দুনিয়ার সব পিতা-মাতা ও তাদের সন্তানের পরিচয় – সুপ্রিয় রায়

আমাদের শৈশবের প্রথম হাসি, প্রথম হাঁটা, প্রথম স্কুলে যাওয়া—সবই পিতা-মাতার হাতে গড়া। তাঁরা হয়তো অনেকে উচ্চশিক্ষিত নন, হয়তো  অর্থে-সম্পদে ধনী নন, কিন্তু ভালোবাসা, ত্যাগ আর যত্নের দিক থেকে তাঁরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

দুঃখজনক হলো, অনেক সময় দেখা যায় অনেক সন্তানেরা নিজেদের অবস্থান ভালো হলে বা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলে পিতা-মাতার নাম বলতে সংকোচ বোধ করে। কারণ তাঁরা হয়তো আর্থিকভাবে দুর্বল, শিক্ষার মান কম, কিংবা সাধারণ একজন মানুষ। অথচ সত্যিটা হলো—আমরা যেখানেই দাঁড়াই না কেন, সেই জায়গায় পৌঁছাতে আমাদের পেছনে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন আমাদের মা-বাবা।

অন্যদিকে, কোনো পিতা-মাতা কিন্তু সন্তানের চরিত্র খারাপ না হলে কখনো সন্তানের পরিচয় দিতে লজ্জা পান না। সন্তানের প্রতি তাঁদের গর্ব সীমাহীন।

তাহলে কেন অনেক সময় সন্তানেরা উল্টো পথে হাঁটে ? কেন ভুলে যায় , মা-বাবার সম্মান মানে তাদেরই সম্মান? কারণ তারা জানে পিতা মাতার হাতের শ্রম, ঘামের ত্যাগ, আর ভালবাসার ফসল হিসেবেই সন্তানেরা আজকের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে ।

এর ওপর ছোট একটা গল্প –

রাহুল শহরে বড় অফিসে চাকরি পায়। অফিসের সহকর্মীরা একদিন জিজ্ঞেস করল—
“তোর বাবা কী করেন?”

রাহুল একটু চুপ করে গেল। কারণ তার বাবা গ্রামের এক সাধারণ চাষি। পড়াশোনার সুযোগ হয়নি, সারাদিন মাঠে কাজ করেন। রাহুল ভেবেছিল, সবাই শুনলে হয়তো তাকে হেয় করবে। তাই সে বলল—
“ব্যবসা করেন।”

সেদিন রাতে রাহুল ফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলছিল। মা বললেন—
“বাবা সারাদিন খেটে গিয়েছে, তোর জন্যে আবার টাকাও জমাচ্ছে।”

রাহুল হঠাৎ ভেতর থেকে কেঁপে উঠল। মনে পড়ল, ছোটবেলায় বাবা ভিজে মাঠ থেকে ফিরে ভাত তুলে দিতেন তার হাতে। বাবা কখনো নিজের ক্লান্তির কথা বলেননি। শুধু ছেলেটা একদিন মানুষ হবে—এই স্বপ্ন বুকে বেঁধে রেখেছিলেন।

পরদিন অফিসে রাহুল সবার সামনে দাঁড়িয়ে বলল—
“আমার বাবা কৃষক। তাঁর ঘামেই আমি এই জায়গায় পৌঁছেছি। আমি গর্বিত যে তিনি আমার বাবা।”

অফিসের সবাই হাততালি দিল। রাহুল বুঝল, সত্যকে আড়াল করা নয়—সত্যকে সম্মানের সঙ্গে মেনে নিলেই মানুষ আসল মর্যাদা পায়।

পিতা-মাতা হয়তো ধনী নন, হয়তো উচ্চশিক্ষিত নন। কিন্তু তাঁদের ত্যাগের কাছে কোনো ধন-সম্পদ বা ডিগ্রি কিছুই নয়।
যারা সত্যিই শিক্ষিত ও বড় মনের মানুষ, তারা কখনো পিতা-মাতার পরিচয় দিতে সংকোচ বোধ করে না।

Leave a comment