সময় আসলে কী? – সুপ্রিয় রায়

আমরা সাধারণত সময়কে ঘড়ির কাঁটার মতো ভাবি। কিন্তু আলবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব (Theory of Relativity) বলেছে—

সময় হলো একটি মাত্রা, ঠিক যেমন দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর উচ্চতা।
আর এটা সব জায়গায় একভাবে চলে না—গতি আর মহাকর্ষের উপর নির্ভর করে সময়ের গতি ধীরে বা দ্রুত হতে পারে।

 তাহলে কি সময় ভ্রমণ সত্যিই হয়?

ভবিষ্যতের দিকে যাওয়া: হ্যাঁ, তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব!

যদি তুমি আলো-গতির কাছাকাছি গতিতে ভ্রমণ করো, তাহলে পৃথিবীর তুলনায় তোমার সময় ধীরে চলবে।
মানে, তুমি ফিরে আসলে দেখতে পারো পৃথিবীতে অনেক বছর কেটে গেছে, কিন্তু তোমার শরীরে মাত্র কিছুদিন কেটেছে।এই বিষয়কে বলে Time Dilation।

একটা বাস্তব উদাহরণ:
GPS স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবীর উপরে ঘুরে। ওদের ঘড়ি আর পৃথিবীর ঘড়ি আলাদা গতিতে চলে—কারণ ওরা ভিন্ন মাধ্যাকর্ষণ ও গতিতে আছে। বিজ্ঞানীরা সেটা হিসেব করে ঠিক রাখে!

অতীতে যাওয়া: এখনো অসম্ভব, আর জটিলও

অতীতে ফেরার ব্যাপারটা অনেক বেশি জটিল। কারণ—

  • এতে কারণ ও ফলাফল (cause and effect) বিপর্যস্ত হয়ে যায়।
  • যেমন, যদি তুমি অতীতে গিয়ে নিজের জন্ম রুখে দাও, তাহলে তুমি ভবিষ্যতে সময় ভ্রমণেই বা গেলে কীভাবে?

এই ধরণের সমস্যাকে বলে Time Paradox।

তবে কিছু তত্ত্ব আছে—যেমন Wormholeবা সময়ের সুড়ঙ্গপথ—যা অতীতে ফেরার সম্ভাবনা জাগায়। কিন্তু এখনও তা কেবল তত্ত্বেই আছে, বাস্তবে নয়। সময় ভ্রমণ নিয়ে কিছু বিখ্যাত সিনেমা আছে , যেমন –

Interstellar, Back to the Future,Tenet,The Time Machine ইত্যাদি

এগুলো দেখলে সময়ের রহস্য আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে!

তাহলে এক কথায় আমরা বলতে পারি –

  • ভবিষ্যতে যাওয়া তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব, এবং বিজ্ঞান সেই পথেই ভাবছে।
  • অতীতে যাওয়া অনেক জটিল ও বিতর্কিত, তবে কল্পবিজ্ঞানে সেটা খুব জনপ্রিয়।
  • সময় ভ্রমণ এখনো কল্পনা, কিন্তু ভবিষ্যতে বিজ্ঞান সেই কল্পনাকে ছুঁতে চায়।

(নানা লেখার থেকে সংগ্রহ করে নিজের ভাষায় সহজ করে লেখা )

Leave a comment