সল্টলেক সিটি , ইউটা, আমেরিকা / SALT LAKE CITY , UTAH , AMERICA

সল্টলেক সিটি , ইউটা, আমেরিকা / SALT LAKE CITY , UTAH , AMERICA

তিনদিক পাহাড়ে ঘেরা খুবই ছিমছাম সুন্দর একটা শহর এই সল্টলেক সিটি ।দূষণ মুক্ত আকাশ । এটি আমেরিকার ইউটা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী । লোকসংখ্যা ১২ লাখের একটু বেশী । উচ্চতা খুব বেশী না , ৪২২৬ ফুট কিন্তু শীতকালে মাঝে মাঝেই বরফ পরে । বিভিন্ন জায়গা থেকে শীতকালে এখানে অনেকে স্কিয়িং করতে আসে । ব্রেকফাস্ট সেরে এই সাড়ে এগারটা নাগাদ প্রথমেই গেলাম সল্ট লেক দেখতে । শহর থেকে ১৬ মাইল দূরে ১৭০০ বর্গ মাইল জুড়ে এক বিশাল লবণের লেক ।লবণের ঘনত্ব যে কোন সমুদ্রের থেকে ১০ গুন বেশী যার ফলে এখানে কেউ জলে ঢুববে না । চারিদিকে পাহাড় সাদা হয়ে আছে বরফে , আর তারই মাঝে এই বিশাল লেক,  সিকিমের ছাঙ্গু লেককে মনে করিয়ে দেয় । তবে ছাঙ্গু  লেক থেকে এই লেক অনেক অনেক বড় । ওখান থেকে গেলাম পৃথিবীর প্রথম KFC দেখতে । ১৯৫২ সালে এই রেস্টুরেন্ট চালু হয় । প্রথমে এর নাম ছিল  Harman’s Cafe , পরে হয়  KFC । এখনও ভাল মতই চলছে । খিদেও পেয়ে গেছিল কিন্তু ওখানে না খেয়ে আমরা প্রথম দিন ভারতীয়  রেস্টুরেন্টে গেলাম । নাম Bawarchi /Indian Cuisine । ভালই লাগলো খাবার । শুনলাম আরও কয়েকটা ভারতীয় রেস্তরা আছে যেখানে অন্য খাবারের সাথে দক্ষিণ ভারতীয় সব খাবারই পাওয়া যায় ।  তারপর চললাম পাহাড়ের ওপর । চারিদিকে বরফ , মধ্যে পরিষ্কার রাস্তা । অনেকটা  উপরে উঠে দেখলাম চারিদিক সাদা হয়ে আছে । আর সেই সাদা পাহাড়ের মাঝে আরেকটা ছোট লেক কিন্তু লবণ হ্রদ নয় । তাপমাত্রা দেখলাম -২ ডিগ্রি । এই সল্টলেক সিটি যেহেতু পাহাড়ে ঘেরা তাই এখানে ঠাণ্ডা হাওয়ার উপদ্রপ নেই । ওখান থেকে Stadium  University   দেখে  ফিরে আসলাম শহরে । সোজা চলে গেলাম Capital House যেটা আমাদের বিধানসভা ভবন । আলো দিয়ে সাজানো খুব সুন্দর এক বিশাল বাড়ি । ভিতরটা ঘুরে ঘুরে সব দেখলাম । কোন জায়গায় কোন নিরাপত্তা রক্ষী নেই । আমাদের দেশে আমরা ভাবতেই পারিনা । কেননা আমাদের দেশের জনপ্রতিনিধিদের জন্য অনেক টাকা ব্যয় করে নিরাপত্তা রক্ষী রাখতে হয় । একটা জিনিষ লক্ষ্য করলাম এখানে কারখানা কম , অফিস বেশী আর চওড়া চওড়া রাস্থা যেখানে অনায়েসে একটা প্লেন নামতে পারবে ।শহরের জনসাধারনের জন্য যানবাহন বলতে বাস , ট্রেন  ও  Uber । ট্রেনগুলো দেখতে আমাদের দেশের ট্রামের মতো তবে কামরা বেশী । এখানে একটা ভারতীয় দোকান আছে যেটার মালিক একজন নেপালি ভদ্রলোক । সরষের তেল থেকে আরম্ভ করে পাঁচফোড়ন অবধি সবই পাওয়া যায় ।  এখন পর্যন্ত যতটা দেখেছি আর মিশেছি এখানকার লোকজন খুবই ভদ্র , আলাপি  ও  হেল্পফুল ।

আমেরিকার সল্ট লেক সিটিতে বছরের শেষ দিনের অভিজ্ঞতা

আমরা কোলকাতা থেকে সাড়ে ১১ ঘণ্টা পিছিয়ে আছি। তাই কাল রাত্রে ছিল আমাদের বছরের শেষ দিন । কাছেই একটা পাহাড় আছে । আমরা সবাই ঠাণ্ডাকে উপেক্ষা করে (বাইরে তখন -৩ ) , অজানাকে জানবার জন্য , গাড়ি নিয়ে চলে গেছিলাম পাহাড়ে – সমগ্র সল্ট লেক সিটিটাকে রাত ১২ টায় উপর থেকে দেখব বলে । একটা ভাল জায়গা দেখে আমরা গাড়ীর থেকে নামলাম যেখান থেকে সমগ্র সল্ট লেক সিটি আমাদের সামনে হাট করে খোলা । পুরো শহর আলোয় ঝলমল করছে ।প্রতিটা বাড়ি সেজে উঠেছে আলোকসজ্জায় ।চারিদিক নিশ্তব্দ । ঠিক ১২ টার সময় চার্চের ঘড়িতে বেজে উঠলো ঘণ্টা আর তার  সাথে সাথেই চারিদিক থেকে ফাটতে লাগলো নানারকমের শব্দ বাজি । যেন সমস্ত সল্ট লেক সিটি আমাদের সাথে চীৎকার করে বলছে HAPPY NEW YEAR . আগামী বছর খুব ভাল থেকো তোমরা ।Best wishes for a new year filled with health & happiness.

সল্টলেক সিটি থেকে এন্তিলোপ দ্বীপ ( Antelope island ) 

প্রায় দু ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে পাহাড় ডিঙ্গিয়ে পৌঁছে গেলাম Antelope island । সারা পাহাড় সাদা হয়ে আছে । তাপমাত্রা ছিল -৩ । যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েই আমরা বেড়িয়েছিলাম । আমার ছেলেদের আর বৌমার এই রকম ঠাণ্ডার অভ্যাস আছে , শুধু আমাদের একটু বেশী প্রস্তুতি নিতে হয়েছে । কয়েকটা লেয়ার বাড়িয়েছি । খুব মোটা লাগছে আমাদের দুজনকেই । সল্টলেক ঘিরে রেখছে এই দ্বীপকে । কিন্তু মনে হয় সমুদ্র ঘিরে রেখেছে । অনেক জায়গায় জলের রঙ সাদা হয়ে আছে । বোঝাই যাচ্ছে না ওটা লবণ না বরফ ।অপূর্ব প্রাকৃতিক শোভা ।বেশ লম্বা বীচ ।  ফেরার পথে সারং বা এন্তিলোপের দেখা মিলল । হরিণের মতো , শিংটা বাঁকা ।একদল বাইসন দেখলাম ঘুরে বেড়াচ্ছে । হঠাৎ মাথায় একটু দুষ্টু বুদ্ধি চাপলো । একটু এগিয়ে আমরা দাঁড়িয়ে পড়লাম । গাড়ি থেকে নেমে সবাই বাঁদিকে দূরে দেখতে লাগলাম । আমাদের দেখাদেখি আরও অনেক গাড়ি আমাদের পিছনে দাঁড়িয়ে গেল । সবাই নেমে আমরা যেদিকে দেখছি সেদিকেই তাকাতে লাগলো । কিছুই দেখতে পারছে না অথচ কেউ জিজ্ঞেসও করবে না । মজাই লাগছিল । ভাবছিলাম পৃথিবীর সব মানুষের নেচার এক । তবে পার্থক্য একটাই আমাদের দেশে লোকে জানতে চাইত কি দেখছি । আমরাও আর দেরী না করে রওনা দিলাম ।   

সল্টলেক সিটি থেকে আরচিস ন্যাশনাল পার্ক (Arches National Park)

প্রায় ৪ ঘণ্টার পথ গাড়িতে । অনেকটা এরিয়া নিয়ে পাহাড়ের উপর গোলাপি পাথরের প্রাকৃতিক নানা রকম মূর্তি ।অবাক লাগে যখন দেখি বিরাট একটা গোলাপি পাথর আরেকটা পাথরের উপর ভর দিয়ে শূন্যে দাঁড়িয়ে আছে । আবার কোথাও মনে হচ্ছে  একটা হাতি বসে আছে । নানা রকমের আকৃতি  হয়ে অনন্তকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছে । আর এই সব অপূর্ব শোভা দেখতে সারা পৃথিবী থেকে পর্যটক ছুটে আসছে । আর বাকী অঞ্চল বরফে সাদা হয়ে আছে । ওখান থেকে বেশ কটা বরফের চুড়াও দেখা যাচ্ছিল । এই সব দেখতে দেখতে কখন যে সময় চলে যায় বোঝাই যায় না । ভালই কাটল সারাদিন ।

   

সল্টলেক  সিটি থেকে পার্ক সিটি (Park City)

এক ঘণ্টার পথ গাড়িতে । চারিদিকে শুধু বরফ থিক থিক করছে । আর সবাই মেতে উঠেছে বরফের খেলায় । বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ মেতে উঠছে স্কিয়িং করতে । বাচ্চারা স্কিয়িং ও করছে আবার বরফের ওপর স্কেটিং ও করছে । রোপ ওয়েতে করে উপরে উঁচু পাহাড়ে নিয়ে যাচ্ছে তারপর ওখান থেকে স্কিয়িং করে সব নামছে । পার্ক সিটির সমস্ত বাড়ি ঢেকে গেছে বরফে । যাতায়াতের রাস্তা পরিষ্কার করে রাখছে সবসময় যাতে বাইরে থেকে মানুষদের আসতে কোন অসুবিধা না হয় । পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উৎসাহী মানুষজন এখানে আসে স্কিয়িং এর জন্য । অনেকে হোটেল ভাড়া করে থাকে কদিন ধরে আনন্দ করার জন্য । প্রচুর থাকার ও খাবার রেস্তোরাও আছে । দারুণ এক অভিজ্ঞতা হল । ওখান থেকে আসলাম factory outlet যেখানে বিভিন্ন factoryএর show room আছে । ওদের জিনিসের উপর ভাল discount দিচ্ছে । কিছু কেনাকাঁটা করা হল ।   

  Please visit my You tube channel : https://www.youtube.com/cha…/UCwI8JNW7FmslSEXnG6_GAgw/videos

2 thoughts on “সল্টলেক সিটি , ইউটা, আমেরিকা / SALT LAKE CITY , UTAH , AMERICA

  1. Chanchal Bhattacharya
    সাবলীল লেখা।
    ছবির জন্য অন‍্য মাত্রা পেয়েছে।
    খুব ভালো লাগলো।।
    Tapasi Banerjee
    Very nice
    Soma Dasgupta
    লেখা ও ছবি দুটোই অপূর্ব ।
    Ashis Dutta
    Excellent place. Hope enjoying entire beauty whole heartedly.
    Tanima Goswami
    Apurbo. Darun likhecho. Khub valo laglo.
    Kanti S
    Ato sundar place samner theke dakhar anondi alada khub bhalo laglo
    Maguni Charan Mahanta
    Perhaps your son is editing the video presentation. Good place to cheris. Enjoy with family 😀👍
    Apurba Neogi
    Superb video. I liked it very much and your description is very nice. My best wishes to you all and enjoy to your hearts content.
    Reena Dasgupta
    Apurbo

    Liked by 1 person

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s