ভ্রমণপিপাসুদের জন্য কলকাতার কাছাকাছি বেশ কিছু ঐতিহাসিক এবং দর্শনীয় স্থান রয়েছে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার চুঁচুড়া মহকুমার পান্ডুয়ার ইটাচুনা রাজবাড়ি অন্যতম। রাজবাড়ির সুবিশাল প্রাঙ্গণ, পুরোনো দিনের স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক পরিবেশ মনোমুগ্ধকর। এছাড়া এটি অনেকগুলি হিন্দি এবং বাংলা চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের স্থান হিসাবেও পরিচিত, এর মধ্যে রয়েছে লুটেরা, পরাণ যায় জ্বলিয়া রে, রাজমহল, গয়নার বাক্স ইত্যাদি চলচ্চিত্র।
ইটাচুনা রাজবাড়ির ইতিহাস প্রায় ১৭৬৬ সালের সময়কার। এই রাজবাড়ির একটি আকর্ষণীয় ইতিহাস রয়েছে কারণ এটি তথাকথিত ‘বর্গি’দের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। এই বর্গীদের মধ্যে ছিল কুন্দন যারা বাংলায় বসতি স্থাপন করে এবং কুন্ডু নামে পরিচিত হয়। কুন্ডু পরিবার নিজেদের জন্য ইটাচুনা রাজবাড়ি তৈরি করেছিল ।
কলকাতা থেকে ইটাচুনা রাজবাড়িতে পৌঁছানোর জন্য কয়েকটি উপায় রয়েছে—
- ট্রেনে: প্রায় ১.৫ ঘন্টায় হাওড়া স্টেশন থেকে খন্যান স্টেশন পর্যন্ত লোকাল ট্রেনে পৌঁছানো যায় । তারপর খন্যান স্টেশন থেকে ইটাচুনা রাজবাড়ি মাত্র ২-৩ কিলোমিটার দূরে। রিকশা বা টোটো নিয়ে সহজেই পৌঁছানো যায়।
- গাড়িতে: নিজস্ব গাড়ি বা ভাড়া করা ক্যাব নিয়ে NH-19 ধরে গেলে প্রায় ২.৫-৩ ঘন্টায় পৌঁছানো যায়।
রাজবাড়ির মূল আকর্ষণ:
- সুদৃশ্য প্রবেশদ্বার ও রাজকীয় স্থাপত্য
- পুরনো কালের আসবাবপত্র ও বিশাল উঠোন
- দালানবাড়ির চৌকো উঠোন
- মন্দির, পুকুর এবং সুরম্য বাগান
আমরা 07/02/2025 অর্থাৎ লিপিকার জন্মদিনের দিন আমাদেরই এক বন্ধু পরিবারের সাথে একদিনের জন্য ইটাচুনা রাজবাড়ি ঘুরে আসলাম । যেহেতু কলকাতা থেকে খুব বেশি দূরে নয়( ৮৮ কিমি ) , তাই আমরা সকাল ৮ টায় বেরিয়ে রাত ১০ টার মধ্যেই ফিরে আসলাম । যারা রাত কাটাতে চান, তাঁরা রাজবাড়িতে থাকতে পারেন।
আমাদের রাজবাড়িতে থাকার সময় ছিল দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৮ টা অবধি । পৌছাতেই ওয়েলকাম ড্রিঙ্কস হিসাবে দিল ঠাণ্ডা লেবুর সরবত । অফিস ঘরে যাবতীয় ফরমালিটি সেরে প্রথমেই দেখতে গেলাম আমাদের জন্য রাখা কটেজটি যার একটা সুন্দর নাম আছে ‘ অপরিজিতা’। পাশাপাশি যে কটেজগুলি আছে তার প্রত্যেকের নাম বিভিন্ন ফুল দিয়ে এবং সেই সেই ফুলের গাছ রয়েছে তাদের নামের কটেজগুলিতে ।১ টা থেকে ২.৩০ অবধি চলে দুপুরের রাজকীয় খাওয়া দাওয়া ‘ আহার’ এ । তারপর ৪ টা নাগাদ রাজবাড়ির গাইড সবাইকে নিয়ে রাজবাড়ির ইতিহাস শোনাতে শোনাতে পুরো রাজবাড়িটা ঘুরিয়ে দেখান । ৬ টার সময় সন্ধ্যা আরতি দেখে সাড়ে ছটা নাগাদ চা , মুড়ি , চপ খেয়ে বাড়ির পথে রওনা । আমরা সারাদিন রাজবাড়ির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখলাম, ছবি তুললাম এবং অতীতের অনুভূতি উপভোগ করলাম। যারা পুরনো দিনের রাজকীয়তার স্বাদ পেতে চান, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ স্থান।
আমাদের এই ছোট্ট ভ্রমণ স্মরণীয় হয়ে থাকলো আমাদের ভিডিও ক্যামেরায় ।