড়ায় তাঁর সন্তানেরা ।
আর এক ছিল ছোট্ট এক রোবট – তার নাম ছিল কল্পনা। সে থাকত এক মহাকাশ স্টেশনে। একদিন সূর্য তাকে ডেকে পাঠালেন।
– “কল্পনা! তুমি তো খুব কৌতূহলী। চলো, তোমায় আমার সব সন্তানদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই!”
কল্পনা তো আনন্দে লাফিয়ে উঠল। সঙ্গে নিল তার ছোট রকেট স্কুটার আর পিঠে একটা নোটবই।
পৌঁছে গেল সূর্যের কাছে । বুঝলো উনি গরম গ্যাসের তৈরি ঝলমলে নক্ষত্র !
সূর্য হেসে বললেন – “ কল্পনা , তুমি নিশচয় জানো যে আমি পুরো সৌরজগতের আলো আর শক্তির উৎস” ।
কল্পনা মাথা নাড়ল , তারপর খাতায় লিখল – “সূর্য – এটি একটি বিশাল আগুনের বল, আগুনের মতো গরম, গ্রহেরা সবাই এর চারপাশে ঘোরে। এর আলো ও তাপ ছাড়া পৃথিবীতে জীবন সম্ভব হত না।”
সন্তানদের মধ্যে প্রথম কল্পনাকে সূর্য পরিচয় করে দিলেন বুধের সাথে । খুব ছোট আর খুব গরম।
কল্পনা লিখল – “বুধ (Mercury) –সবচেয়ে ছোট ও সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ। দিনে প্রচণ্ড গরম, রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডা।”
এরপর দেখা হোল শুক্রর সাথে – সুন্দর আর উজ্জ্বল । কিন্তু সে বেশ গরম আর রেগে থাকে!এটিকে প্রায়শই পৃথিবীর “বোন” গ্রহ বলা হয় কারণ পৃথিবী এবং শুক্রের মধ্যে গাঠনিক উপাদানের বড় রকমের মিল রয়েছে।
কল্পনা লিখল –“শুক্র (Venus) – উজ্জ্বল, সুন্দর কিন্তু বিষাক্ত পরিবেশ। এই গ্রহটি যখন সকালের আকাশে উদিত হয় তখন একে শুকতারা এবং যখন সন্ধ্যার আকাশে উদিত হয় তখন একে সন্ধ্যাতারা বলে ডাকা হয়ে থাকে। শুক্র নিজের অক্ষে উল্টো দিকে ঘোরে” ।
তারপর পৃথিবীকে দেখে কল্পনা বলল “আহা, এটা তো আমার প্রিয়, কি সুন্দর সবুজ, নীল আর প্রাণভরা।
– “আমি একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণ আছে,” গর্ব করে বলল পৃথিবী।
কল্পনা খুশি মনে লিখল – “পৃথিবী (Earth)– আমাদের ঘর, প্রাণের আধার।”
মঙ্গলকে দেখলো লাল জামা পরা এক চঞ্চল ছেলে।
– “সবাই আমাকে লাল গ্রহ বলে। কেউ কেউ ভাবে, একদিন এখানে মানুষ থাকবে!”
কল্পনা ভাবল, একদিন ঘর বানিয়ে আসবে ওখানে! লিখল – “মঙ্গল (Mars)– লাল, রুক্ষ, রহস্যময়।”
সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি। সে গম্ভীর কিন্তু মজার।
কল্পনা লিখল – “বৃহস্পতি (Jupiter)সবচেয়ে বড় গ্রহ। এটি গ্যাসে ভরা, শক্তিশালী ঝড় আছে আর এর আশেপাশে অনেক চাঁদ আছে” ।
শনি ছিল খুব স্টাইলিশ – তার চারপাশে রিং ছিল!
কল্পনা লিখল – “শনি(Saturn) – বরফের আংটি, শীতল ও দূরের।”
ইউরেনাস ছিল একটু অদ্ভুত। সে অন্যদের মতো সোজা না, হেলানো হয়ে ঘোরে!
কল্পনা লিখল – “ইউরেনাস – হেলানো, ঠান্ডা আর দূরের বন্ধু। নীলচে-সবুজ রঙের, বরফমিশ্র গ্যাসীয় গ্রহ।”
সব শেষে ছিল নেপচুন – সে ছিল নীল আর দূরতম।
– “আমি সবচেয়ে দূরে, আমার বাতাস খুব জোরে চলে!” বলল সে হু হু করে।
কল্পনা লিখল – “নেপচুন – নীল, বাতাসপ্রিয়, শেষ গ্রহ।”
সব গ্রহদের সঙ্গে ঘুরে কল্পনা ফিরে গেল মহাকাশযানে । তাহলে কি দাঁড়ালো ? একটু থেমে দাদু আবার বলতে লাগলেন – “ সূর্যকে কেন্দ্র করে যে আটটি গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু ও গ্রহাণু ঘুরছে, সেটাই আমাদের সৌরজগত।সবাই সূর্যের চারপাশে ঘুরছে নিয়ম করে, তাই-ই এই নিয়মেই দিন-রাত, মাস-ঋতু, জীবন-প্রকৃতি সব চলছে ! সৌরজগৎ আসলে এক সুন্দর ছন্দের নাম” ।
বাচ্চারা মুগ্ধ হয়ে শুনছিল । কেউ কেউ বলল, “আমরাও মহাকাশে ঘুরে আসতে চাই!”
দাদু হাসল আর বললেন – “তবে আগে জানতে হবে, বুঝতে হবে, তারপর তো উড়তে পারবে!কালকে আবার আরেকটা গল্প বলবো , এবার সবাই বাড়ি যাও ” ।