রোবো-রাঁধুনি বা স্মার্ট শেফ – সুপ্রিয় রায়

দুদিন আগে সকালে ছোট ছেলের বাড়িতে একটা দারুণ ঘটনা ঘটল। বাড়িতে এল একেবারে নতুন অতিথি — কোনো মানুষ নয়, একটা বুদ্ধিমান মেশিন! দেখতে একেবারে চকচকে, আধুনিক, যেন রান্নাঘরের রাজা।

ছেলে হাসতে হাসতে ওর মাকে বলল,

— “মা, এই মেশিনটা কিন্তু তোমার মতোই রান্না করতে পারে!”

আমি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারলাম না। রান্না আবার মেশিন করবে নাকি! কিন্তু সত্যি, এটা একেবারে জাদুর মতো কাজ করে। শুধু মেশিনকে বলতে হবে কি খাব এবং কতজন খাবে । সঙ্গে সঙ্গে মেশিন জানিয়ে দেবে রান্নায় কী কী লাগবে, কতটা করে লাগবে।

তেল, মশলা, জল — সব রাখার জন্য আলাদা আলাদা জায়গা আছে। আমাদের শুধু সেই কন্টেনারগুলোতে জিনিসগুলো ভরে রাখতে হবে । আর মেশিন নিজেই বলে দেবে — “কোনটা কোন কন্টেনারে দিতে হবে ।”

চারটে বড় কন্টেনার আছে সবজি বা উপকরণের জন্য, আর একটা ছোট্ট ওজন মাপার যন্ত্র আছে , যাতে ঠিক পরিমাণে ওজন মেপে জিনিস দেওয়া যায়।

সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গেলে মেশিনকে নির্দেশ দিতে হবে ,

— “রান্না শুরু কর । ”

আর সাথে সাথেই মেশিন টুং টাং আওয়াজে নিজের মতো রান্না শুরু করে দেবে এবং জানিয়ে দেবে রান্নায় কত গ্রাম কার্বোহাইড্রেট , কত গ্রাম প্রোটিন আর কত গ্রাম ফ্যাট আছে । সর্বোপরি রান্না শেষে জানিয়ে দেবে , “এই খাবারে আছে এত ক্যালরি।” এমনকি মেশিন আগেই বলে দেবে, পুরো রান্না হতে কত সময় লাগবে।

সবচেয়ে মজার বিষয় — আমরা চাইলে নির্দেশ দিতে পারি, “ঝালটা একটু কম করো”,“লবণটা একটু বাড়াও বা আমার মনের মতো মশলা দিয়ে রান্না করো।” মানে একেবারে নিজের ইচ্ছেমতো স্বাদ!

এক কথায়, এটা এক অসাধারণ রান্নার রোবট।শুধু স্বাদে নয় , স্বাস্থ্যকরও ।

আর জানো, সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়? এই মেশিনটা তৈরি করেছে ভারতীয়রা! তাই মনে হচ্ছিল যেন নিজের দেশের মানুষই বড় গর্বের একটা কাজ করে ফেলেছে।

সেদিন মেশিনটা প্রথম রান্না করল — আলু ভাজা ও চিলি পনির ।

ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল এমন এক গন্ধ, মনে হচ্ছিল যেন লিপিকার হাতেরই রান্না।এছাড়া ঘরে আগে থেকে কিছু রান্না করা ছিল, তাই আর ওদিন আর কিছু রান্না করতে বলা হোল না ।

লিপিকা খুব নিশ্চিন্ত হয়ে বলল – ‘যতদিন আমরা আছি ততদিন ভালমন্দ রান্না করে তো ছেলেকে খাওয়াতে পারছি কিন্তু এরপর আমরা চলে গেলেও ছেলেটা নিজের ইচ্ছা মতো স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারবে আর একদিকে যখন রান্না হতে থাকবে , ছেলে তখন অন্য কাজও করতে পারবে’।

সত্যি আজ প্রযুক্তি আর অনুভূতির এই সুন্দর মেলবন্ধনে এক দারুন অভিজ্ঞতা হোল

27 thoughts on “রোবো-রাঁধুনি বা স্মার্ট শেফ – সুপ্রিয় রায়

  1. Dipanwita Ganguly

    আরে সুপ্রিয় দা তুমি এত অসাধারণ রিলে করলে তোমাকে কুর্নিশ জানাই।

    এবার হলো এর এই সুন্দর মেশিনটা দেখে সত্যিই আমিও অনেকক্ষণ ধরে তোমাদের এই ভিডিওটা দেখছিলাম ছোট ছেলে এত সুন্দর একটা মেশিনে আমাদের সবাইকে একেবারে টাক লাগিয়ে দিল। আর তো কোন চিন্তাই নেই তুই নিশ্চিন্ত লিপি

    Like

  2. Aparajita Sengupta

    এমন অভিনব রোবট রাঁধুনি দেখে যারপরনাই খুশি হলাম। এখন তোমরা নতুন নতুন যা ইচ্ছে রান্না করে খাও।একেবারে যুগোপযোগী এই মেশিন ।টুবাই তো দারুণ উৎসাহে রেসিপি বানাচ্ছে। 👍👌

    Like

  3. Ratnabali Chatterjee

    আপনাদের এই ভ্রমণের দৌলতে অনেক নতুন অভিজ্ঞতার শরিক হয়েছি আমরা

    তবে সবচয়ে ইউনিক অভিজ্ঞতার শরিক হলাম এই লেখাটা পড়ে।রোবট রাঁধুনির রান্নার স্বাদও টি একদম মায়ের হাতের রান্নার মতো?

    Like

  4. Uttam Dey

    দারুন ব্যাপার, মিসেস কোনো কারণে রান্না করতে না পারলে, কয়েক দিন চালিয়ে নেওয়া যাবে!! 👍

    Like

Leave a comment