থাইল্যান্ডে আমাদের রঙিন অধ্যায়- সুপ্রিয় রায়

২৩ জনের দল, মাঝরাতে উড়ান, আর সামনে নতুন দেশ দেখার উত্তেজনা—এই মিশ্রণেই শুরু হয়েছিল আমাদের থাইল্যান্ড অভিযান।

গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি, রাত ২টা ৩৫ মিনিটে আমরা কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দিলাম ডিয়ার ট্র্যাভেলসের সঙ্গে। ভোররাতের বিমানবন্দরের আলাদা একটা রোমাঞ্চ আছে—চোখে ঘুম, কিন্তু মনে উচ্ছ্বাস। প্রায় আড়াই ঘণ্টার যাত্রা শেষে ব্যাঙ্ককের সকাল সাড়ে ৬টার সময় নেমে পড়লাম ব্যাঙ্ককের Don Mueang International Airport-এ।

ডিয়ার ট্র্যাভেলস আমাদের সবার জন্য আগেই Thailand Arrival Pass করে দিয়েছিল , তাই কলকাতা থেকে Check in র সময় হোটেল বুকিং বা রিটার্ন টিকিট দেখাতে হয়নি। কলকাতা আর ব্যাঙ্কক—দু’জায়গাতেই ইমিগ্রেশনে শুধু পাসপোর্ট আর বোর্ডিং পাস দেখিয়েই সহজে বেরিয়ে এলাম। থাইল্যান্ডের মাটিতে প্রথম পা রাখা—সেই অনুভূতি সত্যিই আলাদা!

বাইরে বেরোতেই হাসিমুখে আমাদের স্বাগত জানাল আমাদের লোকাল গাইড—চিকি। নামের মতোই হাসিখুসি ! আমাদের সাথে বাসে করে রওনা দিল পাটায়ার উদ্দেশ্যে। ব্যাঙ্কক শহরের বুক চিরে এগোতে এগোতে আকাশছোঁয়া টাওয়ার, পরিচ্ছন্ন রাস্তা, আর ঝকঝকে শহুরে সাজ—সবই চোখে পড়ছিল। প্রায় দু’ঘণ্টা পর পৌঁছে গেলাম Sriracha Tiger Topia-তে—পাটায়া যাওয়ার পথে এক চমৎকার ব্রেকফাস্ট স্পট।

এটি মূলত একটি টাইগার পার্কের মতো। বাঘের শাবকের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পেয়ে কে আর ছাড়ে! আমরা সবাই সাহসী পর্যটকের মতো ছবি তুলে ফেললাম—কারও ভেতরে একটু ভয় থাকলেও মুখে ছিল সবার দারুণ হাসি! টাইগার শো, কুমিরের খেলা—সব দেখে কাছের একটি ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার সেরে পৌঁছে গেলাম পাটায়ার হোটেলে।

সন্ধ্যায় গন্তব্য ছিল পাটায়ার বিখ্যাত Alcazar Show। আলো, রঙ, সুর, কস্টিউম—সব মিলিয়ে এক ঝলমলে অভিজ্ঞতা। বিভিন্ন দেশের থিমে সাজানো পারফরম্যান্স, নিখুঁত নৃত্যভঙ্গি—এক কথায় ক্লাসি শো। পরিবার নিয়ে দেখার মতো জমকালো আয়োজন।

শো শেষে আরেকটি ভারতীয় রেস্তারাতে রাতের খাবার সেরে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম পাটায়া বিচে। নীল সমুদ্র, সোনালি বালি আর রাতের আলোর ঝলকানিতে আলো ঝলমলে বিনোদনের দুনিয়া —মনে হচ্ছিল শহর যেন বলছে, “ঘুমোবে না, আরও উপভোগ করো!” পাটায়ার রাত সত্যিই জীবন্ত—সারা রাত জেগে থাকা এক রঙিন শহর।

পরদিন সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে রওনা দিলাম Coral Island ট্যুরে। স্পিডবোটে করে সমুদ্রের বুকে এগিয়ে চলা—মাঝে মাঝে এমন লাফাচ্ছিল যে মনে হচ্ছিল আমরা নৌকায় নয়, রোলার কোস্টারে! প্রায় আধ ঘণ্টার সেই অ্যাডভেঞ্চার ভোলার নয়। এই সমুদ্রটাই আসলে Gulf of Thailand—যার নীল জল আর ঢেউ আমাদের মন জয় করে নিল।

বোট থেকে জল ভেদ করে পাড়ে পা দিতেই হঠাৎ যেন বুকটা ধক করে উঠলো—হাফ প্যান্টের পকেটে হাত দিতেই বুঝলাম, মানিব্যাগটা নেই! মুহূর্তের মধ্যে মাথায় যেন হাজারটা চিন্তা। বোটের দোলায় কখন যে সেটা পড়ে গেছে, একটুও টের পাইনি।মানিব্যাগে ছিল প্রায় ২০,০০০ ভাট আর  আমার একটি ডেবিট কার্ড। সব কথা চিকিকে জানাতেই ও এক মুহূর্ত দেরি না করে বোটের ড্রাইভারকে ফোন করলো। ততক্ষণে বোট আমাদের নামিয়ে বেশ অনেকটা দূরে চলে গেছে। অপেক্ষার সেই কয়েকটা মিনিট যেন অনেক দীর্ঘ হয়ে উঠেছিল।হঠাৎ দূরে দেখি বোটটা আবার ঘুরে আসছে… বুকের ভেতরটা আশায় ভরে উঠলো। কাছে এসে ড্রাইভার হাসিমুখে আমার মানিব্যাগটা হাতে তুলে দিল। সেই মুহূর্তে শুধু মানিব্যাগ ফিরে পাওয়ার আনন্দ নয়, মানুষের সততার প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতায় মন ভরে গিয়েছিল। অচেনা দেশে, অচেনা মানুষের এই আন্তরিকতা সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে গেল।বিদেশ ভ্রমণের স্মৃতির ভাঁজে এই ছোট্ট ঘটনাটা চিরকাল বিশেষ হয়ে থাকবে—কারণ এখানে টাকা নয়, জিতেছে মানবতা।

কোরাল আইল্যান্ডে পৌঁছে যেন ছবির ভেতর ঢুকে পড়লাম। স্বচ্ছ নীল জল, সাদা বালি, প্যারাসেইলিং, স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং—সব কিছুই আছে। কোরাল আইল্যান্ডে এসে কোরাল দেখব না— তা কি কখনও হয়!
তাই আমরা কয়েকজন মিলে চেপে বসলাম একটি গ্লাস-বটম বোটে। ধীরে ধীরে নৌকোটা এগিয়ে গেল সমুদ্রের আরও গভীরে। স্বচ্ছ জলের নিচে চোখ মেলতেই যেন খুলে গেল এক রঙিন জগৎ— নানান আকারের কোরাল, আর তাদের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে বেড়ানো লাল, হলুদ, নীল নানা বর্ণের ছোট-বড় মাছ। জলের তলার সেই নীরব, রঙিন পৃথিবী দেখে মন ভরে গেল অপার বিস্ময় আর আনন্দে। মনে হল, প্রকৃতির এ এক অপূর্ব সৃষ্টি— চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করা যায় না।

অনেকদিন পর সমুদ্রে এমন দীর্ঘক্ষণ স্নান করলাম, অথচ আশ্চর্যভাবে সারা গায়ে বালি লাগল না! যেন প্রকৃতি নিজেই বলছে—“এবার শুধু উপভোগ করো।”

সন্ধ্যায় আবার ঝলমলে পাটায়া শহরে একটু ঘোরাঘুরি, আরেকটি ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার। তারপর সারা রাত জেগে থাকা শহরটিকে মনে মনে “বাই বাই” জানিয়ে ফিরে এলাম হোটেলে। কারণ পরদিন সকালেই আমাদের গন্তব্য—থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্কক।

এভাবেই শুরু হল আমাদের থাইল্যান্ড ভ্রমণের প্রথম দুই দিনের গল্প—উড়ান থেকে সমুদ্র, শো থেকে শাবক-বাঘ, সব মিলিয়ে এক রঙিন, প্রাণবন্ত অভিজ্ঞতা। সামনে অপেক্ষা করছে ব্যাঙ্ককের আরও নতুন গল্প…

পাটায়া থেকে ব্যাংকক: রত্ন, নদী আর বন্য রোমাঞ্চ

পরের দিন সকালে রঙিন স্মৃতিকে সঙ্গী করে বিদায় দিলাম Pattaya-কে, আর রওনা হলাম থাইল্যান্ডের প্রাণকেন্দ্র Bangkok-এর পথে।

যেহেতু থাইল্যান্ডের বেশিরভাগ হোটেলের চেক-ইন সময় বিকেল ৩টে, তাই সোজা হোটেলে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দেওয়ার বদলে আমরা ঠিক করলাম সময়টাকে কাজে লাগানো যাক! প্রথম গন্তব্য ছিল বিখ্যাত Gems Gallery। সেখানে ঢুকেই চোখ যেন চকচক করে উঠলো—হীরক, রুবি, নীলা, পান্না… মনে হচ্ছিল আলাদিনের গুহায় এসে পড়েছি! তবে দাম দেখে মনে হচ্ছিল—“দেখেই সুখ, কেনার স্বপ্ন পরে দেখা যাবে! আর ব্যাগের ভেতর হাত দিলেই বাস্তবতা মনে করিয়ে দিচ্ছিল—দেখো, ছুঁয়ো না!”

সেখান থেকে আমরা চলে গেলাম ব্যাংককের অন্যতম ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থান Golden Buddha (Wat Traimit)-এ। খাঁটি সোনায় নির্মিত বিশাল বুদ্ধমূর্তি চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। তার পাশে Mini Reclining Buddha—শায়িত বুদ্ধের ছোট সংস্করণ—দেখে মনটা এক অদ্ভুত শান্তিতে ভরে গেল। শহরের কোলাহলের মাঝেও যেন এক টুকরো প্রশান্তি।

দুপুরের আহার সেরে হোটেলে একটু বিশ্রাম। কিন্তু বিশ্রাম বেশিক্ষণ টিকলো না—কারণ বিকেলের পর আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক বিশেষ অভিজ্ঞতা—Chao Phraya River Cruise।

নদীর বুকে ভাসতে ভাসতে বুফে ডিনার, দু’পাশে আলো ঝলমলে শহর, আর লাইভ মিউজিকের তালে তালে নাচ—মনে হচ্ছিল সিনেমার কোনো দৃশ্যের ভেতরে ঢুকে পড়েছি! সন্ধ্যার পর নদীর সৌন্দর্য সত্যিই অন্য মাত্রা পায়। এত অঢেল খাওয়া-দাওয়া যে ডান্স ফ্লোরে নড়তে গিয়ে প্রথমে একটু কষ্টই হচ্ছিল—কিন্তু সুর শুরু হতেই সব ভুলে গেলাম। প্রায় দু’ঘণ্টার সেই ভ্রমণ সত্যিই স্মরণীয়।

পরের দিন সকাল সকাল ব্রেকফাস্ট সেরে বাসে করে প্রায় এক ঘণ্টার জার্নি করে পৌঁছালাম Safari World & Marine Park-এ। প্রায় ৪৮০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল পার্ক যেন এক অন্য জগৎ।

তবে ঢোকার মুখেই ছোট্ট ধাক্কা—বাইরের জল নিয়ে ঢোকা নিষেধ! মানে, গরমের মধ্যে জল কিনেই খেতে হবে। সূর্যদেবও সেদিন বিশেষ দয়ালু ছিলেন না। গরমের দিনে এই নিয়মটা একটু বিরক্তিকর লাগলেও কিছু করার ছিল না কারণ সব টিকিট আগে থেকেই কাটা ছিল, আর লাঞ্চও অন্তর্ভুক্ত—তাই একটু মন খারাপ নিয়েই এগোলাম।

প্রথমে দেখলাম হাতির শো—হাতিরা এমনভাবে খেলা দেখাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল ওরাই বুঝি ট্রেনার! তারপর একে একে spy wars, dolphin show, আর সব শেষে sea lion show। প্রতিটি শো-ই দারুণ প্রশিক্ষিত আর উপভোগ্য। গরমের কথা ভুলে গিয়ে আমরা মগ্ন হয়ে দেখছিলাম।

মাঝখানে বিশাল ডাইনিং হলে লাঞ্চ—একসাথে প্রায় হাজার লোক বসে খেতে পারে! যেন বিয়েবাড়ির ভোজ, শুধু বর-কনে নেই।

তারপর বাসে চেপে ঢুকলাম সাফারি জোনে—যেখানে বাঘ, সিংহ, ভালুক, জেব্রা, হরিণ, গণ্ডার, জিরাফ, সারস, এমু—অসংখ্য পশুপাখি খোলা জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর আমরা নিরাপদ বাসের ভেতর থেকে দেখছি। মনে হচ্ছিল যেন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের লাইভ পর্ব চলছে, আর আমরা তার দর্শক।

অনেক ছবি, অনেক ভিডিও আর ভরপুর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরলাম হোটেলে। সন্ধ্যাবেলা কাছেই হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম ছয় তলা Pratunam Market এ কেনাকাটা করার জন্য । তারপর রাতে এক ভারতীয় রেস্তোরাঁয় জমিয়ে খাওয়া—বিদেশে থেকেও দেশের স্বাদ পেয়ে মনটা ভরে গেল।

তারপর ব্যাগ গোছানোর পালা—কারণ পরের দিন ভোরেই আকাশপথে রওনা দিতে হবে স্বপ্নের দ্বীপ Phuket-এর উদ্দেশে।

ভ্রমণের এই অংশটা ছিল আলো, রত্ন, ধর্মীয় ঐতিহ্য, নাচ-গান আর বন্যজগতের এক রঙিন কোলাজ—যা আজও মনে পড়লে হাসি এনে দেয়।

নীল আন্দামান সাগর, সোনালি মন্দির, টারকোয়াইজ জলের ফি ফি—সব মিলিয়ে থাইল্যান্ড ভ্রমণ শুধু ট্রিপ নয়, আজীবনের স্মৃতি

সকাল সকাল হোটেলের ব্রেকফাস্ট সেরে আমরা পৌঁছে গেলাম Don Mueang International Airport–এ। সকাল ৯.৩০-এর ফ্লাইট, তাই সবার মধ্যেই একটু তাড়াহুড়ো, একটু উত্তেজনা। ঠিক সময়েই আমরা পৌঁছে গেলাম Phuket International Airport–এ সকাল ১১টার মধ্যেই।

বিমানবন্দরের বাইরে বেরোতেই হাসিমুখে আমাদের স্বাগত জানাল ফুকেটের লোকাল গাইড—টিক। নামের মতোই ফুরফুরে মেয়ে ! আমাদের জন্য বাস প্রস্তুত ছিল, আর আমরা চটপট উঠে পড়লাম। বাস ছুটল ফুকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ মন্দির Wat Chalong–এর দিকে। বিশাল এলাকা জুড়ে সাজানো মন্দির প্রাঙ্গণ, শান্ত পরিবেশ আর সোনালি অলংকরণ—মনে হচ্ছিল যেন ছবির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি।

সেখান থেকে সোজা ভারতীয় রেস্তরাঁয় মধ্যাহ্নভোজন—বিদেশে গিয়ে ডাল-ভাত বা নান-পনির পেলে মনটাই আলাদা খুশি হয়ে যায়! কারণ, পেট ভরলে তবেই তো মন ভরে ভ্রমণ। তারপর হোটেলে ফেরা, কারণ এখানেও চেক-ইন টাইম বেলা ৩টা। একটু বিশ্রাম নিয়ে বিকেলের আলো থাকতে থাকতে হাঁটতে বেরিয়ে পড়লাম কাছের আন্দামান সাগরের সমুদ্রসৈকতে।

নীল জল, নরম বালি আর চারপাশে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের হাতছানি—কেউ প্যারাসেইলিং করছে, কেউ জেট স্কি। আমরা অবশ্য সমুদ্রের হাওয়া আর ঢেউয়ের শব্দেই মুগ্ধ। অনেকক্ষণ সময় কাটিয়ে ফুকেটের মার্কেটেও একটু ঘোরাঘুরি। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে—ফুকেট আর পাটায়ার তুলনায় ব্যাংককে জিনিসের দাম কম এবং ভ্যারাইটি বেশি, তাই শপিংপ্রেমীদের জন্য রাজধানীই স্বর্গরাজ্য!

পরের দিন ভোরবেলা আবার তাড়াতাড়ি ব্রেকফাস্ট সেরে রওনা হলাম পিয়ার-এর উদ্দেশে। সেখান থেকে বড় বোটে চেপে রওনা দিলাম থাইল্যান্ডের অন্যতম বিখ্যাত দ্বীপ Phi Phi Islands–এর দিকে। চারতলা স্ক্রুজ যেন সমুদ্র চিরে এগিয়ে চলেছে। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে আন্দামান সাগরের ওপর দিয়ে ছুটে চলা—পিছনে শহর মিলিয়ে যাচ্ছে, সামনে শুধু নীলের বিস্তার।

ডেকের ওপর দাঁড়িয়ে সবাই মুগ্ধ—দূরে ছোট ছোট পাহাড় যেন সমুদ্রের বুক থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আছে। টারকোয়াইজ রঙের জল, পাহাড়ে ঘেরা উপসাগর, বিখ্যাত Maya Bay আর Viking Cave–এর মতো মনকাড়া জায়গা—সব মিলিয়ে প্রকৃতির এক অপূর্ব ক্যানভাস।

ফি ফি আইল্যান্ডে পৌঁছে একটি ভালো রেস্তরাঁয় লাঞ্চ সেরে হেঁটে চলে গেলাম বিচে। কেউ কেউ নেমে পড়লেন স্নানে—জল এতটাই স্বচ্ছ যে পায়ের নিচের বালিও দেখা যায়। কোরাল আইল্যান্ডের মতোই স্বচ্ছ আর সুন্দর। সময় যে কীভাবে কেটে গেল, টেরই পেলাম না।

বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আবার সমুদ্রপথে ফিরে এলাম হোটেলে। একটু বিশ্রাম, এক কাপ চা—তারপর আবার বেরিয়ে পড়া ফুকেটের রাতের রাস্তায়। রাত্রে হোটেলের কাছের একটি ভারতীয় রেস্তরাঁয় ডিনার সেরে ফিরে এলাম, কারণ পরের দিন সকালেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি।

পরের দিন ফুকেট থেকে সাড়ে ১২টায় উড়াল দিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা আকাশপথে ভেসে পৌঁছে গেলাম কলকাতায় দুপুর ২.১৫-তে। তবে ফুকেট এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশনে বেশ ভিড় ছিল—ব্যবস্থাটা একটু উন্নত হলে পর্যটকদের আরও সুবিধা হতো।

সব মিলিয়ে থাইল্যান্ড ভ্রমণ আমাদের জীবনের স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। প্রকৃতি, সমুদ্র, মন্দির, বাজার, খাবার—সবকিছুর এক অনন্য মেলবন্ধন।

এই ভ্রমণ শুধু দর্শন নয়, একসঙ্গে কাটানো আনন্দের স্মৃতি হয়ে রয়ে গেল হৃদয়ে

10 thoughts on “থাইল্যান্ডে আমাদের রঙিন অধ্যায়- সুপ্রিয় রায়

  1. Partha Pratim Dasgupta

    ভ্রমণের সূচনা পাটাযা দিয়ে ভালোই হলো। বিশেষত বাড়ির বাইরে দেশে হোক বা বিদেশে সেখানে সততার পরিচয় পেলে মন টা ভালো হয়ে যায়।

    Like

  2. Ratnabali Chatterjee

    খুব মনোরম বর্ণনা দ্বীপ রাজ্যের। আমরা থাইল্যান্ড ভ্রমণে পাটায়া যাই নি।তাই পাটায়ার ভ্রমণ বৃত্তান্ত খুব উপভোগ করলাম।এত প্রাণবন্ত ও সুন্দর বর্ণনা যেন আমারো চোখের সামনে সব দৃশ্যগুলো ভেসে উঠল।এ এক অনন্য মানসভ্রমণ।

    Like

  3. Chandana Banerjee

    বাঃ। দুর্দান্ত বর্ণনা। মনে মনে দিব্যি ঘুরে আসা যায় দেশটা ।ধন্যবাদ দাদা বৌদি এই আনন্দে আমাদের শরিক করে নেওয়ার জন্য

    Like

Leave a comment