আমাদের চোখে সিকিমের সিল্ক রুট 

আমাদের চোখে সিকিমের সিল্ক রুট 

Sikkim Silk route  অর্থাৎ যে পথে প্রাচীন কালে (early 3rd century BCE, and it became popular by the 2nd century BCE)তিব্বতের লাসা থেকে সিকিমের মধ্যে দিয়ে ভারতে সিল্ক , ফার, উল ইত্যাদির  ব্যবসা হতো ।এই বিস্তীর্ণ ৯০০ কিমি রাস্তার মধ্যে আমরা বেছে নিয়েছিলাম সিকিমের রাস্তাটুকু । 2nd May 2022 থেকে 6th May 2022 অবধি আমাদের অভিযান ছিল সিকিমের সিল্ক রুট , সঙ্গে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন । প্রথমদিন আমরা ছিলাম কালিম্পঙ শহর থেকে অনেকটা দূরে Thulung বা Sirsa gaon তে । ছোট্ট একটা গ্রামের মধ্যে Home Stay । Home Stay এর কাছেই রয়েছে এক Strawberry বাগান । আর সামনে রয়েছে দিগন্তব্যাপী পাহাড়ের রাশি । রাত্রে সব বাড়িতে আলো জ্বলে উঠলে মনে হয় সারা পাহাড় জোনাকির আলোতে ঝিকমিক করছে । ভোরে চোখ খুলতেই দেখি সামনের পাহাড়ে মাথা উঁচু করে সমস্ত পরিবার নিয়ে দাড়িয়ে আছে তুষারশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা । চোখ জুড়িয়ে গেল ।

প্রাতঃরাশ সেরে সিকিমের Rangpo, Rhenock ছাড়িয়ে পৌঁছে গেলাম Rongli যেখান থেকে এই Sikkim Silk route  যাওয়ার অনুমতি পত্র নিতে হবে । আমাদের দুজনের জন্য ৫০০ টাকা, দুজনের দুটো পাসপোর্ট সাইজ ফটো , দুজনের ওরিজিনাল ভোটার কার্ড জমা দিতে হোল । আধ ঘণ্টার মধ্যেই আমাদের ভোটার কার্ড ও অনুমতিপত্র হাতে এসে গেল । সমস্ত কাজটাই আমাদের ড্রাইভার করলো । ব্যাস রওনা দিলাম জুলুকের পথে । পথে ১১০ টাকা দিয়ে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট থেকেও আর একটা অনুমতি নিতে হোল । জঙ্গল , পাহাড় পেড়িয়ে সিল্ক রুট ধরে পৌঁছে গেলাম ৯৪০০ ফুট উপরে জুলুকে রাত্রিবাসের জন্য । পুরো জুলুক জুড়ে দেখলাম মিলিটারিদের আনাগোনা ।জুলুকের আরেক নাম মেঘালয় দিলেও ভুল হবে না । জুলুকেই দেখলাম ইয়াক ঘুরে বেড়াচ্ছে । পরেরদিন প্রাতঃরাশ সেরে বেড়িয়ে পড়লাম আরও উপরে সিল্ক রুট ধরে ১৩২০০ ফুট উপরে Nathang valley। পথে পড়ল জুলুকের বিখ্যাত Zigzag Way ও ১১২০০ ফুট উপরে Thambi view point যেখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ রূপ দর্শন করা যায় ।এছাড়াও পথের দুপাশে ও Nathang valley জুড়ে ফুটে রয়েছে লাল, গোলাপি ও সাদা রঙের অজস্র Rhododendron । মনে হচ্ছে কেউ Rhododendron এর কার্পেট বিছিয়ে রেখেছে । তারপর পৌঁছে গেলাম কাল পাহাড় পেড়িয়ে ১৩৫০০ ফুট উপরে Old Baba Mandir । পুরোটাই মিলিটারিদের অধীনে । ভালই ঠাণ্ডা ছিল । তাই মন্দিরে পাশে মিলিটারিদের ক্যান্টিনে গরম গরম কফি মনে হচ্ছিল অমৃত পান করছি । Old Baba Mandir ছাড়িয়ে আরও বেশ কিছুটা এগিয়ে যেতেই পৌঁছে গেলাম ১৩০৬৬ ফুট উপরে Elephant lake  বা kupup lake। চারিদিকের পাহাড় লেকটাকে যেন কোলে তুলে রেখেছে । এর আরেকটু উপরেই ভারত – চীন বর্ডার ।আবহাওয়া ভাল থাকাতে কোন কষ্ট তো হয়নি বরং বলা যায় আমাদের অভিযান সার্থক হয়েছে ।পথে অনেক ইয়াক দেখলাম ।

এবার নামার পালা সেই সিল্ক রুট ধরে । Padamchen ছাড়িয়ে আমরা এসে পৌছালাম রাত্রিবাসের জন্য সিকিমের আরেকটি ছোট গ্রাম Lingtam এ । পরেরদিন প্রাতঃরাশ সেরে পৌঁছে গেলাম Lampokhari Lake বা Aritar Lake । ৪৬০০ ফুট উপরে ১১২০ ফুট লম্বা ২৪০ ফুট চওড়া পাইনের জঙ্গলে ঘেরা পরিষ্কার টলটলে জলে ভরা এই লেকের পাশে বসে থাকতেও ভাল লাগছিল । তারপর চললাম Rhenock এর অনেকটা নিচে ঋষি নদীর ধারে Rish ikhola দেখতে । ওখানে অনেকক্ষণ সময়  কাটিয়ে আমরা চললাম Kalimpong পাহাড়ের অনেকটা উপরে পাথরের ছোট রাস্তা দিয়ে আরেকটি ছোট গ্রাম Iccha gaon তে । মনে হচ্ছিল গাড়ি নিয়ে ট্রেক করছি । ওখান থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘা খুব সুন্দর দেখা যায় । ওখানে রাত্রিবাস করে পরেরদিন নেমে আসলাম শিলিগুড়ি । আমাদের সিল্ক রুট অভিযান শেষ হোল ।

শিলিগুড়ি থেকে খরচের হিসাব ঃ-

থাকা ও খাওয়ার জন্য  – Rs. 1000 থেকে Rs 1200 per head

একটা ছোট গাড়ির জন্য _ Rs 3000 থেকে Rs 3500

একটা বড় গাড়ির জন্য – Rs. 3800 থেকে Rs 4200

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s