সার্থক – Good morning সাথী । তোমার মুখধোয়া হয়ে গেছে ?
সাথী – Good morning হ্যাঁ হয়ে গেছে । কি ব্যাপার, হটাৎ Good morning ? এখন তো অফিস নেই , রিটায়ার্ড করেছো । তা এত সকাল সকাল উঠলে কেন ?
সার্থক – না মানে আমি তো এখন অবসর গ্রহণ করেছি । তাই ভাবলাম সংসারের কাজে এখন থেকে তোমাকে একটু সাহায্য করবো ।
সাথী – তা বেশ তো । তা তুমি কি করতে চাও ?
সার্থক – এই চা দিয়ে শুরু করছি । আজকের চাটা আমি বানাচ্ছি ।
সাথী – ওরে বাবা আবার চা ! মনে আছে তোমার ওই “মসলা চা” খেয়ে আমার পেট ব্যথা হয়েছিল ।
সার্থক – ওটা তো শুরুতে একটু বেশি এলাচ পড়ে গেছিল! এবার ইউটিউবের রেসিপি দেখে বানাচ্ছি , এবার দেখো কী বানাই।
সাথী – খুব ভাল । ঠিক আছে বানাও । তা চা হয়নি এখনো ?
সার্থক : (উৎসাহী হয়ে) আজ তোমার জন্য আমি “আদা-দারচিনি চা” বানাচ্ছি ।
সাথী – তাই নাকি ! তা তোমার এই আদা-দারচিনি চা বানাতে কত সময় লাগবে ?
সার্থক : আরে, চা বানানো হচ্ছে আর্টের মতো, সময় একটু লাগে।
সাথী – (ঠাট্টা করে) তাই নাকি ! চা তো আর মোনালিসা না যে আঁকতে সময় লাগবে।
সার্থক – খুব ঠাট্টা করছো , তাই না ? এবার খেয়ে দেখো কেমন বানিয়েছি ?
সাথী – কই দাও , দেখি ।
সার্থক – এই নাও ,খেয়ে কেমন হয়েছে বল ।
সাথী – (নাকে হাত দিয়ে) এটা চা বানিয়েছ , না সুগন্ধি মশলার বিজ্ঞাপন করছো ।
সার্থক – আরে বাবা শিল্প বোঝা সবার কম্ম নয়।
সাথী – সত্যি বলব এটা চা হয়নি , দারচিনির স্যুপ হয়েছে ।
সার্থক : (গর্ব করে) এই চাটাকে কি বলে জান ?
সাথী – তা কি বলে শুনি ?
সার্থক – স্পেশাল দারচিনি ফ্লেভারড টি।
সাথী : (ঠাট্টা করে) তুমি ফ্লেভার বাড়াতে গিয়ে বেশী দারচিনি দিয়ে চায়ের স্বাদটাই তো নষ্ট করে দিয়েছ ।
সার্থক – তাই নাকি , দেখি তো কেমন বানালাম । ( খেয়ে দেখে ) (লজ্জা পেয়ে) ও আসলে দারচিনি একটু বেশি হয়ে গেছে।
সাথী – (হাসতে হাসতে) তার থেকে তুমি দারচিনি দিয়ে মিষ্টি পোলাও বানাও। চায়ের দায়িত্ব আমাকেই দাও।
সার্থক – তবে একটা জিনিস তো মানবে যে দারচিনি ফ্লেভারের আইডিয়া মন্দ ছিল না।
সাথী – (হাসি দিয়ে) অবশ্যই না! তুমি কেবল আইডিয়া দিয়ে যাও, কাজ আমিই করব।
সার্থক – তবে সাথী আজকের দুপুরের রান্না কিন্তু আমি অলরেডি শুরু করে দিয়েছি । ইউটিউব থেকে একটা দারুণ রেসিপি শিখেছি। নাম “মেঘালয়ের ট্রাডিশনাল চিকেন কারি”!
সাথী – (হাসতে হাসতে) মেঘালয়ের? মানে, এবার পুরো ভারতের খাবারই কি তুমি ইউটিউব দেখে ট্রাই করবে ?
সার্থক – (গম্ভীর গলায়) শিখতে চাইলে সাহস করে সব শিখতে হয়। ইউটিউব আমাদের রান্নার শিক্ষাগুরুর মতো। চুপচাপ বসে থাকো আর দেখো ম্যাজিক!
সাথী – (ঠাট্টার সুরে) হ্যাঁ, ম্যাজিক তো হবেই। শেষ পর্যন্ত আমাকে আবার ডাল-ভাত রান্না করতে না হয় ।
সার্থক – (রাগ করে) ওসব বাজে কথা বন্ধ করো তো! একবার খাবার তৈরি হয়ে গেলে, নিজের কথা নিজেই গিলে খাবে।
সাথী – (হাসতে) দেখ মেঘালয়ের রান্না তোমার কাছে আসতে আসতে যদি “মেঘের রান্না” হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু আমি কিছু বলতে আসব না।
সার্থক – (রেগে) একদম চুপ করে থাকো। এটাই আমার সেরা রেসিপি হতে চলেছে। ইউটিউবে মানুষ তো আর মিথ্যা রান্না শেখায় না।
সাথী -একটা কথা , তোমাকে কিন্তু সব কাজ নিজেকে করতে হবে। রান্নাঘর উলট-পালট করতে পারবে না ।
সার্থক – কোনো সমস্যা নেই। আমি তো ইউটিউবে “কিং অফ কুকিং” চ্যানেলের ১০০টা রেসিপি দেখেছি।(কান্না কান্না গলায় )দাড়াও দাড়াও একটু পরে কথা বলছি ।
সাথী – এ কী? পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে মনে হচ্ছে যেন তোমার ব্রেকআপ হয়ে গেছে!এত কাঁদছ কেন ? পেঁয়াজ কাটার অভিজ্ঞতা না থাকলে, আমার কাছ থেকে শিখতে পারো।
সার্থক – (বিরক্ত হয়ে) কোনো দরকার নেই। আমি নিজেই পারব।তবে
ইউটিউবে পেঁয়াজ কাটার সাইড ইফেক্টের কথা বলে দেওয়া উচিৎ ।
সাথী – (ঠাট্টা করে) আরেএটা হলো রান্নাঘরের ধৈর্যের পরীক্ষা। পেঁয়াজ কাটার এই কষ্টের নামই তো রান্নার রোমাঞ্চ।
সার্থক – রোমাঞ্চের কি দেখলে ? এইবার দেখো পেয়াজগুলো কিরকম কায়দা করে তেলে ছাড়ছি ।
সাথী – আরে, আরে, এত ধোঁয়া কেন?এটা কি মেঘালয়ের খাবার নাকি মেঘের কারখানা?
সার্থক – (বিরক্ত হয়ে) দেখো আমার মনোযোগ নষ্ট কোর না । এটা আমার আজকের রেসিপির গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
সাথী – (হতবাক) কী করছ তুমি? রান্না করছ নাকি ধোঁয়া উৎসব আয়োজন করছ?
সার্থক – (বিরক্তি চেপে) এটা আমার নতুন স্টাইল। রান্নাটার টেস্ট হবে স্মোকি স্মোকি ।
সাথী – (মজা করে) তার মানে তুমি আজকে বারবিকিউ মুরগি বানাচ্ছ , তাই তো !
সার্থক – যা মজা করার করে নাও । এখনই তোমাকে ঝোলটা টেস্ট করতে দিচ্ছি । আমি জানি একবার খেলে আমাকে সেফের মর্যাদা দিতে বাধ্য হবে । ( যেন চামচে করে ফু দিতে দিতে ঝোলটা দেয় ) এই নাও খেয়ে দেখো কেমন হয়েছে , দাড়াও একটু ফু দিয়ে ঠাণ্ডা করে দিই ।
সাথী – দাও, দাও দেখি ( বলে সাথী চুমুক দেয় )
সার্থক – (উদ্বিগ্ন) কী হলো? খুব ভালো হয়েছে, তাই না?
সাথী – হাঁ , খাবারটা এত ইউনিক হয়েছে যে, আমি নিশ্চিত, মেঘালয়ে কেউ এটা খায় না। এটা ইরানের কোনো গবেষণাগারে আবিষ্কার হয়েছে।
সার্থক – কি যা তা বলছ । এত কষ্ট করে রান্না করলাম ।
সাথী – (হাসতে হাসতে) তবে একটা কথা বলি, ইউটিউব দেখে রান্না শিখতে গেলে ভিডিওর কমেন্টগুলোও পড়তে হয়। সেখানে অনেক সাবধান বাণী থাকে।
সার্থক – মজা ছাড় । সত্যি বলোতো তোমার মতে কি বেশী হয়ে গেছে ?
সাথী – গরমমসলা কতটা দিয়েছ ?
সার্থক – এই পাঁচ – ছয় চামচ
সাথী –( অবাক হয়ে ) পাঁচ – ছয় চামচ ? আরে আমাদের দুজনের রান্নায় তো আমি গরমমসলা হাফ চামচের বেশী দিই না ।ইউটিউবে কতটা দিতে বলেছে ?
সার্থক – বলেছে পরিমান মত
সাথী – আর তুমি পাঁচ – ছয় চামচ গরমমসলা দিয়ে দিলে । আমাকে একবার জিজ্ঞেস করতে পারতে ।
সার্থক – ভাবলাম হাফ চামচ দিলেই যদি এত ভালো টেস্ট হয়, তাহলে পাঁচ – ছয় চামচ দিলে আরও ভালো টেস্ট হবে। বেশি মসলা মানে তো বেশি স্বাদ। এটাই ছিল আমার ক্যালকুলেশন।
সাথী – (ঠাট্টা করে) বাহ! তুমি তো দেখছি ইউটিউবের রেসিপি ফিজিক্সের ফর্মুলার মতো বানিয়ে ফেলছ।
সার্থক – (হাসতে হাসতে) ঠিক আছে, কাল আমি ইউটিউবে ডাল-ভাতের রেসিপি দেখে বানাব।
সাথী – ঠিক আছে, ঠিক আছে । তোমার উৎসাহ,চেষ্টা আর আমাকে সাহায্য করার ইচ্ছা দেখেই আমার ভাল লাগছে । কিন্তু পরের বার রান্নার আগে ইউটিউব দেখে যেখানেই বিভ্রান্তি হবে সেখানেই আমাকে জিজ্ঞেস করো।
সার্থক – ভাবছিইউটিউব দেখে প্রথম প্রথম সহজ রান্না করে হাতটা একটু পাকিয়ে নিই । তারপর না হয় কঠিন রান্নায় যাব ।
সাথী – তাহলে কি এবার থেকে রান্নাঘরে আমার রাজত্ব চলে গেল । রান্নাঘরে রাজত্ব করবে ইউটিউবের রেসিপি । ( দুজনেই হাসতে থাকে )