আমাদের চোখে বকখালি / BAKKHALI THROUGH OUR LENS ON 16.03.2021

আমাদের চোখে বকখালি / BAKKHALI THROUGH OUR LENS ON 16.03.2021

কলকাতা থেকে বকখালি by road  দুরত্ব ১৩৫ কিমি ।গাড়ীতে যেতে চার ঘণ্টা মতো সময় লাগে ।নামখানায় হাতানিয়া – দোয়ানিয়া নদীর উপর নতুন ব্রিজ হওয়ার পর সময় আরও কম লাগার কথা ।  কিন্তু আমাদের লাগলো পাঁচ ঘণ্টার উপর । কারণ এক – প্রতি ঘণ্টায় ৬০ কিমি উপর গাড়ী চালানো যাবে না ।রাস্তায় পুলিশ মেশিন নিয়ে বসে আছে স্পীড check করছে । দুই – কিছু দূর অন্তর পুলিশ গাড়ী check করছে । যাওয়ার সময় ও আসার সময় দুইসময়ই পেয়েছি কিছু দূর অন্তর গাড়ী দাঁড়  করিয়ে পুলিশের checking । এইরকম আগে কোনদিন হয়নি তাই খুব বিরক্ত লাগছিল । আমাদের বিরক্তির প্রকাশে এক পুলিশ অফিসার জানালো যে  উপর থেকে নাকি ওনাদের কাছে আদেশ আছে । যেহেতু নির্বাচন ঘারের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে তাই এই আদেশ । কলকাতা থেকে ডায়ামন্ড হারবর রোড ধরে ডায়ামন্ড পেরিয়ে কাকদ্বীপ , নামখানা হয়ে সোজা রাস্তা চলে গেছে বকখালির সমুদ্র সৈকতে । যারা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে আসবে তাদের নামখানায় নেমে বাস কিংবা অন্য যানে বকখালি যেতে হবে । নামখানা থেকে বকখালির দূরত্ব ২৬ কিমি । রাস্তায় আসতে সূর্যমুখী ফুলের বেশ কটা বাগান দেখলাম । বকখালি ঢোকার কিছুটা আগে বাঁদিকে বেশ কিছুটা যাওয়ার পর পড়বে হেনরি দ্বীপ (Henry Island) –

এখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মৎস্য চাষের নানা প্রকল্প আছে। শীতের সময় এখানে নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখি আসে। দ্বীপটি বকখালির নিকটে বঙ্গপসাগরের উপকূলে ও সুন্দরবন জাতীয় উদ্যানের দক্ষিণে অবস্থিত ।

তারপর বকখালির একটু আগেই পড়বে ফ্রেজারগঞ্জ –

বাংলার লেফটেনেন্ট গভর্নর (১৯০৩-১৯০৮) এন্ড্রু ফ্রেজার সাহেবের নামে এই স্থানের নাম হয়। আগে এই জায়গার নাম ছিল নারায়নতলা। এখানে বেনফিশের হারবার রয়েছে।এখানে একটা বনদেবীর মন্দির দেখলাম ।অনেক Wind mill ও দেখলাম তবে মনে হয় সব কটিই অকেজো হয়ে গেছে ।  

কলকাতা থেকে যারা একদিনের জন্য বকখালি গাড়ীতে আসবেন তাদের এই দুটো জায়গা দেখে বকখালি সমুদ্র সৈকতে যাওয়া ভাল । কলকাতা থেকে বকখালির আসতে খারাপ রাস্তা চোখে পড়েনি । এখানে সুন্দর একটি সরকারী Tourist Bunglow ছাড়াও অনেক সুন্দর সুন্দর বিভিন্ন পছন্দের Hotel আছে । সবসময় সমুদ্রের একটা ঠাণ্ডা হাওয়া গায়ে এসে লাগছিল তাই দুপুর বেলার সূর্যের তাপেও কষ্ট হচ্ছিল না । সমুদ্র এখানে শান্ত তবুও অনেককেই দেখলাম মনের আনন্দে স্নান করতে । একদম সমুদ্রের পাড়ে ছাতার নীচে চেয়ার সাজিয়ে রেখেছে লোকাল লোকজন । পয়সার বিনিময়ে পর্যটকরা সেখানে বসে সময় কাটাচ্ছে । আমরাও ছাতার নীচে চেয়ার নিয়ে বসে গেলাম । সমুদ্রের শীতল পরশ মন প্রান দুইই জুরিয়ে দিচ্ছিল।সামনে দিগন্ত ব্যাপী নীল জলরাশি । ছোট ছোট ঢেউ কিছুটা দূরে এসে আছড়ে পড়ছিল  । আমফান ঝাড়ের কি নিদারুন তাণ্ডব এই অঞ্চলে হয়েছিল তা এখানকার ঝাউবন বা Watch Tower এর দিকে তাকালেই বোঝা যায় । প্রচুর বক দেখলাম সমুদ্রের পাড়ে বসে থাকতে । মাছের আকর্ষণে প্রচুর বক আসে এই জায়গায়। তাই বোধহয় এই জায়গার নাম হয়েছে বকখালি ।

3 thoughts on “আমাদের চোখে বকখালি / BAKKHALI THROUGH OUR LENS ON 16.03.2021

  1. সুন্দর বর্ণনা,মনগ্রাহী! বর্ণনার আকর্ষনে মনে হচ্ছে এখনই বকখালি চলে যাই -এখানেই লেখকের কৃতিত্ব!

    Liked by 1 person

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s