নামচিতে চারধাম ও রাবাংলাতে বুদ্ধপার্ক হওয়ার পর আমাদের আর ঐ দুটো জায়গায় যাওয়া হয়নি । অনেকদিন থেকেই ইচ্ছা ছিল যাওয়ার । কিন্তু নানা কারনে যাওয়া হয়ে উঠছিল না । এবার সুযোগ এসে গেল । নেট বলে দিল মঙ্গলবার অর্থাৎ ০৬/১২/২০২২ আকাশ পরিষ্কার থাকবে । তাই মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছটায় গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম নামচি আর রাবাংলার উদ্দ্যেশে । সকাল সকাল রাস্তা ফাঁকা তাই আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে গেলাম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫৫০০ ফুট উচ্চতায় নামচিতে । পৌঁছেই সময় নষ্ট না করে চললাম চারধামের উদ্দ্যেশে । রাস্তায় দেখা হোল কাঞ্চনজঙ্ঘা তার পরিবার নিয়ে দাড়িয়ে আছে । ঝকঝকে নীল আকাশ আর তার মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তুষার শুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা ও তার পরিবার। যাদের দেখার অসীম আগ্রহ নিয়ে আমরা ছুটে এসেছি এই সময়ে । চারধাম যাত্রা পথে এই তুষার শৃঙ্গ সবসময় আমাদের পাশে থেকেছে । এমনকি চারধামেও আমাদের সঙ্গ ছাড়েনি ।এই চারধাম নামচির সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় স্থান ৷ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পর্যটকরা প্রথমেই ভিড় জমান এই চারধামে । পাহাড়ের উপর ৫ কিলোমিটার ব্যাপী এই চারধামে ঢুকতেই প্রথমেই চোখ চলে যায় বিশালাকার শিব মূর্তির দিকে৷ এখানে রয়েছে ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের রেপলিকা৷ তাছাড়াও রয়েছে একসঙ্গে চারধাম দর্শন করার এক অনন্য সুযোগ৷ কারণ এখানেই বদ্রীনাথ, জগন্নাথ, দ্বারকা ও রামেশ্বরের আদলে তৈরি করা হয়েছে মন্দির৷
চারধাম দর্শন করে আমরা চললাম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮০০০ ফুট উচ্চতায় রাবাংলা। নামচি থেকে রাবাংলা ২৬ কিমি । পথে দর্শন করলাম কাঞ্চনজঙ্ঘা ছাড়াও , Mt Pandim, Mt Siniolchu and Mt Kabru । এর আগে এনারা পথে পড়েছিল ডানদিকে আর এবার পড়লো বামদিকে । চারধাম ও বুদ্ধপার্ক তো যে কোন সময়েই দেখা যায় কিন্তু হিমালয়ের এই তুষার শুভ্র শৃঙ্গগুলির দেখা পাওয়া পর্যটকদের কাছে ভাগ্যের ব্যাপার । তাই মন ভড়ে উঠেছিল আনন্দে । এই রাবাংলা মৈনাম পাহাড়ের ঠিক তলায় অবস্থিত এবং সিকিমের সবচাইতে আর্দ্র জায়গা ।প্রথমেই চলে গেলাম বুদ্ধপার্ক দেখতে। বুদ্ধপার্কটি দেখতে এক কথায় অসাধারণ । যেরকম সুন্দর আর্কিটেকচার সেরকমই সুন্দর পরিবেশ পরিকল্পনা । খুব ভাল লাগলো । তারপর চললাম সিকিমের একটি মাত্র চা বাগান টেমি টি দেখতে । অনেক সুন্দর সুন্দর চা বাগান দেখেছি তাই আর আলাদা করে টেমি টি চা বাগানকে মনে ধরল না । দেখার ইচ্ছার তাগিদে ঘুরে আসলাম । সঙ্গে আনলাম টেমি টির চা পাতা । রাবাংলা ও নামচিতে থাকা , খাওয়ার কোন অসুবিধা নেই । সব কিছুই পাওয়া যায় । রাবাংলা থেকে আসবার সময় নামচিতে বাইচুং স্টেডিয়ামটাও দেখে আসলাম । সারাদিন কাটিয়ে আমরা সাতটার মধ্যেই আমাদের শিলিগুড়ির বাসায় ফিরে আসলাম ।