কাকে বলা যায় ভারতবর্ষের নাগরিক- সুপ্রিয় রায়

নাগরিক মানে কী?

নাগরিক মানে হলো— এমন একজন মানুষ, যিনি কোনো দেশের সদস্য। তিনি সেই দেশের অধিকার পান এবং দায়িত্ব পালন করেন।

যেমন —তুমি যদি ভারতের নাগরিক হও, তবে তুমি ভারতের ভোট দিতে পারবে, দেশের আইন মানতে হবে, এবং দেশ রক্ষার দায়িত্বও তোমার থাকবে।

কে ভারতবর্ষের নাগরিক?

ভারতের সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, নিচের যেকোনো এক শর্ত পূরণ করলেই সে ভারতের নাগরিক ।  

১. জন্মসূত্রে নাগরিক- যদি কেউ ভারতে জন্ম গ্রহণ করে , তবে সাধারণভাবে সে ভারতের নাগরিক।তবে জন্মের সময় বাবা-মার নাগরিকত্বও গুরুত্বপূর্ণ।

সহজভাবে — যদি বাবা বা মা (অন্তত একজন) ভারতীয় হন,
তাহলে সে ভারতের নাগরিক।

২. বংশসূত্রে নাগরিক – যদি বাবা বা মা ভারতীয় হন,আর সে বিদেশে জন্মায়, তাহলেও সে  ভারতীয় নাগরিক হতে পারো।

৩. নিবন্ধনের মাধ্যমে – যদি কেউ বিদেশি হয়, কিন্তু বহু বছর ধরে ভারতে থাকে অথবা কোনো ভারতীয়কে বিয়ে করে,তাহলে সরকারে আবেদন করে নাগরিক হতে পারে।

৪. স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে – যে বিদেশি ব্যক্তি অনেক বছর (সাধারণত ১১ বছর) ভারতে বসবাস করেছেন,তিনি চাইলে ভারতের নাগরিক হতে পারেন।

৫. যখন নতুন এলাকা ভারতে যুক্ত হয় – যেমন— গোয়া একসময় পর্তুগালের অধীনে ছিল। গোয়া যখন ভারতে যুক্ত হয়, তখন সেখানকার মানুষও ভারতীয় নাগরিক হয়ে যান।

নাগরিকের অধিকার :-

  • ভোট দেওয়ার অধিকার
  • শিক্ষা, কাজ, স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার
  • সরকারের সাহায্য পাওয়া

নাগরিকের দায়িত্ব :-

  • দেশের আইন মানা
  • অন্যের অধিকারকে সম্মান করা
  • দেশকে ভালো রাখা

সহজ করে বললে:- “যে ব্যক্তি জন্ম, বংশ, নিবন্ধন, বা দীর্ঘদিন বসবাসের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যুক্ত — সে-ই ভারতবর্ষের নাগরিক তাতে তার নাম ভোটার লিস্টে থাক বা না থাকুক ।”

পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে মানুষ তার পরিচয় নিয়েই বেঁচে থাকে।
নিজের দেশের নাগরিক হিসেবে কে আপনি, কোথায় থাকেন, আর সরকার কীভাবে আপনাকে চেনে—এই প্রশ্নের উত্তর দেয় প্রতিটি দেশের নাগরিক পরিচয়পত্র বা আইডেন্টিটি কার্ড।

ভাবতে অবাক লাগে যে আমাদের দেশে মানে ভারতবর্ষে স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরও কোনো একটি একক ‘নাগরিক পরিচয়পত্র’ নেই, বরং এখনও দেশের মানুষের মধ্যে  নাগরিকত্বের নামে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় । এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি নথি দ্বারা নাগরিকত্ব প্রমাণিত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভারতীয় পাসপোর্ট এবং জন্ম সনদ।

আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং ভোটার আইডি কার্ডগুলি পরিচয় এবং ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পেতে সাহায্য করে, কিন্তু তবুও এগুলিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসাবে ধরা হয় না । আমরা সবাই জানি ভারতের আধার কার্ড আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় বায়োমেট্রিক আইডেন্টিটি সিস্টেম।প্রতিটি নাগরিককে দেওয়া হয় ১২-অঙ্কের এক ইউনিক নম্বর, যেখানে সংরক্ষিত থাকে আঙুলের ছাপ, চোখের স্ক্যান, ঠিকানা ও জন্ম তথ্য। এক কথায়, আধার এখন শুধু পরিচয়ের প্রমাণ নয়—এটি পাসপোর্ট , ব্যাংক, মোবাইল সিম, গ্যাস সাবসিডি, ট্যাক্স, এমনকি ভোটার তালিকার সঙ্গেও যুক্ত। তবুও নাকি এটা নাগরিকত্বের প্রমান নয় !

আবার অনেকেই মনে করেন যে ভোটার আইডি কার্ড ভারতীয় নির্বাচন কমিশন দ্বারা জারি করা, এটি অবশ্যই নাগরিকত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হওয়া উচিৎ ।

(বিভিন্ন জায়গা থেকে পড়ে নিজের ভাষায় সহজ করে লেখার চেষ্টা করলাম)

13 thoughts on “কাকে বলা যায় ভারতবর্ষের নাগরিক- সুপ্রিয় রায়

  1. Dalia Deb
    খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছিস।।কথাগুলো খুব সত্যি।।আমরাও আতঙ্কে আছি।।😢

    Like

Leave a comment