লিপিকার জন্মদিন মানেই আমাদের কাছে একদিনের ছোট্ট কোথাও ঘুরতে বেরিয়ে পড়া। অনেকসময় উপহার নাও দেওয়া হতে পারে, কিন্তু সময় আর ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছার ঘাটতি নেই আমাদের —এই বিশ্বাসেই সকাল সকাল গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম রাইচকের উদ্দেশে।
কলকাতার ব্যস্ত জীবন থেকে একটু পালিয়ে কাছাকাছি কোথাও যেতে মন চাইলে রাইচক একেবারে আদর্শ জায়গা। হুগলী নদীর তীরে ছোট্ট এই জায়গাটা যেন শহরের খুব কাছেই একটা শান্তির দ্বীপ।
গড়িয়া থেকে বেহালা–সরিষা হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার সফর শেষে আমরা পৌছালাম আমাদের গন্তব্যে — এই রাইচক ফোর্টে , যার বর্তমান নাম ‘দ্য ফোর্ট রায়চক’ (The Ffort Raichak) ওখান থেকে ডায়মন্ড হারবারের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিমি ।
এই জায়গাটার একটা ইতিহাস আছে। ১৭৮৩ সালে তৈরি পুরোনো ব্রিটিশ দুর্গের ধ্বংসাবশেষের উপরেই গড়ে উঠেছে এই বিলাসবহুল হেরিটেজ রিসোর্ট। বর্তমানে এটি ‘রায়চক অন গ্যাঞ্জেস’ (Raichak on Ganges) রিসোর্ট চেইনের অংশ। একসময় জায়গাটি ‘র্যাডিসন ফোর্ট’ (Radisson Fort) নামে পরিচিত ছিল। এখন এর একটি অংশ পরিচালিত হচ্ছে ‘তাজ গঙ্গা কুটির রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’ (Taj Ganga Kutir Resort & Spa) হিসেবে।
হুগলী নদীর তীর ঘেঁষে বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে একাধিক লাক্সারি রিসোর্ট। মাঝেমধ্যে চোখে পড়ে কিছু প্রভাবশালী মানুষের বাংলোও। রাইচকে ঢুকতেই চোখে পড়ে হুগলী নদীর বিস্তৃত জলরাশি। নদীর ধারে বসে থাকাই এখানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। হালকা হাওয়ায় নদীর জল ঢেউ খেলায়, আর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো নীরবে সব দ্যাখে ।
চারপাশে নানা রকমের গাছপালা, তার মধ্যেই চোখে পড়ল কয়েকটা পলাশ ফুলের গাছ—লাল রঙের সেই ঝলক যেন পুরো পরিবেশটাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল। নদীর হাওয়া, খোলা আকাশ আর সবুজের মাঝে বসে সময় যে কখন গড়িয়ে গেল টেরই পেলাম না। তিন–চার ঘণ্টা কেটে গেল নিমেষেই। বসে থাকতে থাকতে দেখলাম দূরে জাহাজ, লঞ্চ, কখনও ছোট নৌকা—নদীর বুকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে ।
এখানে যে তিনটি প্রধান restaurant আছে , প্রত্যেকটাই তাজের আন্ডারে তাই স্বভাবতই খাবারের দাম সাধারণ restaurant এর থেকে অনেকটাই বেশি ।
তবে রাইচকের সূর্যাস্ত আলাদা করে বলার মতো। নদীর জলে পড়া লালচে-কমলা আলো মনটা অদ্ভুতভাবে নরম করে দেয়।সন্ধে নামলে হালকা আলো জ্বলে ওঠে চারপাশে।
ফেরার পথে দেখে নেওয়া যায় স্বামীনারায়ণ মন্দির । আমাদের কয়েকবার যাওয়া আছে তাই আর গেলাম না ।
জন্মদিনে দামী গিফট না-ই বা হলো দেওয়া , এই ছোট্ট ভ্রমণটাই হয়ে থাকল লিপিকার জন্য আমার সবচেয়ে আন্তরিক উপহার।
Anindita Majumdar
Bornona tao darun


LikeLike
Mohan Lal Ghose
Very attractive place ! Very valuable gift to the tour lover, your better half.
LikeLike
Tapashi Banerjee
খুব সুন্দর লিখেছ তার সাথে দারুন উপহার আমার বন্ধু র জন্য।
LikeLike
Aparajita Sengupta
জন্মদিনের উপহার দারুণ, আমরা পেলাম রায়চকের সুন্দর বর্ণনা ও ছবি।

LikeLike
Dalia Deb
Apurbo bornona…osadharon chobi tar sathe alada upohar

LikeLike
Mitali Samadder
ঘুরতে যাওয়া টাই তো সবচেয়ে আনন্দের দামী গিফ্টের থেকে কম কিছুনা
LikeLike
Krishna Chaudhuri
দারুন সুন্দর জায়গাটা। খুব Enjoy করেছি।
LikeLike