এক প্রার্থী, দুই আসন — গণতন্ত্রের কৌশল না প্রশ্ন?- সুপ্রিয় রায়

ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায়, যা পরিচালনা করে Election Commission of India, একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ দুইটি আসন থেকে নির্বাচনে লড়তে  পারেন। তাই আমরা দেখেছি অনেক বড় নেতাকে দুই জায়গা থেকে লড়তে।

রাজনৈতিক দৃষ্টিতে এর কেউ কেউ ব্যাখ্যা দেন যে এটি জয়ের সম্ভাবনা বাড়ানোর কৌশল, কেউ বলেন এটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার উপায়।

কিন্তু একজন সাধারণ ভোটারের দৃষ্টিতে বিষয়টি একটু ভিন্ন,  অন্য প্রশ্নও আসে মনে — যদি একজন প্রার্থী দুই জায়গা থেকেই জিতে যান, তবে তিনি তো একটি আসন ছেড়ে দেবেন। তখন সেখানে আবার উপনির্বাচন হবে। অর্থাৎ আবার প্রচার, আবার ভোট, আবার সরকারি খরচ।

(আমাদের দেশ নাকি নির্বাচনের খরচ কমাতে চায় !)  

বেশিরভাগ উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে একজন প্রার্থী একাধিক আসন থেকে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা নেই। সাধারণত একজন প্রার্থী একটি মাত্র নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।

যেমন –

যুক্তরাজ্যে বা United Kingdom–এ একজন প্রার্থী কেবল একটি সংসদীয় আসনেই দাঁড়াতে পারেন। যদি কেউ হেরে যান, তাহলে তাকে পরের নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে বা United States–এও একই নিয়ম। একজন ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে প্রার্থী হতে পারেন না।

কানাডাতে বা Canada–এও একজন প্রার্থী শুধু একটি নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।

জার্মানিতে বা Germany–এ সরাসরি আসনের ক্ষেত্রে একজন প্রার্থী একটি এলাকায় দাঁড়ান। তবে দলীয় পার্টি লিস্ট সিস্টেম থাকায় কেউ তালিকায় থাকতে পারেন, কিন্তু একাধিক এলাকার সরাসরি প্রার্থী হওয়া যায় না।

তাই প্রশ্নটা থেকেই যায়—গণতন্ত্রে কি একজন প্রার্থীর একটিই আসন হওয়া উচিত? নাকি রাজনৈতিক কৌশলের জন্য একাধিক আসনের সুযোগ থাকাই ঠিক? যখন দেখি একজন প্রার্থী একই নির্বাচনে দুইটি আসন থেকে দাঁড়াচ্ছেন, তখন মনে প্রশ্ন জাগে—এটা কি রাজনৈতিক কৌশল, না ভোটারের ওপর আস্থার ঘাটতি?

গণতন্ত্রে ভোট মানে মানুষের বিশ্বাস। মানুষ একজন প্রার্থীকে ভোট দেয় এই আশায় যে তিনি তাদের এলাকার প্রতিনিধিত্ব করবেন।

সম্ভবত এর উত্তর লুকিয়ে আছে ভোটারের সচেতনতার মধ্যেই। কারণ শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি কোনো নেতা নন—সবচেয়ে বড় শক্তি হলেন সাধারণ মানুষ, অর্থাৎ ভোটার।

তাই অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, উন্নত দেশগুলির মতো যদি ভারতে একটিমাত্র আসন থেকে দাঁড়ানোর নিয়ম করা হয়, তাহলে উপনির্বাচনের খরচ ও রাজনৈতিক কৌশলের অপব্যবহার কমতে পারে।

Leave a comment