ভবিষ্যতের জন্য সোনার গয়না – সুপ্রিয় রায়

যখন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা একদমই উন্নত ছিল না তখন মেয়েদের বিয়েতে তাদের ভবিষ্যত নিরাপত্তার  জন্য সোনার গয়না দেওয়া হতো । আসলে, “মেয়েদের ভবিষ্যতের জন্য সোনার গয়না দেওয়া”—এই রীতি এসেছে এক সময়কার বাস্তবতা থেকে। তখন ব্যাঙ্ক, ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান, সঞ্চয়পত্র এসবের অস্তিত্ব ছিল না বা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। তাই সোনা ছিল একমাত্র সহজলভ্য, সঞ্চিত এবং জরুরি সময়ে কাজে লাগার মতো নিরাপদ সম্পদ।

কিন্তু আজকের দিনে যখন:

  • ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা অনেক বেশি শক্তিশালী,
  • মেয়েরাও স্বাবলম্বী হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষমতা রাখে,
  • বিনিয়োগের নানা আধুনিক মাধ্যম আছে (এফডি, মিউচুয়াল ফান্ড, ইত্যাদি),
  • এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, একটি সম্পর্কের ভিত্তি সুরক্ষা নয়, সমতা হওয়া উচিত—
  • এছাড়া ভারী সোনার গয়না ঘরে রাখা বা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করা  মোটেও নিরাপদ নয়। কারণ চুরির ভয় সবসময় থাকে। 

তখন শুধুমাত্র ঐতিহ্যের খাতিরে সোনা দেওয়া কি জরুরি, সেটা ভাবার সময় এসেছে।

আমাদের মতে যদি মেয়েটি সোনার গয়না পছন্দ করে বা তার ব্যক্তিগত চাহিদা থাকে, তাহলে কিছু সোনার গয়না দেওয়া যেতেই পারে । কিন্তু শুধু সমাজের চাপে, কিংবা “ভবিষ্যতের নিরাপত্তা”র নামে বাধ্য হয়ে দিলে, সেটা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি একরকম দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার মতো। আজকের দিনে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা মানে কেবল সোনা নয়— বরং শিক্ষা, দক্ষতা, আর্থিক স্বাধীনতা এবং মনস্তাত্ত্বিক সমর্থন এগুলোই আসল।

Leave a comment