একটি ওয়েবসাইট আসল (genuine) নাকি ভুয়া (fake) তা চেনার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ রাখতে হবে – সুপ্রিয় রায়

১) সাইবার অপরাধীরা পরিচিত ব্র্যান্ডের নামের সামান্য হেরফের ঘটিয়ে ‘ডোমেন হোস্টিং’ সংস্থার কাছ থেকে নতুন ওয়েবসাইট কিনে ফেলছে। ওই পরিচিত ব্র্যান্ডের মতোই অবিকল ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলছে তারা। তার পরে ওই ওয়েবসাইটের লিঙ্ক মেল করে দিচ্ছে বিভিন্ন জনকে। যদি দেখেন আপনার মেলবক্সে অচেনা কোনও আইডি থেকে লিঙ্ক পাঠানো হয়েছে, তা হলে তা ক্লিক করবেন না। যতই প্রলোভন দেখানো হোক, ইমেলে অজানা আইডি থেকে আসা কোনও ওয়েবসাইটের লিঙ্ক খোলা উচিত হবে না।

২) যে সাইটটি খুলছেন, তার ইউআরএল-এ ‘এইচটিটিপিএস’ আছে কি না, দেখতে হবে। কোনও ওয়েবসাইটে যদি ‘এইচটিটিপি’-র সঙ্গে ‘এস’ না থাকে, তা হলে বুঝতে হবে, সেই ওয়েবসাইটটি ভুয়ো।

৩) আর্থিক লেনদেন করার আগে ওয়েবসাইটটি ভুয়ো কি না তা দেখতে ইমেলে আসা লিঙ্কটি গুগ্‌লে সার্চ করলেই বোঝা যাবে। গুগ্‌লে ওই ওয়েবসাইটের নামের বানান ঠিক আছে কি না প্রশ্ন করবে। কিছু প্রশ্ন করা মানেই সেই ওয়েবসাইটটি সন্দেহজনক।

৪) ভুয়ো ওয়েবসাইটের ইউআরএলে ভুল বানান, স্মাইলি বা কোনও সাঙ্কেতিক চিহ্ন থাকতে পারে। সেটা দেখে নিতে হবে।

৫) এমন অনেক ওয়েবসাইট দেখবেন, যেখানে মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনলাইনে হোটেল বুকিং বা কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সাইট সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজতে গেলে এমন মোবাইল নম্বর দেওয়া ওয়েবসাইট পাবেন। সেগুলি বেশির ভাগই ভুয়ো। সাইবার অপরাধীরা তাদের অ্যালগরিদ্‌ম দিয়ে এমন নম্বর গ্রাহকদের চোখের সামনে রাখেন, যাতে নম্বরটিতে ফোন করলেই তাদের পাতা ফাঁদে পা দিতে পারেন গ্রাহকেরা।

জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সতর্ক করে জানাচ্ছে, এখন মোবাইলেই টাকাপয়সার লেনদেন বা অনলাইন শপিং বেশি হয়। আর মোবাইলের ছোট স্ক্রিনে কোনও ওয়েবসাইটের ইউআরএল দেখা বা তার বানান পরীক্ষা করার মতো ধৈর্য কারও থাকে না। আর সেই সুযোগটাই নিচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। তাই মোবাইলে কেনাকাটা বা নেট ব্যাঙ্কিং করার সময় সতর্ক থাকতে হবে।

১. URL ভালোভাবে পরীক্ষা করুন

  • সঠিক ডোমেইন আছে কিনা দেখুন: জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের নাম নকল করে কিছু ভুয়া সাইট তৈরি হয়, যেমন— facebook.com এর পরিবর্তে faceboook.com বা fb-login.xyz
  • HTTP বনাম HTTPS: নিরাপদ ওয়েবসাইটে HTTPS থাকবে। HTTP থাকলে সাবধান হোন, বিশেষ করে যদি এটি পেমেন্ট বা ব্যক্তিগত তথ্য চায়।

২. ওয়েবসাইটের ডিজাইন ও বানান পরীক্ষা করুন

  • পেশাদার ওয়েবসাইটে সাধারণত ভালো ডিজাইন ও স্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করা হয়।
  • বানান বা ব্যাকরণগত ভুল থাকলে সেটি সন্দেহজনক হতে পারে।

৩. ওয়েবসাইটের “About Us” ও “Contact” পেজ চেক করুন

  • বৈধ ব্যবসার ওয়েবসাইটে সাধারণত তাদের ঠিকানা, ফোন নম্বর ও ইমেইল দেওয়া থাকে।
  • যদি “Contact Us” পেজে শুধু ফর্ম থাকে কিন্তু কোনো ফোন নম্বর বা ঠিকানা না থাকে, তাহলে সন্দেহজনক হতে পারে।

৪. ডোমেইন বয়স ও মালিকানা যাচাই করুন

  • Whois Lookup বা ICANN Lookup এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটের রেজিস্ট্রেশন তারিখ ও মালিকানা চেক করতে পারেন।
  • নতুন ডোমেইন (১-২ মাসের পুরানো) হলে এবং বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটের মতো দেখায়, তবে সতর্ক থাকুন।

৫. রিভিউ ও ফিডব্যাক দেখুন

  • ওয়েবসাইট সম্পর্কে Google, Trustpilot, Reddit, বা Facebook Reviews দেখে নিন।
  • যদি খারাপ রিভিউ বেশি থাকে বা কোনো রিভিউ না থাকে, তাহলে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

৬. ভুয়া অফার ও ক্লিকবেইট লিংক এড়িয়ে চলুন

  • “আপনি লটারি জিতেছেন” বা “এই অফার শুধু আজকের জন্য”— এমন দাবি থাকলে সেটি প্রায়ই স্ক্যাম হয়ে থাকে।
  • সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করে, আগে যাচাই করুন।

৭. ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা টুল ব্যবহার করুন

সংক্ষেপে:

✅ URL ও HTTPS চেক করুন
✅ ভালো ডিজাইন ও বানান ঠিক আছে কিনা দেখুন
✅ ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য আছে কিনা যাচাই করুন
✅ Whois Lookup দিয়ে ওয়েবসাইট মালিকানা ও বয়স দেখুন
✅ বিশ্বস্ত সূত্রে রিভিউ খুঁজুন
✅ অতিরিক্ত লোভনীয় অফার এড়িয়ে চলুন
✅ Google Safe Browsing ও Virustotal দিয়ে স্ক্যান করুন

Leave a comment