ইতিবাচক মন(Positive mind) ও নেতিবাচক মন ( negative mind ) নিয়ে বেশ কিছু লেখা পড়ছিলাম । তার মধ্য থেকে যেসব অংশগুলো ভাল লাগলো সেসব সবার জন্য তুলে ধরলাম ।
আমাদের চারপাশেই রয়েছেন যেসব মানুষেরা তাদের মধ্যে কেউ সফল, কেউ ব্যর্থ। কেউ সব কাজেই উদ্বুদ্ধ করেন, কেউ সব বিষয়েই খুঁত ধরেন। কারও সঙ্গে থাকলে সব সময় ইতিবাচক অনুভূতি হয় আবার কারও সংস্পর্শ নেতিবাচক করে তোলে। কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখলে বুঝতে পারা যায় এই ইতিবাচক ও নেতিবাচক মানসিকতার পার্থক্য।
ব্যর্থতা: পজিটিভ মানুষরা কখনই ব্যর্থতায় ভেঙে পড়েন না। তারা জানেন সাফল্যের সিঁড়ির চড়তে গেলে ব্যর্থতা আসবেই। ব্যর্থতাকে তারা জীবনে শিক্ষা হিসেবে দেখেন। নেগেটিভ মানুষরা ব্যর্থতাকে জীবনে চিরস্থায়ী ও জীবনের শেষ মনে করেন। ব্যর্থতায় ভেঙে পড়েন।
শর্টকাট: পজিটিভ মানুষরা জানেন সাফল্যের কোনও শর্টকাট নেই। লক্ষ্যে পৌঁছতে গেলে পরিশ্রম, অধ্যাবসায় এবং ধৈর্যই মূল কথা। তারা কখনই শর্টকাট খোঁজেন না। নেগেটিভ মানুষরা সাফল্যের শর্টকাট খোঁজেন সব সময়। তাই তাদের জীবনে সাফল্য এলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
প্রশংসা: পজিটিভ মানুষরা নিজেদের লক্ষ্যে স্থির। তারা কখনই মনে করেন সচেষ্ট থাকলে তাদের উন্নতির পথে কিছুই বাধা হবে না। তাই অন্যদের উন্নতিতেও তারা প্রশংসা করেন, উদ্বুদ্ধ করেন, অন্যদের সাহায্য করেন। নেগেটিভ মানুষরা সকলকেই হিংসা করেন, মনে করেন সকলেই তাদের উন্নতির পথে বাধা।
পরিবর্তন: পজিটিভ মানুষরা জানেন জীবনে একটি বিষয়ই স্থিতিশীল। তা হল পরিবর্তন। তাই যে কোনও পরিবর্তনই তারা সহজ ভাবে গ্রহণ করেন। নেগেটিভ মানুষরা কোনও পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে, পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই স্বচ্ছন্দ নন। তারা মনে করেন জীবনে সব কিছুই নির্ধারিত এবং জীবন এক ভাবেই চলবে।
শেখা: পজিটিভ বা ইতিবাচক মানসিকতার মানুষরা কখনই নতুন কিছু শিখতে ভয় পান না। তাঁরা জানেন জীবনে সব সময়ই নতুন কিছু শিখতে হবে। নেগেটিভ মানুষরা মনে্ করেন তারা সব জানেন, জীবনে বিশেষ কিছু শেখার নেই আর।
অল্প পেয়ে সন্তুষ্ট হতে পারা মানবজীবনের অন্যতম বড় সফলতা। অধিকাংশ মানুষের মধ্যে এই বিষয়টা দেখতে পাওয়া যায় না। কিছু মানুষ শুধইু পেতে চান , তারা পানও বটে। কিন্তু জীবনের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে উপলব্ধি করেন তারা আসলে কিছুই পাননি। প্রখ্যাত লেখক ক্লাইভ বেল তাঁর Civilization গ্রন্থে লিখেছেন, যারা আরো চাই, আরো চাই মন্ত্র জপ করেন, দেখা যায়, কিছুতেই তাদের ক্ষুধা নিবৃত্তি হয় না। যত পাচ্ছেন, ততই যেন চাওয়া আরো বেড়ে যায়। জীবনে অল্প পেয়েও সন্তুষ্ট থাকতে পারাই হলো ইতিবাচকতা। সব মানুষ লোভ সংবরণ করতে পারেন না। ফলে কঠিন ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয় তাদের।
মানুষ সুখী হবে কি হবে না, সেটা অন্য কেউ নির্ধারণ করতে পারে না। যিনি অখুশি, তিনি দুই কারণেই অখুশি হতে পারেন—যা চাইছেন তা পাননি বলে, আর যা পেয়েছেন সেটা হারানোর ভয়! মানুষের ধারণা, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারলেই সুখী মানুষ হওয়া যায় । কিন্তু বাস্তবে তা কখনোই হয় না। সত্যি হলো, জীবনে ভালো-খারাপ সবকিছুই গ্রহণ করার মানসিকতা নিয়ে চলতে হবে।
আবার নেতিবাচকতা নিয়ে মেলবোর্নের বিখ্যাত মনোরোগের চিকিৎসক রাস হ্যারিসের দাবি, দ্বিধা কিংবা নেতিবাচক চিন্তা আসলে মানুষকে আরও ভালো করে। নেতিবাচকতার ফলে মানুষ যে কারণে ব্যর্থ হতে পারে, সেগুলোতে নজর বেশি দেয়। ফলে সফলতা আসে আরও দ্রুত।
Please visit my You tube channel : https://www.youtube.com/cha…/UCwI8JNW7FmslSEXnG6_GAgw/videos