মানুষ কাউকে কেন ভালোবাসে—
তার কি কোনো একটিমাত্র উত্তর আছে?
হয়তো নেই।
কারণ ভালোবাসা কখনো যুক্তির পথে হাঁটে না,
সে জন্ম নেয় হৃদয়ের নিভৃত বাগানে,
যেখানে শব্দের আগে অনুভূতিরা কথা বলে।
কখনো কেউ
আমাদের না-বলা কথাগুলোও শুনে ফেলে।
চোখের ভাষা পড়ে,
নীরবতারও অর্থ খুঁজে নেয়।
তখন মনে হয়—
এই মানুষটির কাছে
লুকিয়ে রাখার মতো আর কিছু নেই।
সেখান থেকেই
ভালোবাসার প্রথম অঙ্কুর মাটি ভেদ করে ওঠে।
কখনো দু’টি স্বপ্ন
একই আকাশে উড়তে শেখে,
দুটি ভাবনা
একই নদীর মতো পাশাপাশি বয়ে চলে।
তখন দূরত্ব থাকলেও
মন দুটো আলাদা থাকে না।
কখনো শ্রদ্ধাই
ভালোবাসার প্রথম নাম।
একটি সুন্দর ব্যবহার,
একটি নির্মল মন,
একটি সত্য উচ্চারণ,
একটি উদার হৃদয়—
অজান্তেই জায়গা করে নেয়
অন্য একটি হৃদয়ের গভীরে।
কখনো ভালোবাসা মানে
একটি নিরাপদ আশ্রয়।
ঝড় এলেও
যেখানে হাত ছাড়ার ভয় থাকে না,
অন্ধকার নামলেও
যেখানে আলো নিভে যায় না।
যার পাশে দাঁড়ালে মনে হয়—
পৃথিবী এখনও সুন্দর।
আবার কখনো
একটি হাসি,
একটি দৃষ্টি,
একটি ক্ষণিকের দেখা—
সময়ের স্রোতে
অগণিত স্মৃতির জন্ম দেয়।
তারপর একদিন
হঠাৎই বুঝতে পারি—
সে মানুষটি
আমাদের প্রতিদিনের প্রার্থনায় মিশে গেছে।
আর কখনো মনে হয়,
সে আমার অপূর্ণতার মধ্যে
পূর্ণতার আলো জ্বেলে দেয়।
আমার ভাঙা সুরে
সে গান খুঁজে পায়,
আমার ক্লান্ত সন্ধ্যায়
সে নীরব প্রদীপ হয়ে জ্বলে থাকে।
তাই মানুষ ভালোবাসে—
সৌন্দর্যের জন্য নয়,
সম্পূর্ণতার জন্যও নয়।
মানুষ ভালোবাসে,
কারণ একটি হৃদয়
আরেকটি হৃদয়ের ভেতর
নিজের ঠিকানা খুঁজে পায়।
আর তখন
ভালোবাসা কোনো শব্দ থাকে না,
কোনো প্রতিশ্রুতিও নয়—
সে হয়ে ওঠে
দুটি আত্মার মাঝখানে
নিভৃতে জ্বলে থাকা
এক অনন্ত প্রদীপ।
হয়তো সেই প্রদীপের আলোতেই
মানুষ বারবার
মানুষকে ভালোবেসে ফেলে।