জীবন বোধহয় মাঝে মাঝে আমাদের শৈশবের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যায়— সুপ্রিয় রায়

ছোটবেলায় ঝাঁটার কাঠি আর সুতো দিয়ে তির-ধনুক বানিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলতাম।
তারপর আর একটু বড় হয়ে হাতে এল গুলতি। তখন আর কল্পনার তির নয়—হাতের টিপ পরীক্ষা করার সময়। কোন গাছে, কোন কৌটায় বা কোন নির্দিষ্ট জায়গায় গুলি লাগছে, সেটাই ছিল আমাদের বিরাট সাফল্য!

তারপর বয়স আরও একটু বাড়ল। মেলায় গিয়ে হাতে এল বেলুন ফাটানোর বন্দুক। আহা! তখন মনে হতো—এই তো, এবার সত্যিকারের শুটার হয়ে গেলাম!এই বয়সে এসে এখনও বন্ধুক দিয়ে বেলুন ফাটাতে ইচ্ছা হয় ।  

কিন্তু জীবনের গল্পটা বেশ মজার। এর আগে আমেরিকায় এসে সেই খেলনা অস্ত্রের পর্ব পেরিয়ে সত্যিই রিভলভার আর রাইফেল চালানোর অভিজ্ঞতা হয়ে গেছিল ।

আর এবার?
আবার ফিরে গেলাম সেই ছোটবেলায়—তবে এবার ঝাঁটার কাঠি নয়, সত্যিকারের তির-ধনুক!

সন্ধ্যায় চলে গেলাম কাছেই Kirkland-এর Champion Archery & Shooting Club-এ। পেশাদার প্রশিক্ষকের সাহায্যে সামনে টার্গেট রেখে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে Archery practice করলাম। সব মিলিয়ে ব্যাপারটা বেশ রোমাঞ্চকর।

প্রথমে তিরগুলো টার্গেটের সঙ্গে একটু দূরত্ব বজায় রাখতেই যেন বেশি আগ্রহী ছিল! তবে ধীরে ধীরে নিশানা ঠিক হতে লাগল। তখন বুঝলাম—তির ছোড়া শুধু হাতের জোর নয়, চোখের নিশানা আর মনের একাগ্রতারও পরীক্ষা।

এখানে জানতে পারলাম – ভালো নিশানা বা নিখুঁতভাবে তীর ছোড়ার জন্য ধনুক ধরার কায়দা থেকে শুরু করে তীর ছোড়া পর্যন্ত শরীর এবং মনের চমৎকার নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

এই প্রথম জীবনে সত্যিকারের Archery করার সুযোগ পেলাম।ছোটবেলার সেই ঝাঁটার কাঠির তির-ধনুক যেন এত বছর পর আমেরিকায় এসে একেবারে প্রফেশনাল সংস্করণে ফিরে এল ।

ভাবছি, জীবনের খেলাগুলোও বোধহয় এমনই—
শৈশবে যেটা খেলনা দিয়ে শুরু হয়, কখনও কখনও বয়স বাড়ার সঙ্গে সেটাই সত্যিকারের অভিজ্ঞতা হয়ে ফিরে আসে।

Leave a Reply