সিয়াটেল থেকে এবারেও শিকাগো এসেছিলাম আমাদের ভাইঝির সঙ্গে দেখা করতে। যেহেতু শিকাগো শহর আমাদের একেবারে নতুন ছিল না—এর আগেরবারই শহরের অনেকটা ঘুরে দেখেছি। তাই এবার আসার উদ্দেশ্য ছিল মূলত প্রিয়জনের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, আর সেই সঙ্গে শহরটাকে আরেকবার নিজের মতো করে অনুভব করে নেওয়া।
২৭ তারিখে শিকাগো থেকে আমাদের ফিরতি যাত্রা শুরু হলো। শিকাগো থেকে সরাসরি আবুধাবি, আর সেখান থেকে কলকাতা। কিন্তু শিকাগো ছাড়ার আগে মনটা যেন কিছুতেই শহরটাকে শেষবারের মতো না দেখে বিদায় নিতে চাইছিল না। তাই সন্ধ্যার সময় চলে গেলাম শিকাগোর প্রাণ—মিশিগান লেকের ধারে।
সেদিনের সেই সন্ধ্যাটা আজও চোখের সামনে ভাসছে। বিশাল মিশিগান লেকের ওপর তখন চাঁদ উঠেছে। চারপাশ যেন তার সাদা, মায়াবী আলোয় ধুয়ে যাচ্ছে। লেকের কালো জলের ওপর চাঁদের আলো চিকচিক করছিল, আর সেই আলোর সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল ঠান্ডা বাতাসের মৃদু পরশ। দূরে শিকাগো শহরের আলো, সামনে অসীম জলরাশি, মাথার ওপরে চাঁদ—সব মিলিয়ে মুহূর্তটা যেন বাস্তবের চেয়েও সুন্দর কোনো ছবির মতো মনে হচ্ছিল।
সেই ঠান্ডা বাতাসে দাঁড়িয়ে মিশিগান লেকের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, এই দৃশ্যটা হয়তো আমাদের সঙ্গে অনেক দূর পর্যন্ত যাবে। ভ্রমণ শেষ হয়ে যায়, শহর বদলে যায়, মানুষ নিজের ঘরে ফিরে আসে—কিন্তু কিছু কিছু মুহূর্ত মনের মধ্যে চিরদিনের জন্য থেকে যায়। মিশিগান লেকের সেই চাঁদভেজা সন্ধ্যাটা ঠিক তেমনই একটি স্মৃতি হয়ে রইল আমাদের জীবনে।
আর একটি দৃশ্যও মনে গেঁথে থাকবে—লেকের কাছেই আমাদের হোটেলের ১৫ তলা থেকে দেখা রাতের শিকাগো। উপর থেকে তাকালে শহরটাকে যেন অন্য এক রূপে দেখা যায়। চারদিকে অসংখ্য আলোর ঝিকিমিকি, তার মাঝে উঁচু উঁচু অট্টালিকা, আর দূরে অন্ধকারের মধ্যে মিশে থাকা মিশিগান লেক। মনে হচ্ছিল, নিচে একটা জীবন্ত শহর নিঃশব্দে জেগে আছে, আর তার পাশে বিশাল লেকটি শান্তভাবে দাঁড়িয়ে সবকিছুর সাক্ষী হয়ে আছে।