ভালবাসার লক্ষণ – সুপ্রিয় রায়

আমাদের সবার চারপাশে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে যার মধ্যে রয়েছে-  নির্লোভ ও পরোপকারী মানুষ (যারা অন্যের উপকার করতে ভালোবাসে, বিনিময়ে কিছু চায় না।), নিরপেক্ষ ও উদাসীন মানুষ (যারা কোনো কিছুর প্রতি বেশি আগ্রহী নয়, নিজের মতো থাকতেই ভালোবাসে।) , হিংসুক ও ঈর্ষাপরায়ণ মানুষ (অন্যের উন্নতি সহ্য করতে পারে না এবং সবসময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করে।) , মিষ্টভাষী কিন্তু ছলনাময়ী মানুষ (সামনাসামনি মিষ্টি কথা বলে, কিন্তু পেছনে কৌশলে ক্ষতি করার চেষ্টা করে।) , আত্মবিশ্বাসী ও নির্ভীক মানুষ (যারা সৎ ও দৃঢ়চেতা, নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকে।) , অন্যের উপর নির্ভরশীল মানুষ (নিজের কাজ নিজে করতে চায় না, সবসময় অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভর করে।),উদ্যমী ও পরিশ্রমী মানুষ (যারা জীবনে সফলতার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে।) , মিথ্যাবাদী ও প্রতারক মানুষ (যারা নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য সত্য লুকায় এবং মিথ্যা বলে। এরা সাধারণত নিজের সুবিধার জন্য অন্যকে ঠকাতে দ্বিধাবোধ করে না।) , সংঘাতপ্রিয় বা ঝগড়াটে মানুষ (সব বিষয়ে ঝগড়া করতে পছন্দ করে এবং সমস্যা তৈরি করে।) ,  ও দয়ালু ও সহানুভূতিশীল মানুষ ( যারা অন্যের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারে এবং নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে।)  ।  এতসব মানুষের মধ্য থেকে সম্পর্ক তৈরি করতে আমাদের বেছে নিতে হয় সেই সব মানুষকে যারা আমাদের ভালবাসে বা পছন্দ করে । যে কোন সম্পর্কে যদি ভালবাসা না থাকে তাহলে সেটা অচল পয়সার সমান । আমাদের যারা ভালবাসে তাদের চিনতে যদি ভুল হয় তাহলে অবশ্যই আমরা একটা ভাল সম্পর্ক হারাবো ।      

তাই এত বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে পারি যে কেউ কাউকে ভালোবাসলে , তা বোঝার জন্য কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায় সেটা যে উপলব্ধি করতে পারে সেই বুঝতে পারে যে তাকে কেউ সত্যি ভালবাসছে কিনা । সে ভালবাসা প্রেমিক – প্রেমিকার মধ্যে হতে পারে , পারিবারিক বন্ধন হতে পারে আবার বন্ধুতের মধ্যেও হতে পারে । কেননা , স্নেহ, মায়া, মমতা আর ভালোবাসার  মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যদিও প্রতিটি অনুভূতি আলাদা প্রেক্ষাপটে প্রকাশ পায় এবং তাদের গভীরতা ও সম্পর্কের ধরন ভিন্ন হতে পারে। তবে এক কথায় বলা যায়, ভালোবাসার মধ্যেই স্নেহ, মায়া ও মমতা অন্তর্ভুক্ত। ভালোবাসা, এটি হোল সবচেয়ে গভীর এবং আবেগপ্রবণ অনুভূতি। ভালোবাসার মধ্যে দায়িত্ব, অনুভূতি, ত্যাগ ও নিবেদন থাকে। আবার বলি এটি শুধু রোমান্টিক সম্পর্কেই নয়, পরিবার, বন্ধুত্ব বা মানবতার প্রতিও থাকতে পারে।

তবে ভালোবাসা প্রকাশের ধরন ব্যক্তিভেদে অবশ্যই ভিন্ন হতে পারে। শুধু মুখে প্রকাশ করলেই ভালবাসা হয় না । কেউ কাউকে ভালবাসে কিনা তার কিছু লক্ষণ আমাদের মত করে নীচে দিলাম যারা পরখ করতে চায় করতে পারো। যদি দেখো মিলছে না তাহলে ধরে নিও আমাদের লেখা ধ্রুব সত্য না ।

ভালবাসার লক্ষণ –

–  সে কি তোমার ছোটখাটো বিষয়েও খেয়াল রাখে?

২- ব্যস্ততার মাঝেও তোমার জন্য সময় বের করে ।

৩- তোমার সুখ-দুঃখ, চিন্তা-ভাবনা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কি না, সেটা একটা বড় লক্ষণ।
৪ -সে কি তোমার বলা কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে? তোমার কথায় গুরুত্ব দেয়?
৫ – অতিরিক্ত সন্দেহ নয়, কিন্তু তোমাকে নিয়ে অন্য কেউ কিছু বললে বা করলে একটু সংবেদনশীল হয়ে ওঠে কি?
৬– ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সে কি তোমাকে অন্তর্ভুক্ত করে?
৭ – তুমি যদি কিছু করতে চাও, সে কি তোমার পাশে দাঁড়ায়?
৮ – তোমার আনন্দে সে আনন্দিত হয় কিনা , আবার তোমার কষ্টে সে কষ্ট পায় কি ?

৯ – তোমার শরীরের ব্যাপারে সে যত্নশীল কিনা ?

১০ – ভালোবাসার সম্পর্ক মানেই সব বিষয়ে একমত হওয়া নয়, অনেক সময় যদি মতের অমিল বড় হয়ে যায়, তাহলে ভালোবাসার মানুষরা সাময়িকভাবে একটু দূরে থাকে বা চুপ করে যায়, যাতে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং ভুল বোঝাবুঝি না হয়।

Leave a comment