সময় বনাম মানুষ – কার জয়?”- সুপ্রিয় রায়

আমাদের জীবনে দু’ধরনের মানুষ খুব স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

এক দল আছে, যাদের ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে আত্মীয়তা। এরা এমনভাবে সময় মেনে চলে যে মনে হয় জন্মের সময়ই নার্সের হাতে ঘড়ি দিয়ে বলেছিল – “দিদি, টাইমটা ঠিক আছে তো?”
এদের জন্য কখনও অপেক্ষা করতে হয় না। বরং এরা নিজেরাই গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে—আগে আগে। আর যদি কোনোদিন এরা দেরি করে…
তাহলে ধরে নিতে হবে নিশ্চয় কোন সমস্যা!

আরেক দল আছে… এরা একেবারে বিপরীত মেরু।এদের কাছে সময় মানে একটা ‘suggestion’। মানলে ভাল, না মানলেও চলে।

এদের যদি বলা হয়—“দেখিস কিন্তু, ৫টার মধ্যে আসবি।”
ওরা খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলবে—“আরে আরে, আমি তো ৪:৫০-এই পৌঁছে যাব!”

তারপর?
৫টা বাজে…
৫:৩০ বাজে…
৬টা বাজে…
ফোন করলে উত্তর—“এই তো রাস্তায় আছি।”
(এই “রাস্তায়” যে কোন গ্রহের রাস্তা, সেটা আজও বিজ্ঞান আবিষ্কার করতে পারেনি!)

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল—এরা কখনও মনে করে না যে কেউ ওদের জন্য অপেক্ষা করছে।ওদের কাছে ওদের সময়টাই সবচেয়ে মূল্যবান।
অন্যের সময়?
ওটা যেন ‘ফ্রি ট্রায়াল’!

ধীরে ধীরে দেরি করা এদের অভ্যাস নয়, একটা শিল্প হয়ে যায়।
এরা এমন একটা জায়গায় পৌঁছে যায় যেখানে—
সময়মতো আসাটা ওদের কাছে অস্বাভাবিক লাগে!

আর কষ্টটা কার হয় জানেন?- যারা সময়কে সম্মান করে, তাদের।

ওরা দাঁড়িয়ে থাকে…
ঘড়ির দিকে তাকায়…
আশা করে…
আর শেষে ভাবে—
“আমি কি খুব বোকা নাকি?”

আসলে সমস্যা সময়ের নয়, সমস্যাটা মানসিকতার। সময়কে যে সম্মান দেয়, সে মানুষকেও সম্মান দেয়।
আর যে সময়কে পাত্তা দেয় না, সে আসলে অন্যের অস্তিত্বকেই পাত্তা দেয় না—শুধু নিজেরটাই বড় করে দেখে।

তাই একটা ছোট্ট কথা—
সময়কে ভালোবাসুন।

একবার ভাবুন তো, আমাদের এই সৌরজগৎ যদি সময় মেনে না চলত!
সূর্য যদি বলত, “আজ একটু দেরি করে উঠি”,
পৃথিবী যদি হঠাৎ ছুটি নিয়ে নিজের অক্ষে ঘোরা বন্ধ করে দিত,
চাঁদ যদি মুডের ওপর নির্ভর করে আসা-যাওয়া করত—

তাহলে?
সকালে অফিস যাওয়ার আগে আমরা হয়তো রাতেই আটকে যেতাম,
মৌসুমগুলো ক্যালেন্ডার দেখে নয়, মুড দেখে আসত,
আর পরীক্ষার দিন সূর্য না উঠলে ছাত্ররা বলত— “আজ তো দিনই শুরু হয়নি!”

মানে, পুরো সিস্টেমটাই কেমন “যখন-তখন” হয়ে যেত!

তাই না?
এই বিশাল মহাবিশ্ব যেখানে এক সেকেন্ড এদিক-ওদিক হয় না,
সেখানে আমরা যদি একটু সময় মেনে চলি—
তা হলে শুধু কাজই ঠিকঠাক হবে না,
মানুষের প্রতি সম্মানটাও অটুট থাকবে।

কারণ, সময়কে সম্মান করা মানে—
অন্যের জীবন, অপেক্ষা আর অনুভূতিকেও সম্মান করা।

Leave a comment