“ধর্ম নয়, মানুষ আগে” — এই একটিমাত্র নীতি যদি সব দেশের শাসনব্যবস্থায় প্রধান হয়ে উঠত, তাহলে কেমন হতো পৃথিবীটা?
সেকুলার মানে ধর্মবিরোধী নয় — বরং ধর্মনিরপেক্ষতা। আবার এটাও বলা যায় যে সেকুলার মানে ধর্মহীন নয়, বরং ন্যায়ভিত্তিক ও সমান আচরণ। অর্থাৎ রাষ্ট্র কোনো ধর্মের পক্ষ নেয় না, আবার কারো ধর্ম মানতেও বাধা দেয় না। যদি পৃথিবীর সব দেশ সেকুলার হতো, তাহলে হয়তো আমরা দেখতে পেতাম…
- শিক্ষা ব্যবস্থায় আর ধর্মীয় বিভাজন নেই
- আদালতে রায় হচ্ছে ন্যায়ের ভিত্তিতে, কোনো ধর্মীয় অনুশাসনে নয়
- মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে ধর্মীয় বিধিনিষেধ ছাড়াই
- মানুষ পোশাক, খাদ্য, উৎসব নিজের মতো করে পালন করছে — কারো ভয় নেই
- রাজনৈতিক নেতারা ধর্মকে নয়, মানুষকে গুরুত্ব দিচ্ছেন
- কোনো মন্দির, মসজিদ, চার্চ পোড়ানো হচ্ছে না
- পাসপোর্টে লেখা নেই “ধর্ম”, লেখা আছে “মানব”
কিন্তু এটাতো এত সহজ নয়। যারা ধর্মের নামে মানুষকে বিভক্ত করে, তারা কখনোই সেকুলার পৃথিবী চায় না। কারণ তারা জানে, মানুষ এক হয়ে গেলে — তাদের বিভাজনের রাজনীতি ধসে পড়বে। রাজনৈতিক স্বার্থ এতে জড়িত । অনেক শাসক আছে যারা ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই সেকুলার বিশ্ব গড়তে চাইলে, আমাদের দরকার…
- যুক্তিবাদী শিক্ষা
- সাহসী সংবাদমাধ্যম
- তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব
- ধর্মের অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
- এবং প্রতিটি মানুষের মধ্যে মানবতাবোধ জাগানো
যদি আমরা মনে প্রানে মনে করি যে মানুষের ধর্ম থাকতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের নয় — তাহলেই সম্ভব পৃথিবীকে এক নতুন পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেকুলারিজমই হতে পারে ভবিষ্যতের বিশ্বনীতির ভিত্তি।
সব দেশের মানুষের স্লোগান হোক: “ভিন্ন বিশ্বাস, এক অধিকার – ধর্ম নয়, মানুষ হোক রাষ্ট্রের মুখ!”
Top of Form
Bottom of Form
বর্তমান বিশ্বে মোট দেশ প্রায় ১৯৫টি (জাতিসংঘ স্বীকৃত ১৯৩ + ২ পর্যবেক্ষক)।
- খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ – ১২০ থেকে ১২৫ টা , এর মধ্যে খ্রিস্টান রাষ্ট্রধর্ম আছে ৭ টা দেশে।
- মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ – ৫০ থেকে ৫৬ টা এর মধ্যে মুসলিম রাষ্ট্রধর্ম আছে ২০ টা দেশে।
- বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ – ৭ টা , এর মধ্যে বৌদ্ধ রাষ্ট্রধর্ম আছে ৩ টা দেশে।
- হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ – ২ টা , এর মধ্যে হিন্দু রাষ্ট্রধর্ম কোন দেশেই নেই ।
- ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ – ১ টা , নিজেকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করে, তবে কাঠামো একটু আলাদা ।
- অন্যান্য দেশ যাদের কোনো স্পষ্ট ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ নেই – ১০ থেকে ১৫ টা এর প্রতিটা দেশই সেকুলার ।
এই পরিসংখ্যা দেখে একটা জিনিস খুব স্পষ্ট যে বিশ্বের প্রায় ১৯৫টি দেশের মধ্যে এখনও ৩০–৩৫টি দেশ এমন আছে যারা ধর্মনিরপেক্ষ নয় , তাদের রাষ্ট্রধর্ম রয়েছে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে অর্থাৎ রাষ্ট্রে মানুষের থেকেও ধর্মের প্রাধান্য বেশি ।