যে কোন অনুষ্ঠানে উপহার দেওয়া একেবারে ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত উপহার দেওয়া একটি সৌজন্যমূলক ও শুভেচ্ছাসূচক অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়। উন্নত দেশের অনেক জায়গায় উপহার দেওয়া বাধ্যতামূলক নয় এবং কেবল উপস্থিতি ও শুভেচ্ছাকেই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও সামাজিক রীতিনীতির ওপর নির্ভর করে অনুষ্ঠানে উপহার দেওয়ার প্রচলন ভিন্ন হতে পারে। কিছু দেশে উপহার দেওয়া খুব সাধারণ প্রথা, আবার কিছু দেশে এটি তেমন গুরুত্ব পায় না বা একেবারে অনুপস্থিত।
যেখানে উপহার দেওয়া পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির একটি মাধ্যম সেখানে উপহার দেওয়ার সময় সবসময় মাথায় রাখা উচিৎ –
- উপহারটি আপনার প্রিয়জনের পছন্দ হবে কি না
- উপহারটি আপনার প্রিয়জনের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে পারবে কি না
- উপহারটি আপনার প্রিয়জনের সঙ্গে আপনার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারবে কি না
- উপহার এমন হওয়া উচিত যাতে তা কোনোভাবে ভুল বার্তা না দেয়।
তাই সমাধান সুত্র হিসাবে বলা যায় উপহার হিসেবে নগদ অর্থ সবচেয়ে ভাল উপহার তাহলে যাকে উপহার দেওয়া হচ্ছে সে তার ইচ্ছামতো প্রয়োজনীয় বা পছন্দমতো জিনিস কিনতে পারে । নগদ টাকা সবসময় একটি সুন্দর খামের মধ্যে করে দিন। এতে এটি আরো সৌজন্যপূর্ণ ও আকর্ষণীয় মনে হবে। বিশেষ করে বিয়ে, জন্মদিন বা উৎসব উপলক্ষে এটি ভালোভাবে উপস্থাপন করলে ভালো লাগবে।
অনেক সময় নবদম্পতির জন্য টাকা বেশি উপযোগী হয়, কারণ তারা এটি নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারে।
অনেক সময় ছোটদের বা পরিবারের কাছের মানুষের জন্য টাকা দেওয়া হয়, যাতে তারা নিজের ইচ্ছামতো কিছু কিনতে পারে।
উচ্চশিক্ষার জন্য সহায়তা করতে বা চাকরির শুরুতে কাউকে কিছু উপহার দিতে চাইলে টাকা দেওয়া ভালো হতে পারে।
যদি আপনি জানেন না যে কী উপহার দেওয়া উচিত, তবে টাকা একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
যেমন চীনে নগদ অর্থ (হংবাও বা লাল খাম) উপহার দেওয়ার প্রচলন বেশি, বস্তুগত উপহার দেওয়া কম প্রচলিত।
জাপানে উপহার দেওয়ার পরিবর্তে অতিথিদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রহণের সংস্কৃতি রয়েছে, যা নবদম্পতির জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে উপহার সামগ্রী দেওয়া হয় না।
উপহারে টাকা দেওয়া অনেক ক্ষেত্রেই উপযোগী হতে পারে, তবে এটি পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। কিছু সংস্কৃতিতে নগদ টাকা উপহার দেওয়া সাধারণ এবং গ্রহণযোগ্য হলেও, কিছু জায়গায় এটি খুব ব্যক্তিগত বা অনুপযুক্ত বলে বিবেচিত হতে পারে।
কিছু সমাজে উপহার দেওয়া একটি বাধ্যতামূলক রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ব্যক্তির স্বাধীন সিদ্ধান্তকে সীমিত করে। বিবাহ অনুষ্ঠান মূলত আনন্দ ও সম্পর্ক উদযাপনের জন্য, কোনো আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্র হওয়া উচিত নয়।
অনেক সময় দেওয়া উপহার নবদম্পতির কাজে আসে না এবং তা অব্যবহৃত অবস্থায় থেকে যায় বা পুনরায় অন্যকে দেওয়া হয়। এতে অর্থ ও সম্পদের অপচয় হয়।তাই আজকাল অনেকে নিকট আত্মীয় ও প্রিয়জনদের মধ্যে তাদের wish list দিয়ে দেয় যাতে উপহার পছন্দ মত হয় ।
সব অতিথির পক্ষে উপহার দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। উপহার কেনার জন্য আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে, বিশেষত যদি অতিথির আর্থিক অবস্থা সীমিত হয় বা যদি একসঙ্গে অনেক অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ থাকে।