ভোট আসলেই কিছু নেতার হঠাৎ “আত্মার ডাকে” সাড়া পড়ে—
যে আত্মা পাঁচ বছর ঘুমিয়ে ছিল, সে হঠাৎ ভোটের আগেই জেগে ওঠে!
ভোট আসলেই দেশে এক অদ্ভুত ঋতু নেমে আসে—
নাম তার “দলবদল বসন্ত”!
গতকাল যিনি বলছিলেন— “এই দলই আমার আদর্শ, আমার আত্মা!”
আজ তিনি বলছেন— “দেশের স্বার্থে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হল…”
আসলে ব্যাপারটা অনেকটা এমন—
ক্রিকেটে যেমন খেলোয়াড়রা আইপিএল-এ দল বদলায়,
তেমনি নেতারাও ভোটের আগে “পলিটিক্যাল ট্রান্সফার উইন্ডো” খুলে দেন!
ভোটাররা তখন ভাবেন— “এ কি নেতা বদলালো, না কি জার্সিটাই শুধু পাল্টালো?”
আর নেতারা বলেন— “না না, আমি একই মানুষ, শুধু আদর্শের রংটা একটু পাল্টেছে!”
সবচেয়ে মজার বিষয় হল— যে দলকে গতকাল পর্যন্ত ঐ দলবদলু নেতা খুশি মতো গালাগাল দিচ্ছিলেন, আজ সেই দলই হয়ে যায় “জনগণের শেষ ভরসা”!
তাহলে ভোটের আগে দলবদল সেটা কি আদর্শের নাকি সুযোগের রাজনীতি ?
দলবদল হয়তো রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে, কিন্তু যখন তা বারবার ঘটে, তখন তা আদর্শের মৃত্যু হিসেবেই ধরা দেয়।
দলবদল এখন অনেকটা শেয়ার মার্কেটের মতো— যেখানে নেতা নিজের রাজনৈতিক মূল্য বুঝে, সুবিধাজনক জায়গায় বিনিয়োগ করেন। যে দলে জেতার সম্ভাবনা বেশি, সেখানেই হঠাৎ আদর্শের খোঁজ পাওয়া যায়।
গণতন্ত্রে ভোট শুধু একটি অধিকার নয়, এটি একটা “বিশ্বাসের ইএমআই” — পাঁচ বছর পরপর কিস্তি দিতে হয়, আর মাঝখানে শুধু “আশ্বাসের এসএমএস” আসে!
আর সেই বিশ্বাস যদি ভাঙতে থাকে ,তাহলে ক্ষতি শুধু রাজনীতির নয়— ক্ষতি আমাদের , আমাদের সমাজের , আমাদের গণতন্ত্রের ।
হয়তো সময় এসেছে প্রশ্ন করার— নেতারা দল বদলাচ্ছেন,
নাকি আমরা একই ভুলটা রিপিট মোডে চালিয়ে যাচ্ছি?
কারণ সত্যিটা হল— ভোটের আগে অনেক নেতাই বলে “আপনাদের সেবা করবো”…
আর ভোটের পরে মনে হয়— আমরাই বোধহয় তাদের “সার্ভিস” দিয়ে ফেলেছি!
তাই আজ ঐ গানটাই বারবার মনে পড়ছে — “এপ্রিল ফুল বানায়া…”
তবে পার্থক্য একটাই— আগে বছরে একদিন হত, এখন মনে হয়… কিছু কিছু মানুষ তো সারা বছরই ‘ফুল’ বানিয়ে যায়।