আমাদের চোখে ওরেগনের পোর্টল্যান্ড ও মাউন্ট রেইনিয়ার ন্যাশনাল পার্ক

লন্ডন থেকে আমার ভাইজি এসেছিল আমাদের পাশের রাজ্য ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে ওদের অফিশিয়াল কাজে । তাই আমরা শনিবার অর্থাৎ ১০/০৬/২০২৩ তারিখ সকাল সকাল গাড়ি নিয়ে চলে গেছিলাম ১৭৫ মাইল দূরে পোর্টল্যান্ডে । পোর্টল্যান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রাণবন্ত শহর। পোর্টল্যান্ড তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রগতিশীল সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। শহরে ঢোকার মুখেই পেয়ে পেলাম এই রাজ্যের সবচেয়ে বড় নদী - উইলামেট(Willamette )  যেটা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শহরটাকে আরও মনোরম করে তুলেছে । পোর্টল্যান্ড থেকে এক – দু ঘণ্টার দুরত্বে পাহাড়ের ওপর রয়েছে বেশ কটা রাজকীয় জলপ্রপাত ও তার নাটকীয় ক্লিফ ।হাতে সময় থাকাতে আমরা সবাই ঠিক করলাম জলপ্রপাতগুলো দেখে যাব । আসলে আমাদের ওদিনের  প্রধান গন্তব্য ছিল মাউন্ট রেইনিয়ার ন্যাশনাল পার্ক । জলপ্রপাত দেখতে যাওয়ার পথে পড়লো অসম্ভব সুন্দর কলাম্বিয়া রিভার গর্জ । একে একে পাহাড়ের উপর দেখলাম এই অঞ্চলের সবচেয়ে বিখ্যাত Falls যেমন Latourell Falls , Horsetail falls , Fairy Falls ইত্যাদি । তারপর মাউন্ট সেন্ট হেলেন্স যার আগ্নেয়গিরিটি 1980 সালে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল তার পাশ দিয়ে সোজা পৌঁছে গেলাম মাউন্ট রেইনিয়ার ন্যাশনাল পার্ক । 

235,000 একরেরও বেশি জায়গা জুড়ে এই পার্কটি পর্যটকদের বিভিন্ন বহিরঙ্গন ক্রিয়াকলাপ বা অ্যাডভেঞ্চারের  জন্য আকৃষ্ট করে । 14,410 ফুট উচ্চতার মাউন্ট রেইনিয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলির মধ্যে একটি । মাউন্ট রেইনিয়ার ন্যাশনাল পার্ক বন্যপ্রাণীদের জন্যও  একটি অভয়ারণ্য। পার্কে বিচরন করে কালো ভাল্লুক, এল্ক, পাহাড়ি ছাগল, মারমোট এবং অসংখ্য পাখির প্রজাতি ।গাড়ি প্রতি ৩০ ডলার টিকিট কেটে আমরা প্রবেশ করলাম মাউন্ট রেইনিয়ার ন্যাশনাল পার্কে । ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে দেখলাম রাস্তার দুপাশে অনেকটা জায়গা জুড়ে বরফ পরে আছে ।জঙ্গলের মধ্যে একটা ভাল্লুকের দেখা পেলাম । খুব মনোযোগ দিয়ে চারিদিক দেখতে দেখতে আমরা এগিয়ে চলছিলাম  যদি কোন বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে । একটু অন্ধকারও হয়ে এসেছিল । হটাৎ আমাদের ছোট ছেলে গাড়িটা ব্রেক কোষে থামাল । সামনে তাকিয়ে দেখলাম একটা এল্ক আমাদের গাড়ির ঠিক সামনে এসে পড়েছিল । এল্ক হল হরিণ পরিবারের বৃহত্তম সদস্য ।ও দ্রুত জঙ্গলের মধ্যে মিলিয়ে গেল । আমরাও এগিয়ে চললাম রাতের আকাশে তুষার আবৃত মাউন্ট রেইনিয়ারকে দেখতে কেমন লাগে সেটা দেখতে । তারপর আমাদের দার্জিলিং পাহাড়ের মতো হটাৎ করে একগাদা মেঘ এসে আমাদের ঘিরে ধরল । অগত্যা আমরা ফিরে আসলাম আমাদের AIRBNB তে । পাহাড়ের উপর জঙ্গলের মধ্যে নির্জন জায়গায় দারুন সুন্দর ও বেশ বড় ছিল আমাদের AIRBNB। পুল ও টেবিল টেনিস খেলার ব্যবস্থাও ছিল । আমরাও বেশ কিছুক্ষণ পুল ও টেবিল টেনিস খেলায় মেতে উঠলাম ।টিভির মধ্যে কারাওকে চালিয়ে অনেকক্ষণ গানও হোল ।  পরেরদিন সকালে কাছেই একটা উক্রেনিয়ও রেস্টুরেন্টে প্রাতরাশ সেরে আমরা চললাম গণ্ডলা ( GONDOLA হল এখানকার  CABLE CAR, আমাদের দেশের Ropeway ) চড়ে পাহাড়ের অনেকটা উপরে উঠে সামনে থেকে মাউন্ট রেইনিয়ারকে দর্শন করতে । শুনেছিলাম পরিষ্কার আকাশ থাকলে মাউন্ট রেইনিয়ারকে  পরিষ্কার দেখা যায় । আকাশ পরিষ্কার ছিল তাই আমরা জন প্রতি ৫২ ডলার দিয়ে গণ্ডলা করে পাহাড়ের উপরে উঠে নামতেই সামনে তাকিয়ে দেখি তুষার আবৃত অপুরুপ সুন্দর মাউন্ট রেইনিয়ার। তুষার আচ্ছাদিত শিখরের পটভূমিতে একটি অত্যাশ্চর্য ট্যাপেস্ট্রি তৈরি হয়েছিল । এত সামনে থেকে এত সুন্দর পাহাড়ের চুড়া আমি আগে কখন দেখিনি । মনে হচ্ছিল বাক্যহারা হয়ে শুধু তাকিয়েই থাকি । উপরে একটা সুন্দর রেস্টুরেন্ট আর অনেক বসার জায়গা ছিল । আমরা গরম গরম কফি নিয়ে ঐ স্বর্গীয় শোভা উপভোগ করতে লাগলাম । শুনলাম শীতের মাসগুলিতে এখানে স্নোশোয়ার, ক্রস-কান্ট্রি স্কিয়ার এবং শীতকালীন ক্রীড়া,  পর্যটকদের বা উৎসাহীদের দারুনভাবে আকর্ষণ করে। তারপর ন্যাশনাল পার্কের আনাচে কানাচে ঘুরে খুব খুব খুব আনন্দ করে আমরা সবাই ফিরে আসলাম সিয়াটেলে ।

Please visit my You tube channel : https://www.youtube.com/cha…/UCwI8JNW7FmslSEXnG6_GAgw/videos

Leave a comment