ইউরোপীয়দের তেতো সবজির প্রতি অনীহা: স্বাদের দ্বন্দ্ব না কি সাংস্কৃতিক ফারাক? – সুপ্রিয় রায়


ফিনল্যান্ডের বাজারে এতদিন ধরে যাচ্ছি কিন্তু কখন উচ্ছে , করলা বা তেতো সবজি বিক্রি হতে দেখিনি । ছেলে বৌমাকে জিজ্ঞেস করতে ওরা বলল ইউরোপের বেশীরভাগ অঞ্চলের মানুষজন তেতো স্বাদের খাবারের প্রতি খুব একটা টান অনুভব করেন না। কারণ এটি ইউরোপীয়দের কাছে জনপ্রিয় নয় এবং তেতো স্বাদ ও গন্ধ বেশীরভাগ ইউরোপীয়দের কাছে অপরিচিত ।অথচ ভারত, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড বা চীনের মতো অনেক এশীয় দেশে উচ্ছে , করলা, নিমপাতা বা পুঁইশাকের মতো তেতো উপাদান একটি সুস্থ খাদ্যসংস্কৃতির অংশ।

শিশুকাল থেকেই আমরা যে স্বাদে অভ্যস্ত হই, সেটাই আমাদের রুচিকে গড়ে তোলে। ইউরোপে সাধারণত শিশুদের দুধ, মিষ্টি ফল বা নরম সবজির মাধ্যমে খাদ্যাভ্যাস তৈরি হয়। ফলে তেতো স্বাদ “অস্বাভাবিক” মনে হয়।

বিজ্ঞান বলছে, আমাদের স্বাদের গ্রাহক কোষ (taste buds) আদিম যুগ থেকেই তেতো স্বাদকে সম্ভাব্য বিষাক্ততার সংকেত হিসেবে চিহ্নিত করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ এই স্বাদ এড়িয়ে চলে। তবে এশিয়ায় দীর্ঘকালীন ব্যবহার ও আয়ুর্বেদিক প্রভাবের ফলে এই ধারণা বদলেছে।

তেতো স্বাদ শরীরের জন্য উপকারী—এ কথা আজ অনেক বিজ্ঞানীই বলছেন। হজমে সাহায্য করে, লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং রক্ত পরিশোধনে সহায়ক। অথচ আধুনিক ইউরোপীয় খাদ্যতালিকায় এটি প্রায় অনুপস্থিত।

তবে পরিবর্তন ধীরে ধীরে আসছে। হেলদি ফুড ট্রেন্ড, প্ল্যান্ট-বেইজড ডায়েট আর বডি ডিটক্স সংস্কৃতির সুবাদে তেতো স্বাদ আবার আলোচনায় আসছে।
ডার্ক চকোলেট, ডান্ডেলিয়ন গ্রিনস, আর্টিচোক, এমনকি গার্লিক স্কেপস—এইসব তেতো-ঘেঁষা খাবার ইউরোপে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে।

খাদ্য তো শুধু পেট ভরানোর মাধ্যম নয়, এটি একটি সংস্কৃতি, একটি পরিচয়। তেতো স্বাদ হয়তো কিছুটা কঠিন, কিন্তু এর মধ্যেও লুকিয়ে থাকে প্রকৃতির এক অপার ভারসাম্য।
যদি কখনো ইউরোপের কোনো বাজারে উচ্ছে , করলা , নিমপাতা বা পুঁইশাকের দেখা মেলে, তাহলে হয়তো ইউরোপে স্বাদের নতুন দরজা খুলে যাবে।

Leave a comment