সুবিনয় খুব সাধারণ একটি ছেলে, কথা কম বলে। । শহরের ছোট্ট লাইব্রেরিটায় সে সকাল থেকে বিকেল অবধি বই সাজায়। ধুলো ঝাড়ে, রেজিস্টারে নাম লেখে, আর কার্ড ফেরত নেয়। লোকজন তাকে দেখে, কিন্তু খুব একটা লক্ষ করে না—যেমন দেয়ালের ঘড়িটাকে সবাই দেখে, কিন্তু কেউ আলাদা করে ভাবে না। অথচ তার ভেতরে ছিল গল্প লেখার প্রবল ইচ্ছে। … Continue reading হীনমন্যতা সমাজের শেখানো এক নীরব শৃঙ্খল – সুপ্রিয় রায়
Category: SHORT STORY
ডিভোর্সটা ওদের, শাস্তিটা সন্তানের – সুপ্রিয় রায়
বাবা–মায়ের বিচ্ছেদটা আসলে শুধু দু’জন মানুষের আলাদা হয়ে যাওয়া নয় , একটা শিশুর নিরাপত্তাবোধ, পরিবারের ধারণা, আর নিজেকে দোষী ভাবার প্রবণতা—সবকিছু একসাথে ভেঙে পড়ে। স্বামী – স্ত্রীর সংসারে যদি বাচ্চা আসে তাহলে স্বামী – স্ত্রীর ডিভোর্স নেওয়ার আগে ভাবা উচিৎ - ডিভোর্সটা ওদের, শাস্তিটা সন্তানের। বৃষ্টি নামলে নির্ভীক আজও ছাতাটা খোঁজে।একটা নয়—দুটো। একটা ছিল বাবার। … Continue reading ডিভোর্সটা ওদের, শাস্তিটা সন্তানের – সুপ্রিয় রায়
বিচার ধারার বাইরে – সুপ্রিয় রায়
বিচারপতি সমরেশ রায়কে সবাই ভয় মিশ্রিত শ্রদ্ধা করত। তিনি সারাজীবন ধরে একটাই কথা বলতেন— “আইন সবার ওপরে, আইনই চূড়ান্ত সত্য।” দেশে বহু বিচারক এসেছেন,গিয়েছেন, কিন্তু সমরেশবাবুর নীতি, সততা আর কঠোরতা নিয়ে কখনো প্রশ্ন ওঠেনি। তাঁর আদালতে দোষী প্রমাণ মানেই কঠোরতম শাস্তি। তাঁর স্বাক্ষর মানেই ন্যায়। মানুষ বলত— “সমরেশবাবুর আদালতে চোখের জলেও রায় বদলায় না।” কিন্তু … Continue reading বিচার ধারার বাইরে – সুপ্রিয় রায়
ক্ষুধার আড়ালে আলো – সুপ্রিয় রায়
গ্রামের এক কোণে থাকে রামু । প্রতিদিন ভোরে ইটভাটায় কাজ করতে যায়, আর তার স্ত্রী কমলা ধানের ক্ষেতে মজুরির কাজ করে। সংসারটা টানাটানি করে চলে। তাদের দুই সন্তান— পচা (১০) আর পুঁচকি (৭)। গায়ের রং ধুলো মাখা, কিন্তু তাদের চোখ দুটো স্বপ্নভরা। দুর্গা পুজো আসছে। চারপাশে আনন্দের ঢেউ—হাটে, বাজারে, পাড়ায় নতুন জামাকাপড়ের গন্ধ, রঙিন আলো, … Continue reading ক্ষুধার আড়ালে আলো – সুপ্রিয় রায়
ঘরে অফিস Work from home – সুপ্রিয় রায়
বাড়ির দোতলার ছোট্ট ঘরে সারাক্ষণ দরজা বন্ধ। ভেতরে বসে আছে সার্থক সকাল আটটা থেকে রাত আটটা—সবাই জানে, ভেতরে চলছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম।মা হাঁটতে হাঁটতে ফিসফিস করে বলেন,– চুপ! মিটিং আছে নাকি।বাবা হাঁচি আটকাতে গিয়ে কাশতে শুরু করেন। তবু জোরে কাশি দিতে সাহস পান না, ভয় হয়—ল্যাপটপের মাইক্রোফোনে না ঢুকে যায় শব্দটা।এদিকে বান্ধবী সাথী এসেছে দরকারে, … Continue reading ঘরে অফিস Work from home – সুপ্রিয় রায়
টাইমজোনের প্রেম – সুপ্রিয় রায়
শিলিগুড়ির ছেলে সার্থক। পড়াশুনায় খুব ভাল , ইঞ্জিনিইয়ারিং এ মাস্টার ডিগ্রি করে এখন আমেরিকার এক বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করছে। অন্যদিকে কলকাতার মেয়ে সাথী। ও একইভাবে নিজের পড়াশোনায় ভালো, আর এখন কলকাতার এক বড় কর্পোরেট অফিসে চমৎকার চাকরি করছে। দুজনের পরিচয় এক আত্মীয়র বিয়েবাড়িতে। হুল্লোড়, গানের তালে ভিড় জমেছে নাচের মঞ্চে। ঠিক সেই সময় পাশের বারান্দায় … Continue reading টাইমজোনের প্রেম – সুপ্রিয় রায়
অন্তিম আলো – সুপ্রিয় রায়
৭২ বছরের মালতী দেবী আজ একা। গত সপ্তাহে তার স্বামী অরুণবাবু চলে গেছেন—চিরতরে।পঞ্চাশ বছরের সংসার।ঘরের প্রতিটি কোণে অরুণের ছাপ। সেই টেবিল যেখানে সন্ধ্যায় দু’জনে একসাথে বসে চা খেতেন, সেই বারান্দা যেখানে বসে গল্প করতেন, আর সেই রেডিওটা—যা এখনো অরুণের প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজায়। প্রথম ক’টা দিন মালতী যেন মানুষ ছিল না—একটা অভ্যেসহীন সময়ের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল।রান্না … Continue reading অন্তিম আলো – সুপ্রিয় রায়
কাজের মেয়ে – সুপ্রিয় রায়
মা , আজ তো আমার জন্মদিন তাইনা ? আমি আজ ১৪ বছরে পড়লাম । আজ তোমাদের কি আমাকে মনে পড়ছে ? সত্যি আজ তোমাদের সাথে দেখা করতে খুব ইচ্ছা করছে আমার । কিন্ত জানি সেটা সম্ভব নয় । আমি এখন তোমাদের থেকে অনেক দূরে কোলকাতা শহরে । আমি জানি তোমাদের কাছে তেমন পয়সা নেই যে … Continue reading কাজের মেয়ে – সুপ্রিয় রায়
হারিয়ে যাওয়া শিকড় – সুপ্রিয় রায়
সালটা ছিল ১৯৪৭ । পূর্ববঙ্গের ঢাকা শহরে বাস করতেন সুধীর ঘোষালের পরিবার । পরিবার বলতে ছিল স্ত্রী অনিমা ঘোষাল , ছেলে স্বপন আর মেয়ে স্বপ্না । সুধীর বাবু ছিলেন শহরের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি । অনেকটা জায়গা নিয়ে ছিল তাদের বসত বাড়ি । সুন্দর সুখের সংসার নিয়ে হেসে খেলে দিন কাটছিল সুধীর বাবুর পরিবারের । বাদ … Continue reading হারিয়ে যাওয়া শিকড় – সুপ্রিয় রায়