ঘাটশিলা , ঝাড়খণ্ড

ঘাটশিলা , ঝাড়খণ্ড

ষষ্টি পূজার দিন কোলকাতা ছাড়ার আগে অন্ধকার থাকতেই বেড়িয়ে পড়লাম । যদি কিছু প্রতিমা দর্শন হয় নিদেন পক্ষে আলোকসজ্জা । এদিক ওদিক বেশ কিছু আলোকসজ্জা দেখে সোজা চলে গেলাম হাওড়া স্টেশনে । জনশতাব্দি ধরে সোজা ঘাটশিলা। এবার দুর্গাপূজায় আমাদের ভ্রমণ কলিকাতা – ঘাটশিলা – দলমা – পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় , – মুকুটমনিপুর – জামশেদপুর – কলিকাতা ।

সকাল ৬ বেজে ২০ মিনিটে রওনা হয়ে ঘাটশিলা পৌছালাম ৯ বেজে ১৫ মিনিটে । ট্রেনেই বাটার টোস্ট , অমলেট আর চা খেয়ে প্রাতরাশ সাড়লাম । অতীতে ধলভূম রাজ্যের সদরদপ্তর ছিলো এই ঘাটশিলা।পশ্চিমবঙ্গের ঠিক পাশেই ঝাড়খণ্ডে সুবর্ণরেখা নদীর ধারে ছোট ছোট পাহাড় ও জঙ্গল ঘেরা শহর এই ঘাটশিলা । সেই সুবর্ণরেখার ঘাটে শিলা তাই ঘাটশিলা। কোলকাতা থেকে ঘাটশিলা ২৪৩ কিলোমিটার by road এবং ২১৪ কিলোমিটার by train। জামশেদপুর থেকে ঘাটশিলা ৪৬ কিলোমিটার by road এবং ৩৬ কিলোমিটারby train । ঘাটশিলা পৌঁছানোর একটু পরেই রিঙ্কি , পিনটু আর পিপি জামশেদপুর থেকে ওদের গাড়ি নিয়ে এসে পৌছাল । সবাই মিলে একসাথে প্রথমে চললাম আমাদের জন্য ঠিক করা হোটেলে । বিভুতি ভূষণের নামে JTDC বিভুতি বিহার । দোতালায় আমাদের থাকার ব্যবস্থা হল । ঘরের দুদিক থেকেই পাহাড় দেখা যাচ্ছে । হোটেলের ফর্মালিটি সেরে জিনিসপত্র রেখে বেড়িয়ে পড়লাম ঘাটশিলা শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরে বুরুডি লেক দেখতে । জঙ্গলের মধ্য দিয়ে আঁকা বাঁকা রাস্তা ধরে এগিয়ে চললাম । নির্জন রাস্তা । পৌঁছে দেখি বিরাট এক জলরাশি পাহাড়ের কোলে শুয়ে আছে । অপূর্ব শান্ত পরিবেশ । ওখানে পুরো একটা দিন কাটাতে পারলে খুব ভাল লাগত । এরপর আমারা চললাম ধারাগিরি ফলস দেখতে । রাস্তা হারিয়ে আমরা পাহাড়ের অনেকটা উপরের একটা গ্রামে পৌঁছে গেছিলাম । খুবই গরীব গ্রামের লোকজন । কিছুই নেই সামান্য চাষবাস , পশুপালন আর জঙ্গলের কাট কেটে সংসার চালায় । ঝাড়খণ্ডের গ্রাম কিন্তু গ্রামের সবাই বাংলায় কথা বলছে । দুর্গাপূজার আনন্দ ওরা করতেই পারেনা । কারণ দুর্গাপূজা দেখতে হলে ওদের যেতে হবে অনেকটা দূরে ঘাটশিলা শহরে । ওদের থেকে সব ঠিকঠাক জেনে আমরা আবার ঠিক রাস্তায় চললাম । যতদূর অবধি গাড়ি যায় আমরা গেলাম । তারপর গ্রামের এক গৃহবঁধু ছোট বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল । মনে হচ্ছিল পাহাড়ে ট্রেক করছি । খুব সাবধানে ধীরে ধীরে চলতে হচ্ছিল । কারণ বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়ান পাথরের উপর দিয়ে আমাদের হাঁটতে হচ্ছিল । আমরা যারা পর্যটক সবার পায়ে ছিল জুতো কিন্তু আমাদের গাইড সেই গৃহবঁধু তার ছিল খালি পা । যতজন গ্রামের বাচ্চারা ওখানে ঘুরে বেড়াচ্ছিল সবারই ছিল খালি পা ।গ্রামের লোকজন আমাদের কাছে পুরানো জামাকাপড় চাইছিল । আমরা কিছুই সাথে নিয়ে যাইনি তাই জামাকাপড় দিতে পারলাম না । জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যখন যাচ্ছিলাম তখন অনেকগুলো বিভিন্ন জায়গায় মাটির ঢিবি দেখলাম ।

ঐ ঢিবিগুলোর মধ্যে কয়েকটা করে গর্ত দেখলাম । গ্রামের ঐ গৃহবঁধু আমাদের বলল যে ওগুলো সাপের বাড়ি । কিন্তু কোনরকম ভয়ের লেশ মাত্র ছিল না ওনার মুখের মধ্যে । যেন মনে হচ্ছিল জঙ্গলের জীবজন্তুর সাথে জঙ্গলবাসী মানুষের মধ্যে রয়েছে শান্তিপূর্ণ সহবস্থান । কিছুদুর যাওয়ার পর পেলাম সেই ধারাগিরি ফলস । পাহাড়ের উপর থেকে অনর্গল জলের ধারা পড়ে চলেছে ।

ধারাগিরি ফলস

এই দুটো টুরিস্ট স্পট শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরে আর বাকী সব শহরের মধ্যে । ওখান থেকে ফিরে আসলাম ঘাটশিলা শহরে দুপুরের আহার সারার জন্য । তারপর গেলাম কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ‘গৌরীকুঞ্জ’,দেখতে । ছোট সাধারণ একটা বাড়ি । গেট দিয়ে ঢুকতেই রয়েছে বিভুতি ভূষণের মূর্তি । বিভুতিবাবুর বাড়ি দেখে চললাম সুবর্ণরেখা নদী দেখতে ।

সুবর্ণরেখা

একসময় এই নদীর বালুতটে নাকি পাওয়া যেত সোনা । তাই এই নদীর নাম সুবর্ণরেখা । এই নদীর পারে দেখলাম বিশাল এক কারখানা । নাম দেখলাম হিন্দুস্থান কপার । নদীর ব্রিজ পেরিয়ে ডান দিকে কিছুটা যেতেই পেলাম একটা খুব সুন্দর জায়গা । নাম বলল রাত মোহনা । ওখান থেকে সূর্যাস্ত খুব ভাল দেখা যায় । মেঘ থাকাতে সূর্যাস্ত ভাল দেখা গেলনা । ওখান থেকে আসলাম রামকৃষ্ণ আশ্রম । দুর্গা পূজার মণ্ডবে সন্ধ্যা আরতি দেখলাম । কাছাকাছি বেশ কটা দুর্গাপূজার প্যান্ডেল দেখলাম । হাতে সময় ছিল তাই ঘাটশিলার দুর্গাপূজার প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ালাম । বাইরে রাতের আহার সেরে ফিরে আসলাম হোটেলে । যদিও হোটেলে খাওয়ার সুবন্দোবস্ত ছিল । কাল যাব দলমা ।

Please visit my You tube channel : https://www.youtube.com/cha…/UCwI8JNW7FmslSEXnG6_GAgw/videos

2 thoughts on “ঘাটশিলা , ঝাড়খণ্ড

  1. Papia Kargupta
    Khub 2 sundor jayga & tora 2 jon
    Naru Mahato
    লেখা টি পড়ে খুব ভালো লাগলো ।ছবি গুলি খুব সুন্দর, জীবন্ত ।
    Prasanta Chaki
    অসাধারন লেখা মন ভরে গেল। ছবিগুলো ভালো তুলেছেন।
    Haimanti Sen
    Ki sundor lekha…. !
    Apurba Neogi
    Very nicely described traveling experience enjoyed by you. The photographs are also superb Enjoy the rest of the tour also. Wish you all the best and happy journey.
    Chanchal Bhattacharya
    সুন্দর বিবরণ।
    Shampa Mukherjee
    Darun jayga Ami gachi. Tobe gayer bodhu guide Pawa Tomar extra gain.
    Kanti S
    Khub bhalo lagche
    Sampa Gupta
    Khub sundar aamra last year gechilam
    Leena Hazra
    Apner Sathe amrao ghure Elam…Bhalo laglo lekha o pics..amra tinjone Kerala tour kore firchhi..darun katlo dingulo..
    Krishna Chaudhuri
    লেখা ওছবি সব কিছু সুন্দরও ভালো।
    Mita Sengupta
    Khub sundor lekha.mone holo amio ghatshila ghure aslam
    Amitava Biswas
    ঘাটশিলা, ফুলডুুংরি হয়ে বহরাগোড়া আমার শৈশব কালের জায়গা। বড় ই শান্ত পরিবেশ।
    Souvik Dasgupta
    প্রথমেই শুভ বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানালাম। ঘাটশিলা ভ্রমণের অপূর্ব বর্ননা সত্যিই মুগ্ধ করলো। ছবি গুলো দেখে বুঝতে পারছি যে কি সুন্দর জায়গা। দুজনে সুস্থ থাকুন , ভালো থাকুন। এই ভাবে অনেক নতুন নতুন জায়গায় বেড়াতে যান আর আমাদের কিছুটা সমৃদ্ধ করুন এই আশা রাখছি।
    Swapan Dattaray
    Shuvo bijoya . Nice description & photography ( but without caption ) . Your writing has increased our expectation .thanks a lot .
    Samarendra Nath Sarkar
    Nice share.. sundor trip..
    Aindrila Roy
    So well depicted jethu 🙂
    Sampa Gupta
    Shubho bijoya pronam janai
    Kalpana Mukherjee
    Satti darun jayga chotobelata mone pore gachhe enjoy
    Suvendu Basu
    Khub sundor Supriyoda
    Subrata Ghosh
    Bhalo theko
    Bijoli Chowdhury
    Lekhata r. Chabigulo. Darun. Sundar
    Biplab Bhuiya
    সুপ্রিয়দা
    তোমার লেখার বাধন ছবির মতোই সুন্দর।
    মনে হচ্ছে, তোমাদের সাথে
    আমিও ঘাটশিলা ঘুরে বেড়াচ্ছি।
    Jaba Sengupta Roy
    Amader o berano hoye gelo. Khub bhalo
    Swapna Sen Gupta
    তোমার লেখা পড়ে ঘটসিলা দেখা হয়ে গেলো।দারুন ছবিই গুলো।
    Sandip Ghosh
    খুব ভালো লাগলো দাদা, এরপরে আপনিই তো আমাদের গাইড হবেন দাদা, ভীষণ ভালো লাগলো।
    Ashim Bhattacaharjee
    Avutopurob abong prostutitao sundor pore bhalo laglo jabar nesa chepe galo
    Bijaya Chatterjee
    Darun lagche
    Dilip Saha
    Excellent description.
    Ranjit Sen
    khub bhalo lagche for detailing….jadio aai jaigate ami number of times giyechi. ok, I will follow you also tomorrow details…
    Suparna Chowdhury
    খুব সুন্দর লাগছে তোমাদের
    Goutam Choudhury
    parer bar Jamshedpur gele GOL PAHARI te jabe. Paharer upor mandir.Okhan theke TAtanagar sahar ta dekhte khub sundar lage. Jamshedpur amar Janmasthan/
    Juthika Sinha
    Looking Very Nice Both of you . God bless you
    Nikhil Laha
    Asadharan barnana
    Reena Dasgupta
    Tomar chokh diy sob dekhlam bhalo laglo
    Soma Mustafi
    Khub sundor
    Tapasi Sarkar
    Amader o ghora hoye jachche.
    Basudeb Mitra
    Kothye gechis?Darun lagche.
    Min Liwang Subba
    Khub bhalo…lucid for me too, after reading it I felt that if I had gone to Ayodhya pahad when I had reached upto panchet dam n joychandi pahad.
    Ashish Majumdar
    Onekdin por apnake dekhe khub bhalo laglo.boudi ke samay dichhen dekhe ro bhali laglo..retirement er por..bhalo thakun sustho thakun..
    Juthika Sinha
    Very good enjoy your life

    Liked by 1 person

Leave a Reply to supriyoroy Cancel reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s