সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যম খুললেই চোখে পড়ে —বড় বড় বহুজাতিক সংস্থা থেকে শুরু করে নামী স্টার্টআপ, একের পর এক কর্মী ছাঁটাই।গতকাল নিউজ পেপারে পড়লাম ২০২৭ শে AI এর জন্য প্রচুর চাকরী যাবে । প্রযুক্তি হোক বা উৎপাদন শিল্প, এই অনিশ্চয়তা আজ আর কোনো একটি সেক্টরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর। এমন বাস্তব পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্ন খুব স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে—
চাকরি হারালে কি আর্থিকভাবে কিছু সময়ের জন্য সুরক্ষা পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা থাকা উচিত নয়?
যদি এমন একটি ইনস্যুরেন্স থাকত, যেখানে কর্মী চাকরিতে থাকাকালীন প্রিমিয়াম দেবেন এবং তার একটি অংশ দেবে নিয়োগকারী সংস্থা—তাহলে চাকরি ছাঁটাই হলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মাসিক অর্থ পাওয়া যেত। এতে নতুন কাজ খোঁজার সময় একজন কর্মী অন্তত ন্যূনতম স্থিতি বজায় রাখতে পারতেন। অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে পলিসির শর্ত ও আগের বেতনের ওপর।
বিদেশে কী হয়?
ইউরোপের বহু দেশে সরকার-নিয়ন্ত্রিত Unemployment Benefit System রয়েছে, যেখানে কর্মী ও নিয়োগকর্তা দু’পক্ষই সামাজিক তহবিলে অবদান রাখে। চাকরি গেলে নির্দিষ্ট সময় সরকার ভাতা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রে রাজ্যভিত্তিক Unemployment Insurance রয়েছে, যেখানে মূলত নিয়োগকর্তারা প্রিমিয়াম দেন এবং কর্মীরা সীমিত সময় ভাতা পান। কিছু দেশে বেসরকারি সংস্থাও আংশিকভাবে চাকরি হারানোর ঝুঁকি কভার করে।
ভারতে EPF বা গ্র্যাচুইটির মতো ব্যবস্থা থাকলেও চাকরি হারানোর পর নিয়মিত আয়ের বিকল্প কার্যত নেই। ফলে হঠাৎ আয় বন্ধ হলে মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে।
তাই এমন ইনস্যুরেন্স চালু হলে—
• কর্মীদের আর্থিক ও মানসিক নিরাপত্তা বাড়বে
• হঠাৎ বেকারত্বে বাজারের ক্রয়ক্ষমতা একেবারে ভেঙে পড়বে না
• অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে
অবশ্যই কিছু বাস্তব প্রশ্ন থাকতে পারে —
• স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়লে কভারেজ থাকবে কি?
• অসৎ ব্যবহারের সম্ভাবনা কীভাবে আটকানো যাবে?
• সরকার, কর্পোরেট ও ইনস্যুরেন্স সংস্থার মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে?
শেষ কথা
আজকের অনিশ্চিত চাকরির বাজারে বেকারত্ব ইনস্যুরেন্স কোনো বিলাসিতা নয়—এটি সময়ের দাবি। কর্মী, কর্পোরেট ও রাষ্ট্র—তিন পক্ষের যৌথ উদ্যোগেই এমন সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে, তাহলে তা শুধু ব্যক্তির নয়—পুরো অর্থনীতির জন্যই সুরক্ষাকবচ হয়ে উঠতে পারে।
প্রশ্ন একটাই—এই আলোচনা শুরু হবে কবে?