তাজা শাক সবজি, মাছ, মাংস চেনার উপায়

সবজি আসল না নকল গন্ধ দিয়ে চিনুনঃ

সব রকমের সবজির নিজস্ব গন্ধ থাকে। কেনার সময় গন্ধ/সুগন্ধ পরীক্ষা করুন। প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে ওঠা সবজির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যযুক্ত গন্ধ থাকে যা সাহায্য করবে আপনাকে আসল নকল বোঝার জন্য। আম কেনার সময় অনেকেই গন্ধ শুকে কেনেন সতেজতা পরীক্ষা করার জন্য। একই ভাবে, সবজি যেমন ক্যাপসিকাম, বাঁধাকপি, লঙ্কা, লেবু, গাজর, বিট, কড়াইশুঁটি ইত্যাদি সহ সব সবজি কেনার সময় গন্ধ নিয়ে দেখুন। কোন গন্ধ যদি না পান জানবেন নকল।

হাতে নিয়ে সবজির টেক্সচার দেখুনঃ

শাকসবজি এবং ফল কেনার সময়, তাদের টেক্সচারটি ঘনিষ্ঠভাবে অনুভব করুন। স্পষ্ট ভাবে মসৃণ এবং চকচকে আপেল মানে এটি প্রাকৃতিক নয় এবং এটি প্রাকৃতিক হলেও এটি মোম করা হয়েছে। মনে রাখবেন যে প্রাকৃতিক ফল এবং সবজির নিজস্ব গঠন আছে। মসৃণ চকচকে হয় না। প্রাকৃতিক ভাবে চাষ করা সবজি খসখসে হয়।

সবজিতে কোন ছিদ্র আছে কিনা দেখুনঃ

স্পর্শ এবং গন্ধের পরে, আপনার শাক সবজি বা ফলের মধ্যে কোনও ছিদ্র আছে কিনা তা দেখুন। কারণ এই জাতীয় কোনও গর্ত ফলের মধ্যে কৃমি বা পোকামাকড়ের উপস্থিতি নির্দেশ করে। যার অর্থ হল ফলগুলি জৈব এবং আসল। একদম পরিষ্কার চকচকে খুবই কম হয়। সব চকচকে জিনিস যেমন সোনা নয় তেমন সব চকচকে সবজি আসল না।

সবজি আসল না নকল জল দিয়ে পরীক্ষা করুনঃ

কেনার পরে, শাক-সবজি ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। তারপর শাক-সবজি ভিজিয়ে রাখুন জলে। সবজিতে কোনো রঙ করা হয়েছে কিনা তা জানতে এটি আপনাকে সাহায্য করবে। যদি রঙ থাকে তবে অবশ্যই এটি জলে বেরিয়ে যাবে সবুজ শাক সবজির ক্ষেত্রে মনে রাখবেন তা জলে কোলোরোফিল ছাড়ে যা জলকে হালকা সবুজ রঙ দেবে। কিন্তু গাজর, মুলো, বিট, বেগুন অন্যান্য রঙের সবজির ক্ষেত্রে যদি সামান্য হলেও রঙ ছাড়ে তাহলে এগুলো নকল। ভালো করে শাক সবজি পরিষ্কার করে নেবেন সেক্ষেত্রে।

আগুনে পরীক্ষা করে দেখুনঃ

পাতা জাতীয় শাক সবজি যেমন- বাঁধাকপি, ফুলকপি, যেকোনো শাক নকল কিনা জানতে হলে একটা পাতা ছিঁড়ে আগুনে ধরুন। যদি আসল হয় তাহলে পুড়ে যাবে নকল হলে পুড়বে না। এভাবেও সবজি আসল নকল কিনা চেনা যায়।

 যে কোন শাক কেনার সময় খেয়াল করতে হবে শাকের পাতায় ছোট/বড় ছিদ্র বা দাগ আছে কি’না। থাকলে কেনা হবে না। দাগে ছত্রাকের কোটি কোটি স্পোর থাকে। আর ছিদ্র হয় কীটপতঙ্গের কারণে। কোন কোন মহিলা শহরের খুবই নোংরা জায়তে জন্সানো শাক তুলে নিয়ে বিক্রি করতে আসে। এতে ক্রিমির ডিম থাকতে পারে। ফলে সংক্রমণে আশংকা থাকে। এগুলো কেনা ঠিক না। কিনলে বেশি পানি দিয়ে খুব বেশি ধৌত করতে হবে।

২। আলুর গা মশৃণ কিনা। থাকলে কেনা যাবে। দাউদের মতো দাগ থাকলে-কেনা যাবে না। বুঝতে হবে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক আছে।

৩। লেবু কেনার সময় আলুর মতই। গোলাকার দাউদের মতো দাগ থাকলে কেনা যাবে না। এটা ক্যাঙ্কার রোগ। লেবুর তলায় পাক থাকতে লেবুতে রস বেশি হয়। কাগজি লেবুর স্বাদ বেশি। এ লেবু সাধারণত গোলাকার হয়।

৪। বেগুন বাজারে স্বাভাবিক দামের চেয়ে যদি কোন দোকানে কম দামে পান তবে প্রাথমিকভাবে বুঝতে হবে পোকা বেশি আছ। এক্ষেত্রে কিনলে একটা একটা করে বেছে নিতে হবে। তবে তারপরেও নিশ্চয়তা নেই। বেগুনের গায়ে বাইরে থেকে ছিদ্র না থাকলেও ভিতরে পোকা থাকতে পারে। কারণ পোকার জীবনচক্রে শুককীট পর্যায়ে বেগুনে গা ছিদ্র করে ভিতরে ঢোকে। এই ছিদ্র কখনো থাকে, আবার কখনো বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু পোকা ভিতরেই থেকে যায়। ফলে বুঝা মুশকিল হয়ে যায় বেগুনে পোকা আছে কিনা। তবে সাধারণভাবে ধরে নিতে হয় বেগুনের গায়ে ছিদ্র না থাকলে বেগুন ভালো আছে। তারপর ভাগ্য।

৫। পটলের বোঁটা দেখে বুঝতে হবে পটল টাটকা কিনা। টাটকা হলে বোঁটা শুকনো বা পঁচা থাকবে না। যত বেশি শুকনো তত বাসি।

৬। ঝাল কাঁচা মরিচ কিনবেন ? মরিচের মাথা সামান্য একটু ভেঙে জিহ্বায় আলতো করে ঠেকান। সঙ্গে সঙ্গে যদি অসহনীয় জ্বালা হয় তবে ঝাল। আর জ্বালা হতে একটুও দেরি হলে কম ঝাঁল।

৭। লাউ-কুমড়া, বরবটি, কাঁকরোল, ঝিঙা, চিচিংগা, শশা প্রভূতি কচি হওয়া দরকার। অন্য কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখা তেমন জরুরী নয়।

৮। গরুর বা খাসির মাংস কেনার সময় সামান্য কলিজা সহ বিভিন্ন অংশ থেকে একটু একটু করে আপনার প্রয়োজনীয় পরিমাণ কিনবেন। তাতে স্বাদ বেশি হয়। বাজারে আগে যাওয়া দরকার। অথবা একটা গরুর মাংস বিক্রি শেষ হলে কসাইরা অন্য গরুর মাংস দোকানে আনে। তখন কিনতে হবে। শুকনো মাংস না কেনাই ভালো।

৯। খুব বড় মাছ মরা কেনা কম নিরাপদ। এ ধরনের মাছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রিজাভেটিভ থাকে।

তাজা মাছ চেনার একমাত্র উপায় হলো মাছের চোখ। যতই ফরমালিন দেওয়া হোক না কেন, তাজা মাছের চোখ দেখলেই তা বুঝতে পারবেন। ফরমালিনের কারণে মাছের চোখ হয়ে যায় ফ্যাকাসে, ঘোলাটে। সেক্ষেত্রে তাজা মাছের চোখ থাকে একদম জীবন্ত আর স্বচ্ছ। তাই মাছের চোখ দেখেই চিনে নিন তাজা মাছ ।

তাজা মাছ থাকবে একদম টাটকা। মাছ কেনার সময় চাপ দিয়ে যদি লক্ষ করেন যে মাছ শক্ত তাহলে বুঝবেন, এটি ফ্রিজে রাখা মাছ । আর যদি মাছ চাপ দেওয়ার পর নরম দেখায়, তাহলে বা একদম ভেতরে চলে যায়, তাহলে বুঝবেন পচে গেছে মাছ, আর টাটকা হওয়ার তো কথাই নেই। আর তাজা মাছ সব সময়ই চাপ দিয়ে দেখলে একটু নরম মনে হবে। যা খুবই সামান্য, তখন বুঝবেন এটি তাজা মাছ।

তাজা মাছের কানকো থাকবে একদম রক্ত কালার, একটু পিচ্ছিল রকমের। কিন্তু এখন মাছ ব্যবসায়ীরা এই কানকো তেও ব্যবহার করছে লাল রঙ তাই বুঝার উপায় থাকে না। তাই এই কানকো না দেখেই মাছ কেনা ভালো।

তাজা মাছ থাকবে একদম চকচকে রুপালি রঙের। ফরমালিন ব্যবহার করলে হবে অন্যরকম রঙ। বিশেষ করে সুপার শপগুলোতে দেখা যায় অনেক দিনের পুরানো মাছ। কেননা তাদের মাছের গায়ের রঙ থাকে হলদেটে টাইপের। যা কিনা অনেক দিনের পুরনো মাছ ।তাই ভালো ভাবে দেখে বুঝে কিনতে হবে মাছ।

বাজে গন্ধ ছড়ানো মাছ কেনা থেকে দূরে থাকুন। কেননা তাজা মাছের গন্ধ হয় স্বচ্ছ পানির মতো বা অনেক টা শসার রসের মতো। আর যদি মাছ সমুদ্রের হয়ে থাকে,তাহলে এক্ষেত্রে মাছের গন্ধ হবে সমুদ্রের ।

চিংড়ি মাছ তাজা চেনার উপায় এক্ষেত্রে ভিন্ন। চিংড়ির তাজা ভাব চেনা যায় এর খোসা দেখে। খোসা যদি মোটা হয় এবং একটু ক্রিসপি টাইপ হয়, তাহলে তাজা। নরম খোসাওয়ালা চিংড়ি মাছ ভালো হয় না।

জিয়ল মাছসহ অন্য মাছ যেমন শিং, মাগুর, শোল ইত্যাদি কিনার ক্ষেত্রে ও সতর্কতা মেনে চলুন। যে মাছ ট্রেতে লাফালাফি করবে বা জীবিত সেই মাছই কিনবেন। ভেতর থেকে বেড় করে দেওয়া মাছ তাজা হয় না। তাই এই রকম মাছ কেনা থেকে দূরে থাকুন।

এই কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখলে তাহলে আর মাছ বিক্রেতারা আপনাকে ঠকাতে পারবে না। ফলে আপনিও ভালো, তাজা মাছ কিনতে পারবেন।

১। মাছ
প্রথমত বাজারে ফরমালিন যুক্ত মাছও রয়েছে যেগুলো বহুদিন আগের তাই, মাছ কেনার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন মাছের আঁশ উজ্জ্বল আছে কিনা। পাশাপাশি মাছের চোখ কতটা পরিষ্কার আছে সেটা দেখেও বোঝা যায় সেটি কতটা তাজা আর বহুদিন আগের কিনা।

২। কলা
কোনরকম ফরমালিন দেওয়া ছাড়া কলা কিছু দাগসহ উজ্জ্বল হলুদ রংয়ের হয়ে থাকে ৷ আর যদি সেটা বেশি নরম কিংবা বাদামি রংয়ের হয়ে যায়, তাহলে না কেনাই ভালো৷ তবে হলুদের ওপর কিছুটা সবুজের আভা থাকলে ভয়ের কিছু নেই। এরকম কলা দুয়েকদিনের মধ্যেই খাবার উপযোগী হয়ে যাবে।

৩। কমলা
কমলা কেনার সময় অবশ্যই কমলার রঙ এবং ঘ্রাণের দিকে খেয়াল রাখবেন। ফ্রেশ কমলা হবে উজ্জ্বল রঙের এবং ঘ্রাণ হবে মিষ্টি৷ আর যদি এই দুটির অভাব দেখেন তাহলে না কেনাই ভালো।

৪। মুরগি
মুরগির মাংস কেনার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন সেটা থেকে কোনো ধরনের দুর্গন্ধ আসছে কিনা৷ দুর্গন্ধ আছে এবং যে বক্সে রাখা হয়েছে তার নিচের দিকে তরলের আধিক্য থাকলে সেই মুরগির মাংস না কেনাই ভালো।

৫। পেঁয়াজ
পেঁয়াজের গঠন সুন্দর হলে এবং লেয়ারে দাগ কিংবা চিড় না থাকলে সেটা ভালো। তবে প্রথম লেয়ারের ভেতরের দিকটা যদি বিবর্ণ মনে হয়, তাহলে সে পেঁয়াজ না কেনাই ভালো।

৬। রেড মিট
এছাড়াও মাংসের দোকানে গেলেই আপনি খেয়াল রাখবেন লাল মাংস সাধারণত গরু বা খাসির মাংসকেই বুঝানো হয়। এই মাংস যদি দেখতে কিছুটা বাদামি হয়ে যায় এবং পিচ্ছিল হয় তাহলে না কেনাই ভালো।

Leave a comment