অন্যের চোখে জল, নিজের চোখে কেন না? – সুপ্রিয় রায়

কোন বাবা-মা মন থেকে কখনোই চান না তাঁদের সন্তানের ডিভোর্স হোক। আবার কোন সন্তানও অন্তর থেকে চায় না তার বাবা-মা আলাদা হয়ে যাক। কারণ, সম্পর্ক ভাঙার যন্ত্রণা আমরা সবাই বুঝি—কেউ কাছে থেকে, কেউ দূর থেকে, কেউ বা গল্পে-উপন্যাসে।

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপারটা হল—যখন নিজেদের জীবনের প্রশ্ন আসে, তখনই যেন সেই বোঝাপড়াটা কোথায় হারিয়ে যায়।

একজন বাবা যখন তাঁর মেয়ের ডিভোর্সের কথা ভাবেন, তাঁর বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে—“মেয়েটা কিভাবে থাকবে?”
একজন মা যখন ছেলের সংসার ভাঙার খবর শুনেন, তাঁর চোখে জল আসে—“সব ঠিক হয়ে যেতে পারত না?”

ঠিক তেমনই, একটা সন্তানও চায়—তার বাবা-মা হাসিমুখে থাকুক, একসাথে থাকুক। তাদের ঝগড়া, তাদের দূরত্ব, তাকে ভিতরে ভিতরে ভেঙে দেয়।

তাহলে প্রশ্নটা থেকেই যায়—
নিজেদের জীবনে যখন ঝড় আসে, তখন আমরা কেন সেই অনুভূতিটা মনে রাখি না?

হয়তো তখন অহংকারটা বড় হয়ে যায়।
হয়তো তখন “আমি ঠিক”—এই জেদটাই সম্পর্কের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে।
হয়তো তখন মনে হয়—“এভাবে আর থাকা সম্ভব নয়।”

কিন্তু একবারও কি আমরা ভেবে দেখি—
যে ব্যথাটা আমরা আমাদের সন্তানের জন্য কল্পনা করি,
সেই একই ব্যথা তো আমাদের সন্তানেরাও অনুভব করে আমাদের জন্য!

ডিভোর্স সবসময় ভুল নয়—অনেক সময় সেটা প্রয়োজনও হতে পারে। কিন্তু প্রশ্নটা ডিভোর্সের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়, প্রশ্নটা হল—
আমরা কি সত্যিই শেষ চেষ্টা পর্যন্ত চেষ্টা করেছি?
আমরা কি একবার নিজেদের জায়গা থেকে নয়, অপরের জায়গা থেকে ভেবে দেখেছি?

একটা সম্পর্ক ভাঙা মানে শুধু দুটো মানুষের দূরে চলে যাওয়া নয়—
তার সঙ্গে ভেঙে যায় অনেক স্বপ্ন, অনেক অভ্যাস, অনেক ছোট ছোট মুহূর্ত।

হয়তো একটু সময় দিলে,
হয়তো একটু বোঝার চেষ্টা করলে,
হয়তো একটু “আমি” কে সরিয়ে “আমরা” কে জায়গা দিলে—
কিছু সম্পর্ক বাঁচানো যেত।

শেষে একটা কথাই বলব—
যে কষ্টটা আমরা আমাদের প্রিয়জনের জন্য চাই না,
সেটা নিজের জীবনে আসার আগে একবার হলেও থামা দরকার।

কারণ সম্পর্ক শুধু ভালোবাসায় টিকে থাকে না,
টিকে থাকে বোঝাপড়া, ধৈর্য আর একটু নিজের অহংকারকে সরিয়ে রাখার ক্ষমতায়

Leave a comment