রাখা উচিৎ যে স্বাবলম্বী হওয়া মানে শুধু অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নয়। এটি অনেক বিস্তৃত একটি ধারণা, যা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার বিষয়টি বোঝায়। স্বাবলম্বী হওয়া বলতে আমরা বলতে পারি –
- অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা – নিজের আয় দিয়ে নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটানো।
- মানসিক স্বাবলম্বিতা – নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারা। কঠিন সময়েও ভেঙে না পড়ে দৃঢ় থাকার ক্ষমতা।
- সামাজিক স্বাবলম্বিতা– সমাজে নিজের অবস্থান তৈরি করা ।
- শিক্ষা ও দক্ষতায় স্বাবলম্বিতা– নতুন কিছু শেখার ও প্রয়োগ করার সামর্থ্য রাখা। যেকোনো সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করা
- আত্মনির্ভরশীলতা– নিজের কাজ নিজে করতে পারা। অন্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করা
- আবেগিক স্বাবলম্বিতা– আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা। অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া
অর্থাৎ, সত্যিকারের স্বাবলম্বিতা মানে হলো ব্যক্তি তার জীবনকে এমনভাবে গড়ে তুলবে, যাতে সে নিজের ও পরিবারের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং প্রয়োজনের সময় নিজেকে সামলাতে সক্ষম হয়। স্বাধীনভাবে নিজের চাহিদা পূরণ করতে পারলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। অন্যের সাহায্যের অপেক্ষায় না থেকে নিজের সক্ষমতা দিয়ে জীবন পরিচালনা করলে আত্মসম্মানবোধ তৈরি হয়। জীবনে অনেক অনিশ্চয়তা থাকে—হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়া, আর্থিক মন্দা বা পারিবারিক সমস্যা। স্বাবলম্বী হলে এসব পরিস্থিতি দক্ষতার সাথে সামলানো সহজ হয়। স্বাবলম্বিতা কেবল ব্যক্তিগত উন্নতির বিষয় নয়, এটি একটি শক্তিশালী সমাজ গঠনের মূলভিত্তি।
যেমন ছেলেদের অর্থনৈতিক ও বাহ্যিক কাজে স্বাবলম্বী হওয়াটা তো অনেকদিন ধরেই সমাজ চেয়ে এসেছে , তেমন মেয়েদের অর্থনৈতিক ও বাহ্যিক কাজে স্বাবলম্বী হওয়া এবং ছেলেদের সাংসারিক কাজে স্বাবলম্বী হওয়া শুধু দরকারি নয়, বরং আজকের দিনে সময়ের দাবি। কারণ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে অনেক মেয়েরা ও ছেলেরা তাদের পরিবারের জন্য অর্থনৈতিকভাবে ও সাংসারিকভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নিচ্ছে । তাই আজকের দিনে স্বামী – স্ত্রীর স্বাবলম্বী হওয়া মানে শুধু নিজের জন্য নয়, বরং পুরো পরিবারের জন্যই ইতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং প্রয়োজনে কারও কোন অসুবিধায় পড়তে হয় না । ছেলেদের যেমন উপার্জন করলে আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি হয় , ঠিক তেমনি মেয়েরাও উপার্জন করলে স্বামী বা পরিবারের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হয়ে নিজের প্রয়োজন নিজেরাই মেটাতে পারলে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।তারা নিজেদের আরও বেশি সম্মানিত মনে করতে পারে । তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ে, যা সংসার ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। কাজের মাধ্যমে ছেলেদের মতো মেয়েরাও শুধু উপার্জনই করতে পারবে তা না, বরং নিজেদের শখ ও প্রতিভাকে বিকশিতও করতে পারবে। এছাড়া জীবনে যেকোনো সময় চ্যালেঞ্জ আসতে পারে যেমন স্বামীর বা পরিবারের কারও চাকরি চলে যাওয়া, অসুস্থতা বা অন্য কোনো আর্থিক সংকটে মেয়েরা যদি নিজে কিছু করতে পারে, তাহলে পরিবারকে কঠিন সময়ে রক্ষা করা সহজ হয়।
যদি আমাদের কেউ প্রশ্ন করে যে মেয়েদের জন্য চাকরি করা ভালো নাকি সংসার পালন করা ভালো ? তাহলে অবশ্যই বলবো এটা নির্ভর করে ব্যক্তির পছন্দ, পরিস্থিতি, এবং লক্ষ্যগুলোর ওপর। আসলে, এই দুইটি বিষয় একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয় , বরং কেউ চাইলে দুটো একসাথে করতে পারে, আবার কেউ একটিকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে। এটা পুরোপুরি নির্ভর করে ব্যক্তির উপর । কেউ চাকরি করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চায় , কারণ সে চাকরি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে । আবার কেউ পুরোপুরি সংসারে মনোযোগ দিতে চায় বা বলা যায় সে সংসারকেই প্রাধান্য দিতে চায় । কেউ আবার কর্মজীবন ও সংসার দুটোই সামলাতে চায় ।
তাই সবশেষে সবার কাছে আমাদের অনুরোধ – সবার উচিত মেয়েদের নিজের পছন্দ মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া, যেন তারা যা চায় সেটাই করতে পারে।