অনান্য অনেক রাজ্যের মতো আমাদের রাজ্যেও ব্যবসা করা দিন দিন শুধু কঠিনই নয়, বহু মানুষের কাছে আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ ব্যবসা একটি রাজ্যের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। কিন্তু সেই মেরুদণ্ড যখন অসৎ স্বার্থের ভারে চাপা পড়ে, তখন সাধারণ মানুষের আগ্রহ ক্রমশ নিঃশেষ হয়ে যায়।
দুঃখের বিষয় হলো, এখনো বহু রাজনৈতিক ধান্দাবাজ ব্যক্তি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে বিনা পরিশ্রমে নিজেদের আখের গোছানোর ধান্ধায় লিপ্ত। তারা সরাসরি ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে — কখনো চাঁদাবাজি, কখনো দলে দলে ঘন ঘন ‘উন্নয়নমূলক’ দাবি, কখনো আবার সরকারি সুযোগ-সুবিধা আটকে দিয়ে সুবিধা আদায়ের কৌশল।
ফলে, নতুন উদ্যোক্তারা ভয় পান। ভাবেন — ‘ব্যবসা করব, কিন্তু কাদের মুখ চেয়ে চলব?’ তারা জানেন, আইন যতটা লেখা থাকে কাগজে, বাস্তবে তার প্রয়োগ অনেকটাই প্রভাবশালীদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
এই সংস্কৃতি যতদিন চলবে, ততদিন সত্যিকারের ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তারা সমাজে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। আর যারা সাহস করে কিছু শুরু করেও পথে নামে, তারা হয় হয়রান হয়ে পড়েন, নয়তো আদর্শ বিসর্জন দিয়ে এই অসৎ ব্যবস্থার অংশ হয়ে পড়েন।
আমাদের প্রয়োজন এমন একটি সমাজব্যবস্থা যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা মানুষের উন্নয়নের হাতিয়ার হবে, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর লাভের মাধ্যম নয়। যেখানে ব্যবসায়ী হবে সমাজের সম্মানিত অংশ, শোষণের নয়।
যদি আমরা সত্যিই চাই রাজ্যের অগ্রগতি, তাহলে এই চক্র ভাঙতেই হবে। সততার পক্ষে দাঁড়িয়ে স্বচ্ছ ব্যবস্থাকে এগিয়ে আনতে হবে। তবেই সাধারণ মানুষ মন থেকে ব্যবসার দিকে এগিয়ে আসবে। তবেই গড়ে উঠবে একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভর সমাজ। মনে রাখা উচিৎ যে সকল ধান্দাবাজ অসৎ রাজনৈতিক কর্মীরা এরকম কাজে লিপ্ত আছে তারা কখনই কোন দলের নির্ভরযোগ্য কর্মী হতে পারে না ।