রোজ রাতে খাওয়ার শেষে মিষ্টি না হলে শাশুড়ির যেন খাওয়া শেষ হয় না। ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর ডাক্তার অনেকবার সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু মিষ্টির প্রতি তাঁর টান যেন কমছিলই না।
বৌমা অনন্যা আধুনিক চিন্তাধারার মেয়ে। খাবার-দাবার নিয়ে যথেষ্ট সচেতন, নতুন প্রজন্মের মতোই স্বাস্থ্য নিয়ে সতর্ক। বারবার বুঝিয়েছে,
— “মা, মিষ্টি কমাতে হবে, নইলে শরীরটা খারাপ হয়ে যাবে।”
কিন্তু শাশুড়ি কথায় পাত্তা দিতেন না। শেষ পর্যন্ত একদিন বৌমা একটু শক্ত হয়ে বলল,
— “আজ থেকে আর মিষ্টি দেব না। যতই রাগ করুন, আমি মেনে নেব না।”
এই নিয়ে ঘরে ছোটখাটো যুদ্ধ বেধে গেল। শাশুড়ি অভিমান করে খাওয়া ছেড়ে উঠে গেলেন। তারপর শুরু হলো আসল নাটক—পাড়া- প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনদের কারও কারও কাছে বলতে লাগলেন,
— “আমার বৌমা আমাকে ঠিকমতো খেতে দেয় না।”
শোনামাত্রই অনেকের চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। এ যেন তাদের জন্য রসাল গল্প! কেউ বোঝাল না যে বৌমা আসলে ঠিক করছে। বরং তাদের মধ্যে কেউ কেউ উল্টে উসকে দিল,
— “ওরে বাবা, কী সংসার! শাশুড়ি মা-কে খেতে দেয় না আবার আধুনিকতা শেখায়।”
শেষমেশ অভিমানী শাশুড়ি নিজের মেয়ের বাড়ি চলে গেলেন। কয়েক মাস পর খবর এল—সুগার বেড়ে গিয়ে চোখে আর কিডনিতে মারাত্মক সমস্যা হয়েছে।
শরীর ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙল তাঁর ইগোও। তখনই মনে পড়ল বৌমার দৃঢ় কথাগুলো—
“খাবারে মিষ্টি নয়, সুস্থতা চাই।”
অন্তরে হাহাকার উঠল—
— “আমি ভুল বুঝেছিলাম। আমার বৌমা আমায় বাঁচাতে চাইছিল। অথচ আমি ওকে দোষারোপ করে সবার কাছে নিন্দা করেছি।”
সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছিল এই ভেবে যে, যেসব আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী জানে তাদের মধ্যে কারও এতটুকু সাহস হলো না তাঁকে বোঝানোর। বরং তারা আরও আগুনে ঘি ঢেলেছে।
অবশেষে শাশুড়ি বুঝলেন—
ভালোবাসা অনেক সময় কঠিন রূপে আসে।
সত্য কথা শুনতে কষ্ট হলেও, সেটাই শেষমেশ জীবন বাঁচায়।
আর চারপাশের লোকজনের কথায় না ভেসে, আপনজনের আন্তরিকতার দাম দেওয়া উচিত।